প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুন, ২০২০, ১২:০০ এএম (ভিজিট : ২৫৮)
জেলা পরিষদে প্রায় ৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেনকে বদলি করা হয়েছে। তার এই বদলির আদেশ মার্চ মাসে হলেও অজ্ঞাত কারণে তা ২ জুন জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছেছে। তাকে কচুয়া উপজেলা প্রকৌশলী অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে বদলি করা হয়েছে। ২২ মার্চ তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলীর (প্রশাসন) পক্ষে প্রধান প্রকৌশলী স্বাক্ষরিত এক পত্রে চাঁদপুর জেলা-পরিষদে প্রেষণে কর্মরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেনকে কচুয়া উপজেলা প্রকৌশলীর দফতরে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে বদলির আদেশ জারি করা হয়। একাধিক বিশ^স্থ সূত্র জানান, উপ-সহকারী ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে খোদ জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান জসীম উদ্দীন এবং একজন স্থানীয় সংসদ সদস্যও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দফতরে অভিযোগ করলে তা তদন্ত করার নির্দেশও আসে। কিন্তু সেই তদন্তও ইকবাল হোসেন ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। জানা গেছে, ইকবাল হোসেন গত ক’বছরে ঢাকায় বাড়ি-গাড়ি করে কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। জেলা পরিষদে থেকে নিজেও নিয়ম বহির্ভূতভাবে ঠিকাদারি করেছেন। অন্যদিকে চাঁদপুরে থাকার জন্য ইকবাল হোসেন নানা চেষ্টা তদ্বির চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, এর আগেও এই প্রকৌশলী একই অভিযোগে স্ট্যান্ড রিলিজ হয়েছিলেন। তাকে বরখাস্ত করা হয় এবং গ্রেফতারও করা হয়। তৎকালীন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠায় এই ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান বলেন, কোনো অজ্ঞাত কারণে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত হলো না, তা আর জানলাম না। এই কর্মকর্তা শুধু দুর্নীতি বা অনিয়মই করেন না, তিনি নানা সময়ে সরকারের উন্নয়নবিরোধী কথাও বলে থাকেন।
অন্য দিকে জেলা পরিষদের প্যানেল প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমি ২ জুন এ আদেশ পেয়েছি। তবে ইকবাল হোসেনের কর্মস্থলে আরেকজন না আসা পর্যন্ত তাকে ছাড়পত্র দিতে পারছি না।
বদলির দেড়মাস পর কেন অর্ডার পেলেন, এই সম্পর্কে তিনি বলেন এটি এখন পেয়ে আমিও বিব্রত। দুর্নীতির তদন্ত বিষয়ে তিনি বলেন, কি কারণে তদন্ত হয়নি সে আর আমি বলতে পারছি না।
আর উপসহকারী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দাঁড় করিয়েছিলেন প্যানেল চেয়ারম্যান। তার এলাকার এমপিই তা প্রত্যাহার করে নেন।
তদন্ত কমিটির বিষয়ে তিনি বলেন, এমন কোনো কমিটির কথা আমি জানি না এবং এ রকম কোনো কমিটি হয়নি।