পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ কার্যক্রমে অংশ নিয়ে শারীরিক, মৌখিকসহ স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেধাতালিকায় নাম এসেছিলো সাভারের হাসানের। তার অন্য সহযোগীরা যখন পুলিশের প্রশিক্ষণে যোগ দিতে যাচ্ছিলো তখন তাকে জানানো হয় ভূমিহীন সনদপত্র না থাকায় চাকরিটি হয়নি তার। গত কয়েকদিন সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে ঘুরেও সেই সনদ মেলেনি তার ভাগ্যে। ফলে চাকরির স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। তবে গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এরই প্রেক্ষিতে রাত ১১টা ৪৫-র দিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে 'ভূমিহীন' সনদপত্র দেওয়া হয়।
ওই যুবকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত নভেম্বরে পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেধাতালিকায় ১১৫তম হন হাসান সিদ্দিকী। এরপর প্রয়োজনীয় সকল ভ্যারিফিকেশনও সম্পন্ন হয়। এমনকি চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তার কাছ থেকে জামা, প্যান্ট, জুতার মাপও নেয় পুলিশ। গত বুধবার তার অন্য উত্তীর্ণ হওয়া বন্ধুরা চাকরির প্রশিক্ষণে যাওয়ার জন্য কোভিড পরীক্ষার ডাক পেলেও সে ডাক না পেয়ে শরণাপন্ন হয় পুলিশ কর্মকর্তাদের। সেখান থেকে কর্মকর্তারা তাকে জানান, 'ভূমিহীন হওয়ায় ও এ সংক্রান্ত সনদ না থাকায় চাকরিতে বাদ পড়েছেন তিনি।'
পরে এই ভূমিহীন সনদের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন হাসান। তবে সেখান থেকে তাকে জানানো হয় এমন সনদ দেওয়ার কোন নিয়ম নেই। পরে সেখান থেকে বাসায় চলে যায় সে। বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেন হাসান। এসময় তার সমস্যার বিষয়টি বিস্তারিত খুলে বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। বিষয়টি শুনে তিনি তৎক্ষনাৎ সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) সনদ দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে তিনি রাত ১২টার দিকে ঢাকা থেকে ফিরে ওই সনদ দেন।
হাসান বলেন, 'সনদটা পেয়েছি। তবে যথাসময়ে পেলে এখন আমি হয়তো ট্রেনিংয়ে থাকতাম। কিন্তু সকল যোগ্যতা থাকা সত্বেও শুধুমাত্র একটি সনদের কারণে আমি বাদ পড়েছি। পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে আমি বিনীত অনুরোধ জানাই আমাকে মানবিক দিক বিবেচনা করে এ ব্যাপারে যেনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কারণ এটাই আমার শেষ সুযোগ ছিলো।'
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ রহমত উল্লাহকে ফোন করা হলেও তিনি কল ধরেননি। তবে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সনদপত্র দেওয়ার আগে রাত সাড়ে ৮ টায় তিনি বলেন, আমি ঢাকায় মিটিংয়ে ছিলাম। এখন রাস্তায়, সব কিছু প্রস্তুত করা আছে পৌছিয়ে স্বাক্ষর করবো।'
অবশেষে মধ্যরাতে দেয়া হয় সেই সনদপত্র।
/এসএ