বাড়ি বন্ধক রেখে প্রিন্সেস ডায়ানার ৮০০ স্মৃতিচিহ্ন সংগ্রহ করেছেন রেনি প্ল্যান্ট

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

প্রিন্সেস ডায়ানার প্রতি ভালোবাসা থেকেই শুরু, এরপর তা পরিণত হয়েছে জীবনের সবচেয়ে বড় সংগ্রহের নেশায়। তার পোশাক ও ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্ন

2026-11-08T18:18:41+00:00
2026-11-08T18:26:49+00:00
 
  রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬,
২৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
ফিচার
বাড়ি বন্ধক রেখে প্রিন্সেস ডায়ানার ৮০০ স্মৃতিচিহ্ন সংগ্রহ করেছেন রেনি প্ল্যান্ট
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৮ পিএম  আপডেট: ০৮.১১.২০২৬ ৬:২৬ পিএম
প্রিন্সেস ডায়ানা ও রেনি প্ল্যান্ট। ছবি : সময়ের আলো কোলাজ
প্রিন্সেস ডায়ানার প্রতি ভালোবাসা থেকেই শুরু, এরপর তা পরিণত হয়েছে জীবনের সবচেয়ে বড় সংগ্রহের নেশায়। তার পোশাক ও ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্ন কিনতে নিজের বাড়িও একাধিকবার বন্ধক রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রেনি প্ল্যান্ট। স্বামীকে নিয়ে ১২ বছরে সংগ্রহ করেছেন ৮০০টির বেশি পোশাক, অলংকার ও ব্যক্তিগত সামগ্রী। প্রয়াত প্রিন্সেস অব ওয়েলসের জীবন ও উত্তরাধিকার সংরক্ষণকে নিজের দায়িত্ব মনে করেন তিনি। এই সংগ্রহ গড়ে তুলতে তাকে ব্যয় করতে হয়েছে বিপুল অর্থ, করতে হয়েছে ব্যক্তিগত ত্যাগও।


যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ক্যামেলট কিডস প্রিস্কুলের মালিক ও পরিচালক রেনি প্ল্যান্টের সংগ্রাহক হয়ে ওঠার গল্পের শুরু ২০১৩ সালে। সে সময় স্বামীকে নিয়ে স্থানীয় একটি পিৎজা রেস্তোরাঁয় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। এমন সময় বন্ধু কেভিনের কাছ থেকে জানতে পারেন, নিলাম প্রতিষ্ঠান জুলিয়েনস প্রিন্সেস ডায়ানার ৬টি পোশাক নিলামে তুলছে। বন্ধুর আমন্ত্রণে পোশাকগুলো দেখতে গিয়ে সেদিনই ডায়ানার স্মৃতিচিহ্ন সংগ্রহের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন রেনি।


ডায়ানার সঙ্গে তার প্রথম দেখা হয়েছিল ১৯৮৩ সালে, অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে স্কুলের শিক্ষা সফরে। তখন রেনির বয়স মাত্র ১২ বছর। ডায়ানার বিয়ের রূপকথায় মুগ্ধ হয়ে ভিড়ের মধ্যে তার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। একপর্যায়ে সহপাঠীদের আড়াল করে ব্যারিকেড পেরিয়ে ডায়ানার কাছে যাওয়ার সময় দেখতে পান, রাজকুমারী একটি ছোট মাটির তৈরি প্লাটিপাস ফেলে গেছেন। এক পুলিশ সদস্য তখন বলেছিলেন, এটি হয়ত নিয়তির ইঙ্গিত। সেই স্মৃতি আজও রেনির সংগ্রহের গল্পে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে।


ডায়ানার মানবিক কাজের আদর্শ ধরে রাখতে ২০১৮ সালে দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘দ্য প্রিন্সেস অ্যান্ড দ্য প্লাটিপাস ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন রেনি। ডায়ানার জীবন ও উত্তরাধিকার সংরক্ষণ এবং তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। রেনির ভাষায়, ‘ডায়ানার জীবন ও উত্তরাধিকার রক্ষা করা এবং তা বিশ্বের কাছে তুলে ধরাই আমার কাজ।’

