নিয়ম অনুযায়ী মোট প্রদত্ত (কাস্টিং ভোট) ভোটের ৮ ভাগ ভোট পেলেই কেবল প্রার্থী জামানত ফেরত পাবেন। সে হিসেবে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাত জন প্রার্থী মধ্যে ভোট যুদ্ধে ৫ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছে। রোববার (৭ জানুয়ারি) কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ খান মেনন ১ লাখ ২১ হাজার ৩৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র এ.কে ফাইয়াজুল হক রাজু (ঈগল) নিয়ে ৩১ হাজার ১৬২ ভোট পেয়েছেন।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা ৫ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে। এই আসনে নির্বাচনে ফলাফলে সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে তৃণমূল বিএনপি'র প্রার্থী আলহাজ্ব মো. শাহজাহান সিরাজ (সোনালী আঁশ) প্রতীকে। দুই উপজেলায় তিনি ১৭৮ ভোট পেয়েছে। অন্যান্য প্রার্থীরা পেয়েছে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নকুল কুমার বিশ্বাস (গামছা) পেয়েছে ১৪২১ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. ইকবাল হোসেন (লাঙ্গল) পেয়েছে ৩৭৩ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মো. মনিরুল ইসলাম মনি (ঢেঁকি) ২২২ ভোট, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী সাহেব আলী রনি (আম) ৫৭৩ ভোট পেয়ে নির্বাচনে জামানত হারিয়েছে। তবে নির্বাচনের এক সপ্তাহ পূর্বে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. ইকবাল হোসেন তাপস সংবাদ সম্মেলন করে ব্যক্তিগত কারণ ও প্রশাসনের পক্ষ পাতমূলক আচরণের কথা উল্লেখ করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। আর নির্বাচনের প্রচারণার শেষ দিনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনি (ঢেঁকি) নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ান। অপর তিন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
নির্বাচনে উজিরপুর-বানারীপাড়া ১৩৬টা কেন্দ্রে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ২৪৬ ভোটের মধ্যে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩৬১ ভোট কাস্ট হয়েছে। বাতিল হয়েছে ২০৫৭ ভোট। কাস্টিং ভোটের হিসেবে অনুযায়ী এ আসনটিতে পাঁচ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে এক জন প্রার্থীর জামানত জমা ছিল ২০ হাজার টাকা। নিয়ম অনুযায়ী এ অর্থ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে।
এই আসনে নির্বাচনের প্রচারণায় পিছিয়ে ছিলো তৃণমূল বিএনপি প্রার্থী শাহজাহান সিরাজ (সোনালী আঁশ) ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) সাহেব আলী রনি (আম)। তবে প্রচার-প্রচারণায় ব্যতিক্রম ছিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী নকুল কুমার বিশ্বাস (গামছা)। তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে ভোটারদের কাছে গানের কথার মাধ্যমে ভোট চেয়েছেন। তাই জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীর মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন। এ নির্বাচনে জামানত হারানো পাঁচ প্রার্থীর এজেন্ট দিতে পারেনি কোন কেন্দ্রে।
সময়ের আলো/আরআই