‘দীর্ঘদিন এমপি এনামুলের সাথে থেকেছি। নৌকার পক্ষে শপথ করিয়ে নেয়ার পরেও এখন সেই বিদ্রোহী ভোট করে আমার নিরীহ সাওয়ালকে মেরেছে। নৌকার ভোট করার কারণে আমার মেয়েকে এভাবে মেরে অজ্ঞান করেছে।’
সোমবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজশাহী-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হকের সমর্থকদের হামলায় গুরুতর আহত (অচেতন) অবুঝ শিশু কন্যাকে অ্যাম্বুলেন্সে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়ার সময় ফেসবুক লাইভে এসে বাগমারা উপজেলার হামিরকুৎসা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলম কান্নারত কণ্ঠে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কাঁচির স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হকের বোন বেবি আক্তার ও তার সহযোগী শাফিনুর নাহারসহ কয়েকজন আমার বাড়ির পাশে এসে আমার অবুঝ শিশুটিকে মেরে শেষ করে ফেলেছে। ১৫ বছর এমপি এনামুলের রাজনীতি করেছি। তিনি শিক্ষা দিয়েছেন যে, আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের বাইরে কাউকে না যেতে। তিনি আমাদের নৌকার বিপক্ষে না যাওয়ার জন্য শপথও করিয়েছিলেন। সঙ্গত কারণে আমরা নৌকার বাইরে যেতে পারিনি। তিনি নৌকা প্রতীক না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করছেন। এই ক্ষোভে মহিলাদের দিয়ে আমার মেয়ের ওপর হামলা চালিয়েছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘হায়রে এমপি এনামুল। আপনার জন্য কী করিনি? আপনি হাত জাগিয়ে শপথ করিয়েছেন যে, দলের থেকে যে নির্দেশ আসবে সেই নির্দেশ অনুযায়ী আমাদেরকে কাজ করতে হবে। নৌকাকে বিজয়ী করে ঘরে ফিরতে হবে। এই শপথ করিয়ে নিয়ে আপনি আজ কেন বিদ্রোহী? আজ কেন আমরা মার খাচ্ছি? যেই শাফিনুর আপনার বিরুদ্ধে ঝাটা মিছিল করলো, আপনি তাকে বুকে টেনে নিলেন। আর আপনার যারা পক্ষে ছিলাম তাদের ওপর এবং তার সন্তানদের ওপর হামলা করছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলবো, বঙ্গবন্ধুর নৌকার বিজয়ের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি, আর স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুলের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘মেয়ের ওপর হামলার পর হারিমকুৎসা থেকে মেয়েকে নিয়ে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাই। কিন্তু সেখানে অক্সিজেন লাগিয়ে মেয়েকে নিয়ে এখন রাজশাহী মেডিকেলে যাচ্ছি। আপনারা সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।’
জানতে চাইলে এই আসনে নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আগে এমপি এনামুল ভেবেছিলেন, তিনিই এবারো নৌকা প্রতীক পাবেন। এজন্য তিনি ওই সময় দলীয় নেতাকর্মীদের শপথ করিয়েছিলেন যে, নৌকার বাইরে আপনারা কেউ যাবেন না। নেতাকর্মীরা হাত তুলে শপথ করেছিলেন। যখন এনামুল হক নৌকা পাননি, তখন নেতাকর্মীরা স্বভাবতই নৌকার পক্ষে থাকবেন। এতে উনি ক্ষেপে গিয়ে নৌকার পক্ষের লোকজনের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালাচ্ছেন। বাগমারাকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা করছেন।’
অবুঝ শিশুর ওপর বর্বর হামলার বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হক বলেন, ‘আমার কর্মী-সমর্থকরা কারো ওপর হামলা করছে এটা সত্য নয়। বরং আমার কর্মীদের ওপর কালামের সমর্থকরা হামলা চালাচ্ছে।’
এদিকে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে আ’লীগের নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সোমবার (১ জানুয়ারি) উপজেলার ভবানীগঞ্জ ও আশেপাশের এলাকায় গণসংযোগ করেন।
এসময় তিনি বলেন, নৌকা মানেই উন্নয়ন, নৌকা মানেই সমৃদ্ধি, নৌকা মানেই টেকসই বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী, দেশরত্ন শেখ হাসিনার স্বপ্নের স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণের পথপ্রদর্শক নৌকা। আগামি ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার কাজে অংশ নেয়ার আহবান জানাচ্ছি। বাগমারাবাসীকে আর প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে না। উন্নয়ন না করতে পারলে আমাকে জবাবদিহিতায় নিয়ে আসবেন। আমি কারো স্যার হতে চাই না, আমাকে আপনাদের সন্তান, ভাই হিসেবেই সবসময় পাশে পাবেন। আমাকে নির্বাচিত করেন, ফলাফল আপনাদের হাতে দিবো। তিনি বলেন, উন্নয়নের জন্য নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে। আ’লীগসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষ নৌকা’র পক্ষে কাজ করছে। তারা বুঝে গেছেন উন্নত জীবনযাত্রা মানেই নৌকা।
এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষজন উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/জিকে