৭ কোটি টাকার প্রশাসনিক ভবন নির্মাণে অনিয়ম

হুমায়ুন কবীর ত্রিশাল (ময়মনসিংহ)

সারাদেশ

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা পরিষদের নবনির্মিত প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ত্রিশাল উপজেলা পরিষদ

2024-01-02T07:38:54+00:00
2024-01-02T07:38:54+00:00
 
  রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬,
২১ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
৭ কোটি টাকার প্রশাসনিক ভবন নির্মাণে অনিয়ম
প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে নয়ছয়
হুমায়ুন কবীর ত্রিশাল (ময়মনসিংহ)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৪, ৭:৩৮ এএম 
৭ কোটি টাকার প্রশাসনিক ভবন নির্মাণে অনিয়ম
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা পরিষদের নবনির্মিত প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ত্রিশাল উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রশাসনিক ভবন ও হলরুমের নির্মাণকাজ শুরু হয় গত বছরের মার্চ মাসে। ৬ কোটি ৮২ লাখ টাকার কাজটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৪ সালের জুন মাসে। ভবনটি নির্মাণের জন্য দায়িত্ব পায় মেসার্স এমআই ট্রেডিং অ্যান্ড কোং নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। কার্যাদেশ অনুযায়ী এই ভবনে যে মানের ও মাপের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা ঠিকঠাকভাবে ব্যবহার করছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ব্যবহার করা হচ্ছে নির্ধারিত মানের চেয়ে নিম্নমানের রড, পাথর, ইট ও বালু। 

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকদিন আগে নির্মাণকাজ পরিদর্শন করতে যান উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান। পরিদর্শনের সময় ২০ মিলিমিটার রডের পরিবর্তে ১৬ মিলিমিটার রড ব্যবহারের অনিয়ম দেখতে পান এই সরকারি কর্মকর্তা। স্বচক্ষে এমন অনিয়ম দেখার সঙ্গে সঙ্গে ১৬ মিলিমিটার রড ব্যবহার করে নির্মিত ১২টি আরসিসি পিলার ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান। 

সরেজমিনে দেখা যায়, এই ভবনের পাইলিং ও গ্রেড বিমের কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে নিচতলার আরসিসি পিলার নির্মাণের কাজ। পুরো আরসিসি পিলার নির্মাণে ২০ মিলিমিটার রড ব্যবহারের কথা থাকলেও তিন ফুটের পর থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে ১৬ মিলিমিটার রড। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, নিম্নমানের পাথর, ইট ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। রড ব্যবহারেও চলছে চরম অনিয়ম। এ যেন প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে ডাকাতি! আর এই ডাকাতি করছে খোদ ঠিকাদার।

কথা হয় ভবনের নির্মাণ শ্রমিকদের সঙ্গে। এ সময় তারা জানান, ঠিকাদার নিয়োজিত সুপারভাইজার আমাদের যেভাবে কাজ করতে বলছেন সেভাবেই করছি। পিলারে ২০ মিলিমিটার রড ব্যবহারের কথা থাকলেও ১৬ মিলিমিটার রড কেন ব্যবহার করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে সুপারভাইজার আবদুল হান্নান বলেন, ভুল হয়ে গেছে। যেসব পিলারে ১৬ মিলিমিটার রড লাগানো হয়েছে সেই রডগুলো খুলে ফেলা হবে বলেও জানান মেসার্স এমআই ট্রেডিং অ্যান্ড কোং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার আবদুল হান্নান।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ভবনের ১২টি কলামে (পিলার) ত্রুটি পাওয়া গেছে। তাই সেগুলো ভেঙে ফেলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। ইতিমধ্যে ৯টি কলাম ভেঙে ফেলা হয়েছে। বাকি কলামগুলোও খুব দ্রুত ভেঙে ফেলা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুয়েল আহমেদ বলেন, আমি অনিয়মের কথা জানার পর উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। এই নির্মাণ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে (মেসার্স এমআই ট্রেডিং অ্যান্ড কোং) শোকজ করতেও বলা হয়েছে।  

অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য বারবার চেষ্টা করেও মেসার্স এমআই ট্রেডিং অ্যান্ড কোং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী কামাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সময়ের আলো/জেডআই


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: