গাইবান্ধায় তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা শুরু হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার মাঠেরহাট এলাকায় এ ইজতেমার আয়োজন করে জেলা তাবলিগ জামায়াত।
বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। তিনদিন ব্যাপী গাইবান্ধা জেলা ইজতেমায় ভোর রাত থেকেই বিপুল সংখ্যক মুসল্লির আগমন ঘটে।
এ ইজতেমায় মূলত গাইবান্ধা জেলায় বসবাসকারী মুসল্লিরা অংশ নিয়েছেন। মেহমান হিসাবে রয়েছেন রংপুর, কুড়িগ্রামসহ পাশ্ববর্তি জেলাসমূহের তাবলীগ জামায়াতের মুরুব্বিরা।
এ ছাড়া ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আসা কয়েকটি তাবলীগ জামায়াতের সদস্যরা এই ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। প্রথম দিনে কাকরাইল মসজিদের মুকিম আব্দুল আজিজ, অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি রুহুল আমিন, কাকরাইল মসজিদের জিম্মাদার মুফতি ওসামা ইসলাম ও ভারতের হেদায়েত খান বয়ান করেন।
আগামী শনিবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ইজতেমা শেষ হবে।
গাইবান্ধা জেলা ইজতেমা পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক শাহজাহান কবির জানান, জেলাভিত্তিক আঞ্চলিক ইজতেমার অংশ হিসেবে গাইবান্ধায় এ আয়োজন করা হয়েছে। ইজতেমা মাঠে বিশাল শামিয়ানা স্থাপন করে মুসল্লিদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ ছাড়া অস্থায়ী টয়লেট, অজু ও গোসলের জন্য পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইজতেমায় অংশগ্রহণের জন্য গাইবান্ধা জেলা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে মুসল্লিরা ময়দানে এসে সমবেত হয়েছেন। এ ছাড়া ইজতেমায় তাবলিগ জামাতের মুরুব্বিরাও অংশগ্রহণ করেছেন।
তিনি আরও জানান, এবারের ইজতেমায় ইসলামি জীবন বিধান ও ধর্মের আলোকে বয়ান করবেন তাবলিগ জামাতের মুরুব্বি ঢাকা থেকে আগত মুফতি মাওলানা আজিমুদ্দিন, মুফতি মাওলানা আজিজসহ কয়েকজন।
গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. কামাল হোসেন জানান, ইজতেমা ময়দানে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। সব মিলে ইজতেমা ঘিরে যেকোনও ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন। যাতায়াতের রাস্তায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ট্রাফিক সদস্যরা কাজ করছেন।
সময়ের আলো/জিকে