প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০:২৭ পিএম (ভিজিট : ২৮৩)
ষ নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলে একাধিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গ্রুপ আছে। আমাদের এলাকা দিয়ে ধাওয়া দিলে দুর্গম এলাকা পার হয়ে তারা ওই দিকে (ভারতের মিজোরামে) চলে যায়। এসব সমস্যার সমাধানে এবং সীমান্তে সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধে আমাদের বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় সীমান্ত সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। সব কাজ এগিয়ে চলছে। এগুলো শেষ হলে বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বন্ধ হবে। বুধবার রাজধানীর পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দফতরে বাহিনীর সদস্যদের পদক প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদকপ্রাপ্ত সদস্যদের অভিনন্দন জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিজিবির মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তা, বিজিবির সব পর্যায়ের কর্মকর্তা, সৈনিক ও বেসামরিক কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিজিবির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ২০২০ সালের বীরত্বপূর্ণ ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ চারটি ক্যাটাগরিতে মোট ৫৯ জনকে পদক পরিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর মধ্যে ১০ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক (বিজিবিএম), ২০ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক (পিবিজিএম), ১০ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক সেবা (বিজিবিএমএস) এবং ১৯ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক সেবা (পিজিবিএমএস) দেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলে থাকেন, আমাদের দেশে এক ইঞ্চি জমিও আমরা কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীকে ব্যবহার করতে দেব না। এ লক্ষ্যে সীমান্তে বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী ঠেকাতে আমরা কাজ করছি। ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তারা যতটুকু পারছেন সহযোগিতা করছেন। মিয়ানমারের সঙ্গেও আমাদের যে সীমান্ত রয়েছে, সেখানেও এমন কিছু এলাকা সম্পর্কে আমাদের কাছে কিছু গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। ওইসব এলাকা থেকে সীমান্ত পার হয়ে কিছু দুষ্কৃতকারী চক্র অপরাধ করে ওপারে চলে যায়। আবার ওইখানে অপরাধ করে আমাদের এখানে এসে শেল্টার নেয়। এসব বন্ধ করার জন্য বিজিবিকে ত্রিমাত্রিক বাহিনী (আকাশ, পানি ও স্থলপথ) হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এগুলো হয়ে গেলে আর সমস্যা হবে না। এ ছাড়া আমরা বর্ডার রোড নির্মাণ ও বিওপি বৃদ্ধিতে জোর দিয়েছি। আমরা মনে করি, তাদের যেভাবে আমরা সহযোগিতা করি তারাও আমাদের সেভাবে সহযোগিতা করে। বিশেষ করে চোরাচালান, সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোকে আমাদের দেশে যে রকম স্থান দেই না, আশা করি প্রতিবেশী দেশগুলোও এসব সংগঠনকে তাদের দেশে স্থান দেবে না এবং দিচ্ছেও না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সীমান্ত রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ও মহান দায়িত্ব বিজিবির ওপর ন্যস্ত। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষাসহ চোরাচালান, মাদকপাচার ও নারী-শিশু পাচাররোধে বিজিবির সফলতা প্রশংসনীয়। বিশেষ করে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও অন্যান্য মাদক পাচাররোধে বিজিবি বিশেষ কৃতিত্ব দেখাতে সক্ষম হয়েছে।
নববর্ষের নিরাপত্তার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, থার্টিফার্স্ট নিয়ে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। কেউ যদি কোনো অঘটন ঘটাতে চায়, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী চুপ থাকবে না। যদিও এ ধরনের কোনো হুমকির তথ্য আমাদের গোয়েন্দাদের কাছে নেই। তবে যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। সব বিষয় নজরদারির মধ্যে রয়েছে।
বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ সাফিনুল ইসলাম বলেন, বিএসএফ প্রতিবছর আমাদের কিছু এ রকম লোকেশন দেয়। আমরা সেখানে অপারেশন পরিচালনা করি। কিন্তু আদতে সেখানে কিছুই পাই না। সেটাও আমরা বিএসএফকে জানিয়েছি, বলেছি, তোমরা আমাদের যে লিস্টগুলো দিয়েছ সেগুলোতে অভিযান পরিচালনা করেছি, সেখানে আমরা এ রকম কোনো ক্যাম্প খুঁজে পাইনি।
প্রসঙ্গত, ২৫ ডিসেম্বর গৌহাটিতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম মিজোরামে পার্বত্য চট্টগ্রামের ‘সশস্ত্র আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ঘাঁটির’ অস্তিত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এই আস্তানাগুলো ধ্বংস করার জন্য বিএসএফকে অনুরোধ করেছিলেন। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারত সরকারের ‘জিরো টলারেন্স নীতির’ কথা উল্লেখ করে বিএসএফ মহাপরিচালক ওইসব আস্তানার (যদি থাকে) বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ^াস দেন।