সংগ্রহের পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতেও পিছপা হননি এই দম্পতি। গত বছর ডায়ানার বিখ্যাত ‘কেয়ারিং ড্রেস’ কিনতে ৫ লাখ ২০ হাজার ডলার ব্যয় করেন রেনি। বেলভিল স্যাসুনের তৈরি উজ্জ্বল ফুলেল নকশার পোশাকটি শিশুদের হাসপাতালে যাওয়ার সময় প্রায়ই পরতেন ডায়ানা। ১৯৮৮ সালে নিজের চোখেই ডায়ানাকে পোশাকটি পরতে দেখেছিলেন রেনি। নিলামে তার বিডার নম্বর ছিল ৩৩৩, যেটিকে তিনি ‘অ্যাঞ্জেল নম্বর’ মনে করেন। প্রতিদ্বন্দ্বী এক দরদাতার ইন্টারনেট সংযোগে সমস্যা হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পোশাকটি কিনতে সক্ষম হন তিনি।


এর আগে, ২০১৫ সালে ডায়ানার অ্যাটেলিয়ের ভারসেসের পাথরখচিত একটি গাউন কিনতে বাড়ি বন্ধক রেখে ২ লাখ ডলার খরচ করেন রেনি। ২০২৫ সালেও একই পথে হাঁটেন তিনি। ওই বছর এক দিনেই ডায়ানার ৩৫টি পোশাক ও সামগ্রী কিনতে প্রায় ১৯ লাখ ডলার ব্যয় করেন এই দম্পতি। এসব সামগ্রীর মধ্যে ছিল ডায়ানার মধুচন্দ্রিমায় পরা পিচ রঙের উটপাখির পালকের টুপি, যার দাম পড়ে ২৬ হাজার ডলার।


এবার নিজের সংগ্রহ নিয়ে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে প্রদর্শনীর আয়োজন করছেন রেনি। যুক্তরাষ্ট্রের রোনাল্ড রিগ্যান প্রেসিডেনশিয়াল লাইব্রেরি অ্যান্ড মিউজিয়ামে শুরু হয়েছে ‘দ্য প্রিন্সেস ডায়ানা : লাভ, লাইফ অ্যান্ড লিগ্যাসি- আ লাইফ অব গিভিং’ শীর্ষক প্রদর্শনী। এতে শৈশব থেকে ১৯৯৭ সালে অকালমৃত্যু পর্যন্ত ডায়ানার জীবনের নানা অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে। প্রদর্শনীতে রয়েছে ব্যক্তিগত চিঠি, শৈশবের পোশাক, ভয়েস মেমো রেকর্ডার, প্রিয় সংগীতশিল্পীদের রেকর্ডসহ অনেকগুলো গাউন।


প্রদর্শনীর অধিকাংশ সামগ্রীই রেনির নিজস্ব সংগ্রহ থেকে নেওয়া হয়েছে। তবে, ১৯৮৫ সালে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের দেওয়া নৈশভোজে অভিনেতা জন ট্রাভোল্টার সঙ্গে নাচের সময় ডায়ানার পরা কালো ভেলভেটের গাউনটি তাকে ধার করতে হয়েছে।

প্রদর্শনীতে দেখা যাবে ডায়ানার জীবনের শেষ দিকে তৈরি করা আরেকটি কালো গাউন। ডিজাইনার জ্যাক আজাগুরির তৈরি পোশাকটি মৃত্যুর কয়েক দিন আগেও মাপ দিয়েছিলেন ডায়ানা। গাউনটি ৬ বার ফিটিং করা হলেও শেষ পর্যন্ত আর পরা হয়নি তার। পোশাকটির পেছনে এখনো দর্জির লাগানো পিন রয়ে গেছে।

এদিকে, আগামী ৫ ডিসেম্বর নিলামে উঠছে ডায়ানার বহুল আলোচিত ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’। পোশাকটির সম্ভাব্য দাম ধরা হয়েছে ৩ লাখ ডলার। তবে, আপাতত বাড়ি বন্ধক রাখার সুযোগ না থাকায় এটি কেনার পরিকল্পনা করতে পারছেন না রেনি। তার আক্ষেপ, ‘সব পোশাক আবার এক জায়গায় ফিরিয়ে আনাই আমার লক্ষ্য। কিনতে না পারলে সত্যিই মন ভেঙে যায়।’

নিজের এই উদ্যোগের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে রেনি প্ল্যান্ট বলেন, ‘আমি যা করছি, তা আমার নিজের চেয়েও বড় কিছু। আমি যেন কেবল একটি মাধ্যম।’

সময়ের আলো/মহু

  বিষয়:   প্রিন্সেস ডায়ানা  স্মৃতিচিহ্ন  রেনি প্ল্যান্ট  সংগ্রহশালা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: