সূর্যমুখীর সৌন্দর্যে আকৃষ্ট প্রকৃতিপ্রেমীরা, বিপাকে চাষিরা

মেহেরপুর প্রতিনিধি

সারাদেশ

মেহেরপুর জেলায় বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান থাকলেও এ মৌসুমে আমঝুপি বিএডিসির সবজি ও তৈলবীজ উৎপাদন কেন্দ্রের সূর্যমুখী চাষের বৃহৎ প্লটে

2024-01-14T18:52:40+00:00
2024-01-14T19:00:06+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
সূর্যমুখীর সৌন্দর্যে আকৃষ্ট প্রকৃতিপ্রেমীরা, বিপাকে চাষিরা
মেহেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৪, ৬:৫২ পিএম 
সূর্যমুখীর সৌন্দর্যে আকৃষ্ট প্রকৃতিপ্রেমীরা, বিপাকে চাষিরা
মেহেরপুর জেলায় বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান থাকলেও এ মৌসুমে আমঝুপি বিএডিসির সবজি ও তৈলবীজ উৎপাদন কেন্দ্রের সূর্যমুখী চাষের বৃহৎ প্লটে ভিড় জমাচ্ছে সেলফিবাজ ও টিকটকাররা। মৃদু শৈত্য প্রবাহের ফলে সূর্যেও দেখা না মিললেও সূর্যমুখীর রঙ্গে রাঙ্গানো শাড়ি কিংবা সালোয়ার কামিজ পরে ছুটছে বিনোদন প্রেমী সব বয়সের মানুষ। এ যেন এক বিনোদন কেন্দ্র। প্রতিবছরই আশপাশের জেলার লোকজনসহ ছুটে আসছেন এ শস্যখেতটি দেখার জন্য। প্রকৃতির এই অবিরাম সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে প্রতিদিনই সূর্যমুখী ফুলের এই সমারোহ দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন তরুণ-তরুণীরাও। প্রিয়জনদের সাথে সেলফি তুলতে ব্যস্ত সবাই। দর্শনার্থীদের পদচারণয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সূর্যমুখী চাষ। মানুষের ভিড় সামলাতে বসানো হয়েছে পাহারাদার।

বছর জুড়ে নানা ধরনের সবজির বীজ উৎপাদন হয়ে আসছে আমঝুপি বিএডিসির এই ফার্মে। সূর্যমুখীর তেল ও বীজের চাহিদা পূরণের জন্য এই চাষের উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। মোট চার হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে এ তৈলবীজ। কয়েক বছরে সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে কৃষি খামারটি ফুল প্রেমীদের পদচারণয় বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

জেলার আশপাশের কয়েক জেলার মানুষ প্রতিদিন ভিড় করছেন এই সূর্যমুখী বাগানে। পরিবার পরিজন, তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সের মানুষ কিছুটা বিনোদনের জন্য ছুটে আসছেন এই স্থানটিতে। পিছিয়ে নেই টিকটক তৈরি করা যুবক ও যুবতীরা। ভাইরাল হওয়াসহ এত বড় সূর্যমুখী বাগানে বিনোদন খুঁজতে আসছেন তারা।

দু’চোখ যতদূর যায় শুধু ফুলের সমারোহ। এ যেন হলুদ আর সবুজের মিলন মেলা। সূর্যোদয়ের সময় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে এই ফুলটি। দিন দিন বিনোদনের স্থানগুলো সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে, মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে বিনোদন থেকে কিন্তু নতুন করে প্রকৃতির মাঝে এমন সৌন্দর্য পরিবার পরিজন নিয়ে দেখতে এসে খুশি দর্শনার্থীরা। ঘুরে ঘুরে দেখছে সূর্যমুখী ফুলের সমারোহ। এমন সৌন্দর্যে ছবি ও ঘুরতে পেরে বেশ খুশি তারা। অন্যদিকে দর্শনার্থীদের পদচারণয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সূর্যমুখী বাগান।

সূর্যমুখী দেখতে আসা গোপালপুর গ্রামের রিমি খাতুন জানান, ফেসবুক বন্ধুদের ওয়ালে এই খামারের সূর্যমুখী জমির ছবি দেখে ঘুরতে এসেছি। খুবই ভালো লাগছে কনকনে শীতেও ঘুরতে এসে দেখি অনেক মানুষের ভিড়। বন্ধু বান্ধবীদের সাথে সেলফি তোলা ছাড়াও ঘোরাঘুরি করা হচ্ছে। বেশ ভালই লাগছে। একই কথা জানালেন গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রমজান আলী ও তার সহধর্মিণী লাকী খাতুন।

চুয়াডাঙ্গা থেকে ঘুরতে আসা পলাশ উদ্দীন জানান, বেশ কয়েকজন মিলে আমঝুপি নীলকুঠি ও মুজিবনগরে এসেছিলেন। অনেকের মুখেই সূর্যমুখীর বাগানের সৌন্দর্যের কথা শুনে পেয়ে বেড়াতে আসা। শুধু বিনোদন কেন্দ্রই নয়, এটি ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণ করবে বলেও মন্তব্য করেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক টিকটকার জানান, আগেও সূর্যমুখী ফুলের এই বাগানের নাম শুনেছিলাম কিন্তু দেখা হয়নি। এবার এই ফুলের সান্নিধ্য পেয়ে খুব ভালো লাগছে তাদের। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বাগান দেখে আসছেন তারা। এখানে এসে বেশ ভালো লাগছে।

আমঝুপি বিএডিসি ফার্মের পাহারাদার আমিরুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন কয়েক হাজার লোকের সরগম হয় এই ফুল বাগান দেখতে। ৫ জন পাহারায় থেকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। ফুল ফোটার আগ থেকেই বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষের সমাগম শুরু হয়। সকলেই এখানে আসেন এক চিলতে বিনোদনের জন্য। অনেক সময় ক্ষেতের ভিতরে ঢুকে সেলফি ও ছবি তোলার কারণে ক্ষেতের ক্ষতি হচ্ছে। তারপরও বিনোদনের জন্য এখানে আসায় কিছুটা সহ্য করতে হচ্ছে।

মেহেরপুর আমঝুপি বিএডিসি ফার্মের উপ-সহকারী পরিচালক আবু তাহের সরদার জানান, সূর্যমুখীর এই বীজ শুধুমাত্র বাংলাদেশেই নয় বরং বিদেশেও এই বীজ রপ্তানি করা সম্ভব। সূর্যমুখীর তেল ও বীজের চাহিদা পূরণের জন্য এই চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিনোদনের জায়গা কম থাকায় এই বাগানটিতে উপচে পড়া ভিড় হচ্ছে দর্শনার্থীদের। এখানে এসে অনেকে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন সূর্যমুখী চাষে।

সময়ের আলো/আরআই



  বিষয়:   বিএডিসির সবজি  তৈলবীজ উৎপাদন  সূর্যমুখী চাষ  মেহেরপুর 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: