ছবি : সংগৃহীত রাজধানীতে সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে ঢাকা মহানগরের কমিটিগুলোকে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। এরই মধ্যে দুই মহানগর ও উত্তর যুবদলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে। মহানগর বিএনপির উত্তরে নতুন আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব নিয়োগের পর দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটি এবং উত্তর যুবদলের কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়েছে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট পর্যায়ের সংগঠনকে সক্রিয় করার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছেন দলের শীর্ষ নেতারা।
দলীয় সূত্র বলছে, রাজধানীর রাজনীতি গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে রাজপথের কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা— সব ক্ষেত্রেই মহানগর কমিটির অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পাশাপাশি তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনাও রয়েছে দলের।
সবশেষ রোববার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। নতুন কমিটিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালামকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল। যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে আ ন ম সাইফুল ইসলামকে। সদস্য সচিবের দায়িত্বে বহাল রয়েছেন তানভীর আহমেদ রবিন।
এ ছাড়া মহানগর উত্তর যুবদলের দুই সদস্যবিশিষ্ট আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে মিজানুর রহমান রাজকে আহ্বায়ক এবং শরিফুল ইসলাম মিলনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
এর আগে গত ১ নভেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির দুই সদস্যের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করে দলটি। এতে আহ্বায়ক করা হয় শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনকে এবং সদস্য সচিব করা হয় এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে। নতুন নেতৃত্বকে দুই সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আবারও নেতৃত্বে আবদুস সালাম ও রবিন : দক্ষিণের কমিটিতে আগের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মজনুকে বাদ দিয়ে আবদুস সালামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ৮ নভেম্বর কমিটি পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে আবারও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্বে ফিরেছেন আবদুস সালাম। এর আগে ২০২১ সালের আগস্টে তার নেতৃত্বে ৪৯ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন রফিকুল আলম মজনু।
পরে ২০২৪ সালের জুনে সেই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। আবদুস সালাম এখন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন তিনি ঢাকা মহানগরের নেতৃত্বে ছিলেন। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সদস্য সচিব পদে তানভীর আহমেদ রবিন বহাল রয়েছেন। অন্যদিকে উত্তরের কমিটিতে নতুন নেতৃত্বের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দুই মহানগর ও উত্তর যুবদলের নেতৃত্বে এই পরিবর্তনকে রাজধানীর সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মহানগরের একাধিক নেতা সময়ের আলোকে জানান, দেশের রাজনীতিতে রাজধানী ঢাকা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রাজধানীতে সংগঠন শক্তিশালী না হলে বিরোধী দলগুলোকে মোকাবিলা করা কঠিন। এসব বিবেচনায় নিয়েই নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে দলের ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের স্থান দেওয়া হবে।
তৃণমূলে নজর : মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ থানা ও ওয়ার্ড কমিটি। এসব ইউনিটের কার্যক্রম কতটা সক্রিয়, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় কতটা রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তার ওপর মহানগর সংগঠনের কার্যকারিতা নির্ভর করে। নতুন নেতৃত্বের সামনে তাই এসব ইউনিটকে ঢেলে সাজানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দলটির নেতাকর্মীদের মতে, রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা, নেতৃত্বের বিরোধ এবং অভ্যন্তরীণ দূরত্বের মতো সমস্যা রয়েছে। কোথাও কমিটি থাকলেও নিয়মিত কার্যক্রম নেই, আবার কোথাও নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন, তরুণদের নেতৃত্বে সুযোগ দেওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করার দাবি রয়েছে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে।
দলীয় সূত্রের মতে, ঢাকা মহানগর কমিটিগুলো দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিট। জাতীয় রাজনীতির কর্মসূচি বাস্তবায়ন, আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা রয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন সময়ের আলোকে বলেন, দায়িত্ব দেওয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং সিনিয়র নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। দ্রুততম সময় থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে সংগঠনকে শক্তিশালী ও গতিশীল করাই হবে আমাদের প্রধান কাজ।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে