প্রকাশ: রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৯ এএম
ছবি : সংগৃহীত জান্নাত লাভ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি প্রত্যেক মুমিনের একান্ত কামনা। এ জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সৎকাজ করা এবং পাপ থেকে বিরত থাকা জরুরি। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, মানুষের ছোট একটি ভালো কাজও তাকে জান্নাতের পথে এগিয়ে নিতে পারে। আবার এমন কোনো পাপ, যাকে সে তুচ্ছ মনে করছে, তা-ও আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হতে পারে। তাই প্রতিটি কাজের আগে একজন মুমিনের ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাত তোমাদের কারও জুতার ফিতার চেয়েও বেশি কাছে এবং জাহান্নামও এমনই।’ (সহিহ বুখারি)
এই হাদিসের মাধ্যমে বোঝা যায়, জান্নাত ও জাহান্নাম মানুষের খুব কাছেই। কখনো কোনো ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এমন একটি ভালো কাজ করেন, যার গুরুত্ব হয়তো তিনি নিজেও উপলব্ধি করতে পারেন না। অথচ সেই আমলই তার জান্নাত লাভের কারণ হতে পারে। একইভাবে, কোনো পাপকে তুচ্ছ মনে করে অবহেলা করলেও তা আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হতে পারে এবং মানুষকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
কোন শ্রেণির মানুষ সবার আগে জান্নাতে প্রবেশ করবেন, সে বিষয়ে হাদিসে বিশেষ বর্ণনা রয়েছে। এক হাদিসে তিন শ্রেণির মানুষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—আল্লাহর পথে শহিদ ব্যক্তি, হারাম থেকে বিরত থাকা ব্যক্তি এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত যথাযথভাবে করেন ও নিজের দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করেন।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার সামনে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারী এমন তিন শ্রেণির লোককে উপস্থিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একদল হলো শহীদ; দ্বিতীয় দল হলো, যারা সব সময় হারাম পরিহার করে চলে এবং কোনো অবস্থায় কারও কাছে সহযোগিতার হাত বাড়ায় না; তৃতীয় দল হলো সেই চাকর, যে উত্তমরূপে আল্লাহর ইবাদত করে এবং মালিকের কল্যাণ সাধনে নিয়োজিত থাকে।’ (তিরমিজি)
হাদিসের এই বর্ণনায় আল্লাহর পথে আত্মত্যাগ, হারাম থেকে বেঁচে থাকা এবং দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আল্লাহর ইবাদতে নিষ্ঠাবান থাকার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। তাই একজন মুমিনের উচিত প্রতিদিনের জীবনে সৎকাজের প্রতি যত্নবান হওয়া, হারাম থেকে দূরে থাকা এবং নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা।
সময়ের আলো/এসএকে