ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

খন্দকার ফারুক আহমেদ : শুধুই স্মৃতি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২০, ১১:১৪ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 55

ষ শাহনেওয়াজ
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের একজন ছাত্র ভালো গান গাইতে পারে, কারও তখন জানা ছিল না। কিন্তু তারই এক বান্ধবী পারভীন বেগম ঠিকই আবিষ্কার করে ফেললেন। বিশ^বিদ্যালয়ের
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে, চারদিকে বেশ শোরগোল পড়ে গেছে। কোন শিল্পীকে আনা যায় গান গাওয়ার জন্য। সে সময়কার অনেক শিল্পী অনুষ্ঠানে আসলেন। গান শোনালেন। এক সময় ঘোষণা এলো, তাদের বিশ^বিদ্যালয়ের এক ছাত্র গান গাইবেন। সবার মনে কৌতূহল কে সেই শিল্পী।
সেদিনের সেই শিল্পী ছিলেন খন্দকার ফারুক আহমেদ। যার ভরাট কণ্ঠের গান শুনে অভিভূত। যিনি সবচেয়ে বেশি অভিভূত হয়েছিলেন তিনি হলেন কণ্ঠশিল্পী আনোয়ার উদ্দিন খান। গান গাওয়ার ব্যাপারে খুব উৎসাহ যোগালেন তিনি। পাশাপাশি নাট্যশিল্পী নাজমুল হুদাও গানের ব্যাপারে তাকে উৎসাহ দিয়েছেন। এই দুজনের উৎসাহ থেকে শিল্পী হিসেবে পথচলা খন্দকার ফারুক আহমেদের।
তার কণ্ঠ শুনে বিভিন্ন সঙ্গীত পরিচালকরা ছবিতে গান গাওয়ানোর ব্যাপারে বেশ উৎসাহী হলেন। নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘নীল আকাশের নীচে’ ছবিতে গাওয়ালেন, নীল আকাশের নিচে আমি রাস্তা চলেছি একা’। সত্য সাহার সুরে গানটি দারুণ জনপ্রিয়তা পায়।
বেতারে প্রথম যাত্রায় বেশ কিছু গানের জন্য প্রশংসিত হলেন খন্দকার ফারুক আহমেদ। ‘সোহাগী গো কি দেবো বলো’ গানটি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠে। এই সময় মাহমুন্নবী তার কণ্ঠের বাহারে বেশ প্রশংসা করেন। নারায়ণ ঘোষের ‘চাওয়া পাওয়া’ ছবিতে গাইলেন ‘রিক্ত হাতে যারে ফিরিয়ে দিলে’। সত্য সাহার অপূর্ব সুরে শ্রোতামহল থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র জগতের সবাই গানটি লুফে নিলেন। ‘আবির্ভাব’ ছবির সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠের গানটি ‘কাছে আসো যদি বলি তবে দূরেই কেন থাকো’ জনপ্রিয়তা পায় খুব অল্প সময়ে। একে একে ছবির গানের ডাক আসে। ‘আমার প্রেম’ ছবির ‘আমি কার জন্য পথ চেয়ে রবো’ এই গানটিও দ্বৈত কণ্ঠের। খন্দকার ফারুক আহমেদের সঙ্গে সহশিল্পী ছিলেন অত্যন্ত গুণীশিল্পী ফেরদৌসি রহমান। এর পাশাপাশি ‘তোমার উপহার আমি চিরদিন’ ‘ঢাকা শহর আইস্যা আমার আশা পুরাইছে’, ‘আমার বউ কেন কথা কয় না’, ‘রিকশাওয়ালা বলে কারে তুমি আজ ঘৃণা করো’ গানগুলো জনপ্রিয়তা পায় খুব দ্রুত। তবে ‘ঢাকা শহর আইস্যা আমার’ গানটি ছিল দ্বৈত কণ্ঠে। গানটির সহশিল্পী ছিলেন শাম্মি আখতার। খান আতাউর রহমান একটি কণ্ঠ খুঁজছিলেন আর সেই জালে ধরা পড়লেন খন্দকার ফারুক আহমেদ। তার ‘কোথায় তোমায় যেন দেখেছি’ ছবিতে গাওয়ালেন এই শিল্পীকে দিয়ে। শিল্পীর গাওয়া ‘আমি নিজের মনে নিজেই যেন ধরা পড়েছি’ গানটি শোনার পর বেশ হৈচৈ পড়ে যায় সঙ্গীত জগতে। এর পাশাপাশি রেডিওতে গাওয়া ‘বাসন্তী রঙ শাড়ি পড়ে কোন বধূয়া চলে যায়’ গানটি শিল্পীকে এক নতুন মাত্রায় চিহ্নিত করেন সঙ্গীত জগতের বাসিন্দারা।
স্বাধীনতার পর শিল্পী খন্দকার ফারুক আহমেদ মুম্বাই গিয়েছিলেন। সেখানে এক গানের অনুষ্ঠানে তিনি দেখা পেলেন বিখ্যাত সুরকার এসডি বর্মণের। এসডি বর্মণ শিল্পীর গান শুনে শুধু মুগ্ধ হলেন না। তাকে আশীর্বাদ করেছিলেন।
খন্দকার ফারুক আহমেদ কিছুটা অভিমানী ছিলেন। বিশেষ করে প্রচারের ক্ষেত্রে। তবে তার গানের দীক্ষা একেবারে স্কুল জীবন থেকে। তিনি ওস্তাদ বিমলেন্দু দেওয়ান, ইউসুফ খান ও পিসি গোমেজের কাছে তালিম নিয়েছিলেন। ১৯৭০ সালে গানের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার পান। আর সে বছরই মওলানা ভাসানীর কাছ থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন। ছবিতে একচেটিয়া না হলেও বেশিরভাগ সুরকার তাকে দিয়ে গান গাওয়ানোর প্রবণতা ছিল। তবে গানের কথা ও সুরের ক্ষেত্রে খন্দকার ফারুক আহমেদের কিছুটা রুচি তৈরি হয়েছিল। যা পরবর্তী সময়ে তার জন্য বেশ কিছুটা প্রতিবন্ধকতার মেলবন্ধন হয়ে যায়।








সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]