চাঁদা না পেয়ে স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

অপরাধ

চাহিদা অনুযায়ী চাঁদা না পেয়ে স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে আশিকুল ইসলাম আশিক। ধর্ষণের শিকার ওই নারী তার আট

2021-12-28T10:11:11+00:00
2021-12-28T10:11:11+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬,
২ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
অপরাধ
চাঁদা না পেয়ে স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১, ১০:১১ এএম   (ভিজিট : ৫৪৬)
চাহিদা অনুযায়ী চাঁদা না পেয়ে স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে আশিকুল ইসলাম আশিক। ধর্ষণের শিকার ওই নারী তার আট মাস বয়সি শিশুর চিকিৎসার জন্য ১০ লাখ টাকা জোগাতে তিন মাস কক্সবাজারে অবস্থান করেন। এ সময় তার স্বামীও সেখানে ছিলেন। আশিকুল ইসলাম ওই দম্পতির কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় স্বামী ও অসুস্থ সন্তানকে জিম্মি করে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। রোববার রাতে আলোচিত কক্সবাজার পর্যটন এলাকায় নারী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আশিকুলকে মাদারীপুর থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। সোমবার এসব বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

এদিকে আশিকুলের আরও তিন সহযোগীকে রিমান্ডে নিয়েছে মামলার তদন্ত সংস্থা নৌ পুলিশ। কক্সবাজারের সিনিয়র বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মামিমুন তাসনিম তাদের দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই তিনজন হলোÑ রেজাউল করিম, মামুনুর রশিদ ও মেহেদী হাসান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. জিল্লুর রহমান।

র‌্যাবের মুখপাত্র বলেন, শিশুসন্তানকে বাঁচাতেই তিনি পর্যটকদের কাছে হাত পাতেন। কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটকের উপস্থিতি থাকায় সেখানেই তিন মাস অবস্থান করেন তিনি। এতে ওই নারীর শিশুসন্তানের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা সম্ভব হয়ে ওঠে। গত ২২ ডিসেম্বর সাগরপাড়ের লাবণী বিচ এলাকার রাস্তা থেকে ওই নারীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত। তারা সেখানে একটি ঝুপড়ি ঘরে আটকে রেখে ওই নারীর সব কেড়ে নেয়। তিনি জানান, ওই নারী সংঘবদ্ধ চক্রটির পূর্বপরিচিত ছিলেন না। ঘটনার একদিন আগে সৈকতে তাদের পরিচয় হয়। সে সময় ওই নারী শিশুসন্তানের চিকিৎসার জন্য ট্যুরিস্টদের কাছে অর্থ সহযোগিতা চাইছিলেন।

গত ২২ ডিসেম্বর রাতে কক্সবাজারে গণধর্ষণের শিকার হন এক নারী। ওই ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে ও আরও দু-তিনজনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই ঘটনায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশসহ ছায়াতদন্ত করছিল র‌্যাব। ২৩ ডিসেম্বর রাতে জিম্মি করতে সহযোগিতার অভিযোগে জিয়া গেস্ট ইন হোটেলের ম্যানেজার রিয়াজউদ্দিন ছোটনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

খন্দকার আল মঈন আরও জানান, র‌্যাব-৮ ও ১৫-এর অভিযানে গত রোববার মাদারীপুরের মোস্তাফাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এই ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আশিকুল ইসলামকে (২৯) গ্রেফতার করা হয়। সে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে র‌্যাবের কাছে। র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতার আশিক কক্সবাজারে পর্যটন এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের মূল হোতা। এই চক্রের সদস্য সংখ্যা ৩০-৩৫ জন। আশিক ২০১২ সাল থেকে কক্সবাজার পর্যটন এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। সে প্রথম ২০১৪ সালে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয় বলে জানায়। আশিক ও তার সিন্ডিকেট পর্যটন এলাকা কক্সবাজারে চুরি, ছিনতাই, অপ-হরণ, জিম্মি, চাঁদাবাজি, জবরদখল, ডাকাতি ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। সে পর্যটন এলাকায় বিভিন্ন হোটেল ম্যানেজারের সঙ্গে যোগসাজশে ট্যুরিস্টদের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করত।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে আশিক আরও জানায়, সে ও তার সহযোগীরা ভিকটিম ও তার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। তারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লাবণী বিচ এলাকার রাস্তা থেকে ভিকটিমকে অটোরিকশায় করে তুলে নিয়ে যায়। এরপর ভিকটিমকে ধর্ষণ ও জিয়া গেস্ট ইন হোটেলে আটক করে রেখে ভিকটিমের স্বামীর কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এরপর ভিকটিমকে হোটেলে আটকে রেখে সেখান থেকে বের হয়ে যায় আশিক। ঘটনা জানাজানি হলে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তখন থেকেই আত্মগোপনে চলে যায় সে। পরে বেশভূষা পরিবর্তন করে ঘটনার দুদিন পর কক্সবাজার থেকে একটি এসি বাসে ঢাকায় আসে। ঢাকা থেকে পটুয়াখালী যাওয়ার পথে মাদারীপুরের মোস্তাফাপুর বাসস্ট্যান্ডে গ্রেফতার হয় আশিক।

গ্রেফতার আশিক পর্যটন এলাকা কক্সবাজারে আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন রকম জবরদখল ও অবৈধ কর্মকা-ে জড়িত। সে পর্যটন এলাকার সুগন্ধা এলাকার ফ্ল্যাট মালিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক কম টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়ে পর্যটকদের কাছ থেকে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায় করে থাকে। এ ছাড়া সে বিভিন্ন ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অবৈধ দখল ও চাঁদা দাবি করে। তার চক্রের সদস্যরা রাতে বিচে আসা ট্যুরিস্টদের হেনস্থা, মোবাইল ছিনতাই, ফাঁদে ফেলা ও নিয়মিত ইভটিজিং করত। পাশাপাশি হোটেল-মোটেল জোনে সুযোগ বুঝে ট্যুরিস্টদের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করত।

২০১৮ থেকে ২০২১ আড়াই বছর জেলেই ছিল আশিক : অস্ত্র, মাদক, নারী নির্যাতন ও চাঁদাবাজিসহ ১৮টি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে ১২টি মামলা চলমান। আগে সে পাঁচবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সে প্রায় আড়াই বছর কারাভোগ করে। কিন্তু পুলিশের নাগের ডগায় একের পর এক অপরাধ করেও প্রায় পার পেয়ে যেত। পুলিশের নজরদারি না থাকায় সে পালিয়ে পাশের দেশে যেতে চাইছিল।

পুলিশ কনস্টেবলকেও জিম্মি : স্থানীয় সূত্র জানায়, আশিকের অপরাধের সঠিক কোনো হিসাব নেই। শুধু জখলবাজি ও চাঁদাবাজি নয়, তার বিরুদ্ধে এক পুলিশ কনস্টেবলকে নারী দিয়ে ফাঁসিয়ে চাঁদা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে। ওই কনস্টেবল মানসম্মানের ভয়ে চাঁদা দিতে বাধ্য হয়।



Loading...
Loading...
অপরাধ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: