প্রবেশ নিষেধ!

বিচিত্রিতা

এই পৃথিবীর পুরোটাই কি আমরা জানি? কম্পিউটার যুগে দাঁড়িয়ে এমন কথা হাস্যকর মনে হবে বৈকি। কিন্তু মজার বিষয়টা হচ্ছে, আসলে

2019-12-06T00:00:00+00:00
2019-12-06T00:00:00+00:00
 
  সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬,
১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
বিচিত্রিতা
প্রবেশ নিষেধ!
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম   (ভিজিট : ৩৬০)
এই পৃথিবীর পুরোটাই কি আমরা জানি? কম্পিউটার যুগে দাঁড়িয়ে এমন কথা হাস্যকর মনে হবে বৈকি। কিন্তু মজার বিষয়টা হচ্ছে, আসলে এই পৃথিবীর অনেক কিছুই আমাদের অজানা। বিশেষ করে আধুনিক পৃথিবীরও এমন অনেক গোপনীয়তা আছে যা চাইলেও একজন সাধারণ মানুষ জানতে পারেন না। এমন অনেক স্থান আছে যা সাধারণ মানুষের জন্য নিষিদ্ধ। এমনই কিছু রহস্যময় স্থানের কথা তুলে ধরেছেন মাহমুদুল হাকিম

ভ্যাটিকান সিক্রেট আর্কাইভস

যুগ যুগ ধরেই ভ্যাটিকান সিটি মানুষের রহস্যের খোরাক যুগিয়েছে। সেই যিশুর আমলের আগে থেকেই পৃথিবীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসের সাক্ষী এই ভ্যাটিকান। এই জায়গাটিকে গোপনীয়তার ভান্ডার বলা হয়। খুব কম সংখ্যক স্কলারই এই জায়গায় ঢুকতে পারেন, তাও পোপের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে। এখানে প্রায় ৮৪০০০টি বই আছে আর এই জায়গাটি প্রায় ৮৪ কিমি দীর্ঘ। ধারণা করা হয় খ্রিস্টান, মেসনারি, প্যাগান আরও অনেক ধর্ম আর মতবাদের অনেক গোপন ডকুমেন্ট এখানে সংরক্ষিত আছে। যার কিছু এমন যে, পৃথিবীতে দাঙাও বেধে যেতে পারে।

এরিয়া ৫১
যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য নেভাডার মরুভূমিতে অবস্থিত এই জায়গাটি নিয়ে সারা বিশে^র মানুষ এখনো একটা ঘোরের মধ্যে আছে। এটা যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন মিলিটারি বেইজ এবং
পৃথিবীর সবচেয়ে ‘সিকিউর’ এলাকাগুলোর একটি। গোপনীয়তম গবেষণাগুলোই এখানে করা হয়। যা এমনটি মাঝেমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টও জানতে পারেন না। পরে তাকে জানানো হয়। এর নিজস্ব এলাকার বাইরেও একটা বিশাল এলাকা জুড়ে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কী করা হয় ওখানে? পৃথিবীর একটা বিশাল অংশের মানুষের ধারণা ওখানে ভিনগ্রহের এলিয়েন নিয়ে গবেষণা করা হয়। অনেক মানুষ এলিয়েনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা গেছে বলেও বিশ^াস করে। শোনা যায়, বিপজ্জনক সব গবেষণা হয় মানবদেহের ওপরেও।

আইশি গ্রান্ড শ্রাইন, জাপান
জাপানের সবচেয়ে গোপনীয়,পবিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থান। খ্রিস্টপূর্ব ৪ সালে এটা নির্মাণ করা হয় বলে ধারণা করা হয়। জাপানের রাজকীয় পরিবার আর প্রিস্ট ছাড়া এখানে আজ পর্যন্ত কেউ প্রবেশ করতে পারেনি। এই শ্রাইনটি প্রতি ২০ বছর পরে ভেঙে আবার নতুন করে নির্মাণ করা হয়। কেন এত গোপনীয়তা? ইতিহাসবিদদের মতে এককালের জাপানিজ সাম্রাজ্যের অনেক পুরনো মূল্যবান নথিপত্র ওখানে লুকায়িত আছে, যেগুলো বিশে^র সামনে আগে কখনই আসেনি। এটি সূর্যদেবতার প্রতি উৎসর্গীকৃত। আর এটি সর্বজনবিদিত, জাপানিরা সবসময়ই ধর্মীয় গোপনীয়তা রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।


র‌্যাফ মেনউইদ হল
সারা বিশে^র গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে এক বিস্ময়ের নাম এই মেনউইদ হিল। এটা যুক্তরাজ্যের ইয়র্কশায়ারে হ্যারোগেটের কাছে ৬০৫ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত। এটাও একটি মিলিটারি বেইজ যা ইখেলন গ্লোবাল স্পাই নেটওয়ার্কিংয়ের সঙ্গে সংযুক্ত। আমেরিকা আর ইংল্যান্ডকে ইন্টেলিজেন্স সাপোর্ট দেওয়ার জন্যই এটা তৈরি করা হয়। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ইলেকট্রনিক মনিটরিং স্টেশন এখানেই রয়েছে। তবে পুরো জায়গার চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই জটিল। প্রবেশ তো নিষেধই। এমনকি ওই এলাকার আশপাশেও সাধারণ মানুষের ঢোকা একেবারেই অসম্ভবের পর্যায়ে পড়ে। যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র, দুই দেশ মিলে গোটা বিশে^র ওপর নজরদারি করে এখান থেকে। বিভিন্ন গোপন বার্তা ধরা এবং মিসাইল ঠেকাতে এই সেন্টার কাজ করে। পরিচালনা করে দুই দেশের বিমানবাহিনী।


ক্লাব ৩৩ ডিজনিল্যান্ড
সারা বিশে^র মানুষের জন্য ডিজনিল্যান্ড একটি বিনোদনের জায়গা। পুরো জায়গাটিই সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত শুধুমাত্র ক্লাব ৩৩ ছাড়া। খুব খুব গোপন এবং সাধারণের আড়াল করে রাখা হয়েছে ওই জায়গাটি। স্বয়ং ওয়াল্ট ডিজনি এই ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাতা। খুব আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, আপনি যদি আজকে আবেদন করেন এই ক্লাবটির সদস্য হতেই আপনার প্রায় ১৪ বছর সময় লাগবে। বলতে পারেন কেউ, কী এমন আহামরি আছে এই ক্লাবে?

মস্কো মেট্রো
এটা রাশিয়ায় অবস্থিত। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আন্ডারগ্রাউন্ড সিটি এটি। কিন্তু এখন পর্যন্ত রাশিয়া সরকারের তরফ থেকে কখনই এর অস্তিত্ব স্বীকার করে নেওয়া হয়নি। স্তালিনের আমলে এই শহর তৈরি করা হয়েছিল। একটা বিশাল অংশের মানুষ মনে করে এটা ক্রেমলিনের সঙ্গে এফএসবি হেডকোয়ার্টারের সংযোগ স্থাপন করেছে। পুরো একটি শহর এটা অথচ মানুষ এই জায়গায় যাওয়া তো দূরের থাক, এখনও এর সম্পর্কে ভালো
করে কিছু জানেও না!

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: