
বাংলাদেশের মাতৃভাষা বাংলা ছাড়াও বিশে^র শীর্ষ ১০০ কথ্যভাষায় স্থান করে নিয়েছে চাটগাঁইয়া ও সিলেটি বুলি। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ সারাবিশে^ প্রায় ২৬ কোটি মানুষ বাংলায় কথা বলে। তালিকার সপ্তম স্থানে রয়েছে বাংলা ভাষা।
চাটগাঁইয়া বুলিতে কথা বলে ১ কোটি ৩০ লাখ ভাষাভাষী, তালিকায় অবস্থান ৮৮তম। আর ১ কোটি ১৮ লাখ ভাষাভাষী নিয়ে সিলেটির অবস্থান ৯৭তম। ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট বিশে^ সর্বাধিক ব্যবহৃত ১০০ কথ্যভাষার ব্যবহারকারীর সংখ্যা একটি চিত্রের মাধ্যমে তাদের ওয়েবসাইটে তুলে ধরে।
ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট জানিয়েছে, বিশে^র জনসংখ্যার হিসাব রাখা প্রতিষ্ঠান ইথনোলগ থেকে তথ্য-উপাত্যের ভিত্তিতে শীর্ষ ব্যবহৃত ভাষার এই তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। বিশে^র ৭ হাজার ১১১টি ভাষা থেকে সর্বাধিক ১০০টি ভাষার তালিকা বানানো হয়েছে।
তাদের তালিকা অনুযায়ী, বিশে^ সবচেয়ে বেশি কথা বলা হয় ইংরেজি ভাষায়। তালিকার প্রথম স্থানে থাকা এই ভাষায় ১১৩ কোটি মানুষ কথা বলছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীনের মান্দারিন চাইনিজ। এ ভাষায় কথা বলে ১১১ কোটি মানুষ। তৃতীয় স্থানে থাকা হিন্দিতে কথা বলে ৬১ কোটি মানুষ। চতুর্থ স্থানে স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলে ৫৩ কোটি মানুষ।
বৃহত্তর চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের মানুষেরা চাটগাঁইয়া ভাষায় কথা বলে। অন্যদিকে সিলেটি ভাষা বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে এবং ভারতের আসাম রাজ্যের বরাক উপত্যকায় প্রচলিত একটি ইন্দো-আর্য ভাষা। এছাড়াও সিলেট বিভাগের পাশর্^বর্তী অঞ্চল এবং ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা, মনিপুর ও নাগাল্যান্ড রাজ্যের কিছু অংশেও এই কথ্যভাষার প্রচলন রয়েছে।
উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, চাটগাঁইয়া ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের ইন্দো-আর্য শাখার পূর্বাঞ্চলীয় ইন্দো-আর্যের উপশাখা বাংলা-অসমীয়ের সদস্য। ইন্দো-আর্যের হিন্দির সঙ্গে চাটগাঁইয়ার পুরো মিল রয়েছে।
ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে, চাটগাঁইয়া পালি ভাষা থেকে এসেছে, যা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগুলোর একটি কল্পিত পূর্বসূরি প্রত্ন-ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার উত্তরসূরি।