ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৫ জুলাই ২০২২ ২১ আষাঢ় ১৪২৯
ই-পেপার মঙ্গলবার ৫ জুলাই ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

মাথাচাড়া দিতে পারে চরমপন্থা
এমএকে জিলানী
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ আগস্ট, ২০২১, ১:০৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 356

আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতায় যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। চলমান পরিস্থিতিতে তালেবানের সঙ্গে বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের সন্ত্রাসবাদের পুরনো যোগাযোগটা নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাই সরকারকে বেশ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এ মুহূর্তে বাংলাদেশকে পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ভাবতে হবে। জঙ্গিবাদ বা চরমপন্থা প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। সবশেষ খবর অনুযায়ী, আফগানিস্তানে থাকা বাংলাদেশিরা ভালো আছেন, নিরাপদে আছেন। এদিকে আফগান ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরান-পাকিস্তান-আফগানিস্তান-চীন নতুন মেরুকরণ হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিরাপদে বাংলাদেশিরা : কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, কাবুলে দেশের কোনো মিশন নেই। উজবেকিস্তানের তাসখন্দ থেকে আফগানিস্তান দেখভাল করা হয়। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশিও সেখানে থাকেন না। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক ও আশার কিছু বাংলাদেশি কর্মী সেখানে কাজ করেন। তাদের বেশিরভাগ কর্মীকে এরই মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কাবুলে এখন মোট ১০ জন বাংলাদেশি আছেন। এর মধ্যে ছয়জন ব্র্যাকের কর্মী, বাকি চারজন আফগানিস্তানের কারাগারে আছেন। কাবুল ছাড়া আফগানিস্তানের অন্য শহরে বাংলাদেশি রয়েছে কি না তার খোঁজখবর নিচ্ছে তাসখন্দে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন। এরই মধ্যে আফগানিস্তানে বাংলাদেশিদের সহায়তা করতে দুটি হটলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। নম্বর দুটি হচ্ছেÑ +৯৯৮৯৯৯১১৯১০২ এবং +৯৯৮৯৭৪৪০২২০১।

উজবেকিস্তানের তাসখন্দ থেকে রাষ্ট্রদূত জাহাঙ্গীর আলম রোববার সময়ের আলোকে বলেন, ‘কাবুলের পরিস্থিতি উত্তপ্ত, তালেবানরা শহরে ঢুকে পড়েছে। এখানকার পুলেরচরকিসহ আশপাশের কারাগারগুলো থেকে বন্দিরা পালিয়ে যাচ্ছে। কারাগারগুলোতে থাকা বন্দিদের মধ্যে মোট চারজন বাংলাদেশি। এদের মধ্যে পুলেরচরকি থেকে পালিয়ে আসা বাংলাদেশি মেজবাহর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। মেজবাহ কাবুলে তার পরিচিত একজনের বাসায় লুকিয়ে আছে। বাকি তিনজনের মধ্যে একজন নারী। এই তিনজনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা চলছে।’

রাষ্ট্রদূত জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘জানা মতে, কাবুলে এখন ছয়জন বাংলাদেশি আছেন। তারা সবাই ব্র্যাকের কর্মী, তারা ওখানকার ব্র্যাকের কান্ট্রি ডিরেক্টরের বাসায় নিরাপদে আছেন। তাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ হচ্ছে। তারা আগামী ১৮ আগস্ট টারকিশ এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে দেশে ফেরার চেষ্টা করবেন। 

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ : আফগানিস্তানের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘মূলত আমরা এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি, দেখছি অবস্থা কোনদিকে যায়।’ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আফগান সরকার তাদের দেশ পুনর্গঠনে সহায়তা চাইলে বাংলাদেশের কৌশল কী হবে, জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আশপাশের সব প্রতিবেশীকে আমাদের সাহায্য করার ইচ্ছা আছে। তারা চাইলে আমরা সহায়তা করব।’

চরমপন্থা মাথাচাড়া দিতে পারে : সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনিরুজ্জামান সময়ের আলোকে বলেন, বাংলাদেশ বড় ধরনের ঝুঁকিতে আছে। সেখানকার ক্রমবর্ধমান যে নিরাপত্তা ঝুঁকি তার সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় পড়বে। বাংলাদেশে উগ্রমতবাদের যেসব সংগঠন বা সন্ত্রাসী দল আছে, তাদের সঙ্গে প্রথমে আফগান জিহাদের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। অর্থাৎ ওই সময় যারা আফগানিস্তানে গিয়ে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল, তারা তাদের মতাদর্শকে অবলম্বন করে দেশে ফিরে আসে, ফিরে এসেই দেশে সন্ত্রাসবাদের গোড়াপত্তন করে। কাজেই সে যোগাযোগটা এখন আবার নতুন করে উজ্জীবিত হবে। তিনি আরও বলেন, তালেবানের যে উত্থান, তার সঙ্গে মতাদর্শের যে প্রভাব সেটাও বাংলাদেশের ওপর আসবে। দেশের ভেতর এ ধরনের যে গোষ্ঠী আছে তারা নতুন করে উজ্জীবিত হবে। তাদের কর্মকাণ্ড নতুন করে শুরুর জন্য তারা উদ্যোগী হবে। এরই মধ্যে সে ধরনের লক্ষণ দেখা গেছে। আ ন ম মুনিরুজ্জামান আরও বলেন, ‘আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর গভীর পর্যবেক্ষণ রাখতে হবে। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বা পর্যবেক্ষণ আরও বাড়াতে হবে, বিশেষ করে গোয়েন্দা নজরদারি এবং সাইবার স্পেস নজরদারি বাড়াতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, ‘তালেবানের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি উগ্রবাদ ও সহিংস। এ অঞ্চলের জঙ্গিবাদ বিস্তারে তালেবানের যে ভূমিকা অতীতে ছিল (’৯৬ থকে ২০০১), এখন তা নতুন করে মাথাচাড়া দিতে পারে। বাংলাদেশের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের কঠোর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘কূটনৈতিক দিক থেকে যে দেশগুলো তালেবানকে সমর্থন দিচ্ছে বা চীন থেকে শুরু করে যারা তাদের সমর্থন দিতে পারে, তাদের সঙ্গে আমাদেরও কূটনৈতিক সম্পর্ক ভালো। এ জায়গা থেকে তালেবানকে সমর্থন দিতে বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শান্তি এবং গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস রাখতে বাংলাদেশের যে নীতি সেখানে ব্যালান্স করতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় যে অস্থিরতা আছে, তালেবানের উত্থান ঘটনায় তা আরও বাড়বে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে। ভারতের সঙ্গে চীনের যে সম্পর্ক বা ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যে সম্পর্ক, সে সম্পর্কের নতুন মেরুকরণও হতে পারে। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন উদ্বেগ আসতে পারে। 

ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন সময়ের আলোকে বলেন, দেশে চরমপন্থা ছড়িয়ে পড়ার ভয় আছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইরান-পাকিস্তান-আফগানিস্তান-চীন নতুন মেরুকরণ হচ্ছে। ড. লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, ‘চলমান পরিস্থিতিতে মানুষকে বোঝাতে হবে যে, ধর্মের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে তালেবান ক্ষমতায় আসছে। মানুষকে সচেতন করার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।

/এমএইচ/




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]