প্রকাশ: বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০:৫৮ পিএম (ভিজিট : ২৭৮)
মনোয়ার জাহান চৌধুরী সিলেট
পারিবারিক কলহ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ফলে বিবাহবিচ্ছেদ বাড়ছে স্মার্ট শহর সিলেটে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় এক বছরে সিলেট সিটি করপোরেশনে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জমা পড়েছে ২ হাজার ৩৭২টি। পরিসংখ্যান বলছে চলতি বছরের প্রায় ১২ মাসের চেয়ে ২০১৯ সালের সারা বছরে এই সংখ্যা ছিল ২৯১। যা গত বছেরের তুলনায় বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ১০ গুণ! সিলেট সিটি করপোরেশনের আইন সহকারী শ্যামল রঞ্জন দেব সময়ের আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, চলতি বছরের গেল ১০ মাসে জমা পড়া আবেদনের ২০০টির মতো জানুয়ারি থেকে ১৫ মার্চের। অন্য ২ হাজার ১০০টির বেশি আবেদন করোনাকালে হয় বলে ধারণ করা হয়। সিলেট মহানগরের মধ্যে যেসব দম্পতি বিচ্ছেদ চায়, তাদের সিটি করপোরেশনের আইন শাখায় আবেদন করতে হয়। আবেদন জমার পর নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে বিষয়টি সুরাহার জন্য প্রতি মাসে একবার করে টানা তিন দফা নোটিস পাঠানো হয়। এরপর উভয়পক্ষকে নিয়ে সিটি করপোরেশনের মেয়র শুনানিতে বসে সমাধানের চেষ্টা করেন। তাতেও যদি কাজ না হয় তাহলে বিচ্ছেদ কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সিসিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ২৩টি বিচ্ছেদের আবেদন কার্যকর হয়েছে। করোনা সংক্রমণের কারণে মার্চের পর থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুনানি বন্ধ ছিল। অক্টোবর মাসে দুই দিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সিলেট সিটি করপোরেশনে বিচ্ছেদ চেয়ে জমা পড়া আবেদন সূত্র জানায়, বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে পারিবারিক কলহ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, পরকীয়া, যৌতুক, মাদকসেবন করে নির্যাতন, প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগহীনতা এবং যৌন অক্ষমতা কারণ হিসেবে বেশি উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আইনজীবীরা মূলত তাদের নির্দিষ্ট ফরমে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে আবেদন করান। করোনাকালেও বিচ্ছেদের আবেদন কেন? তার একটি ব্যাখ্যা দিলেন জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সিলেট বিভাগীয় প্রধান সৈয়দা শিরিনা আক্তার। তার পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, করোনা পরিস্থিতিতে অনেকে অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপে পড়েছেন। আগে পুরুষেরা ঘরের বাইরে বেশি সময় কাটাতেন, করোনাকালে কাটিয়েছেন ঘরে। নারীর ক্ষেত্রেও কাজের চাপ বেড়েছে। তিনি বলেন, সব মিলিয়ে সহনশীলতা কমে গেছে। ধৈর্যচ্যুতিও ঘটছে। ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ বেড়েছে; এর জেরে বিচ্ছেদের মতো পরিস্থিতির দিকে অনেকে যাচ্ছেনÑ এমন ধারণা তার।