সুস্বাদু এই ফলের জন্য প্রসিদ্ধ ঈশ্বরদী উপজেলা ও আটঘরিয়া উপজেলার বেশকিছু অঞ্চল। এ অঞ্চলের আড়তগুলোতে এখন চলছে জামের রাজত্ব। তবে জেলায় সবচেয়ে বেশি জাম পাইকারি হারে বিক্রি হয়ে থাকে ঈশ্বরদীর মুলাডুলি হাটে।
বর্তমানে বাজারে ঠাকি জাম, হাঁড়ি জাম ও খুদে জাম পাওয়া যাচ্ছে। প্রকার ও আকারভেদে বর্তমানে পাইকার বাজারে প্রতিকেজি জাম বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে। সকাল থেকেই আশপাশের গ্রামের বাগান মালিকরা গাছ থেকে জাম সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে হাজির হন মুলাডুলির হাটে। তাই তো ভরা মৌসুমে এখন পাকা জামের রঙে রঙিন ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ার ফলের আড়তগুলো।
এক সময় কেবল কাঠের জন্য চাষিরা জামের গাছ লাগালেও এখন সেটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেন। দিন দিন বাড়ছে এই ফলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। তাই তো বাজারের এই জামের চাহিদা বেড়েছে বহুগুণ। পাবনার জাম স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। মানে ও স্বাদের সুখ্যাতির জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা জাম কিনতে আসেন পাবনার মুলাডুলির ফলের হাটে।
স্বল্পকালীন ফল হওয়ায় জামের বাজার স্থায়ী হয় সর্বোচ্চ এক মাস। মৌসুমের শুরুতে পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি জাম ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমান বাজারদর ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। ঈশ^রদী ও আটঘরিয়া থেকে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ ট্রাক জাম সরবরাহ হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। নিয়মিত ফসলের পাশাপাশি পুষ্টিগুণসম্পন্ন মৌসুমি এই ফলের চাষ কৃষককে দিচ্ছে আর্থিক সচ্ছলতা।
খিদিরপুর এলাকার জাম বিক্রেতা সাদেক বিশ্বাস বলেন, আগে জাম নিজেরা কিছু খেতাম আর বেশিরভাগ নষ্ট হতো। এখন জাম বিক্রি করে বাড়তি অর্থ আয় হয়। আমাদের এ অঞ্চলের জাম খেতে বেশ মজা। এখন আমাদের এলাকায় বেশিরভাগ বাড়ির আঙিনায় একটি করে জামগাছ আছে।
মুলাডুলি পাইকারি ফলের হাটের আড়তদার মো. মনির হোসেন বলেন, জুন মাসের প্রথম থেকে আমাদের এ অঞ্চলের কৃষকরা তাদের জাম হাটে নিয়ে আসে। এই হাট ছাড়াও এলাকার ভেতরে বেশ কিছু ছোট ছোট আড়তঘর রয়েছে। সেখানে কৃষকরা জাম নিয়ে বিক্রি করে। সেখান থেকে পাইকাররা আমাদের কাছে নিয়ে আসে। আমরা সেসব জাম কিনে দেশের বিভিন্ন বাজারের চাহিদা মোতাবেক যানবাহনে পাঠিয়ে দেই।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আব্দুল কাদের বলেন, দেশি মৌসুমি ফল জাম ব্যাপক পুষ্টিগুণসম্পন্ন ফল। জামে রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম ও ভিটামিন ‘সি’। ডায়াবেটিস রোগী ও বয়স্ক মানুষদের হাড়কে শক্তিশালী করতে জাম ব্যাপক কার্যকর একটি ফল। এ ছাড়া দাঁত, চুল ও ত্বক সুন্দর করতে জামফল বেশ সহায়ক ভূমিকা রাখে। চলতি মৌসুমে জেলায় ১৮০ হেক্টর জমিতে জাম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৬২০ মেট্রিক টন ধরা হয়েছে বলে জানান ওই কৃষি কর্মকর্তা।