সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার এই অবরোধে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ছবি : সময়ের আলোব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদর উপজেলাকে বিভক্ত করার প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার এই অবরোধে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি আখাউড়া-আগরতলা সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
রোববার সকালে সদর উপজেলার কোড্ডা কেবিন এলাকায় রেলপথে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন বাসুদেব ইউনিয়নের বাসিন্দারা। এ সময় রেললাইনে অব্যবহৃত স্লিপার ফেলে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। পাশাপাশি আখাউড়া-আগরতলা সড়কেও অবরোধ করেন তারা। এতে বিভিন্ন স্টেশনে পারাবত, পর্যটক এক্সপ্রেস, মহানগর, সুবর্ণ এক্সপ্রেস, সোনার বাংলা ও উপকূল এক্সপ্রেসসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন আটকা পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চলতি বছরের মে মাসে বাসুদেব ইউনিয়নের কোড্ডা, বৈষ্ণবপুর, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, চান্দি ও বরিশল—এই ছয়টি গ্রাম নিয়ে নতুন বরিশল ইউনিয়ন গঠন করে তা আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এ বিষয়ে ৪ জুন গেজেট প্রকাশিত হয়। শুরু থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।
সম্প্রতি বাসুদেব, সুলতানপুর ও রামরাইল ইউনিয়ন নিয়ে নতুন বরিশল উপজেলা গঠনের একটি প্রস্তাব সামনে আসায় ক্ষোভ আরও বাড়ে। স্থানীয়দের দাবি, জেলা বিএনপির নেতা কবির আহমেদ ভূঁইয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য দাফতরিক চিঠি পাঠিয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্দোলনে নামেন বাসিন্দারা।
অবরোধের খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের প্রতিনিধি হিসেবে ঘটনাস্থলে যান জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারেকুল ইসলাম খান রুমা এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন।
তারা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে অবরোধ স্থগিত করেন। পরে রেল ও সড়কপথে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কোড্ডা গ্রামের বাসিন্দা হান্নান খলিফা বলেন, তারা সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের বাসিন্দা হিসেবেই থাকতে চান। ছয়টি গ্রাম আলাদা করে বরিশল ইউনিয়ন গঠনের সিদ্ধান্ত তারা মানেন না। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতেই তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
বাসুদেব ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নেছার উদ্দিন বলেন, অখণ্ড বাসুদেব ইউনিয়ন পুনর্বহাল এবং সদর উপজেলা বিভক্তির উদ্যোগের প্রতিবাদে তারা অবরোধ করেছিলেন। বিএনপি নেতাদের আশ্বাসে আগামী তিন দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাসুদেব ইউনিয়নবাসীর আবেগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের নির্দেশে তারা ঘটনাস্থলে গেছেন। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের কর্তব্যরত মাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, অবরোধ তুলে নেওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিভিন্ন স্টেশনে আটকে থাকা ট্রেনগুলো গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, জানমালের নিরাপত্তায় সকাল থেকেই পুলিশ ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করেছে। অবরোধ স্থগিত হওয়ায় বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সময়ের আলো/এনএন