গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে হাজারো মুসল্লির কণ্ঠে ‘আমিন আমিন’ ধ্বনিতে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো তাবলীগ জামায়াতের তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা। শনিবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
মোনাজাতে দূর দূরান্ত থেকে আসা হাজার হাজার মুসল্লি অংশ নেন। মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যসহ দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনার মধ্য দিয়ে জেলা ইজতেমার সমাপ্তি ঘটে।
জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার মাঠেরহাট এলাকায় এ ইজতেমার আয়োজন করে জেলা তাবলীগ জামায়াত। তিন দিনব্যাপী ইজতেমার শেষ দিন আজ (শনিবার) দুপুরে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ধর্মপ্রাণ প্রায় অর্ধ লাখ মুসল্লি। দীর্ঘ ৩৫ মিনিটের আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন রাজধানীর কাকরাইল জামে মসজিদের মুরুব্বী মুফতি আজিমউদ্দিন সাদ। এসময় মুসল্লিরা সৎ ও ন্যায়ের পথে থেকে ইসলামের সুশান্তির বাতাস বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে আল্লাহর কাছে আকুতি জানান।
এরআগে ভোর থেকেই আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ইজতেমা ময়দানে জড়ো থাকেন। হাজার হাজার মুসল্লির সাথে হাত তুলে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানাতে দূর-দূরান্তের মুসল্লিরা ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা, বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানে করে যে যেভাবে পেরেছেন ছুটে আসেন। সকাল ১০টার পর ইজতেমার মূল প্যান্ডেল কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। ইজতেমা ময়দান উপচে কৃষি জমি, রংপুর-ঢাকা মহাসড়কসহ আশপাশের বসতবাড়ি, ছাত্রাবাস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভরে যায় মানুষে মানুষে। মোনাজাতে কেউবা মস্তক অবনত করে কেউ কেউ আকাশ পানে হাত উঁচিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। পরে মোনাজাত শেষে মানুষের জনসমুদ্রে দীর্ঘ যানজটে তৈরি হয় বাড়ি ফেরার যুদ্ধ।
আগত মুসল্লিদের যাতায়াত নিরাপদ করতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাসহ তাবলীগ জামাতের স্বেচ্ছাসেবক কর্মীরা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এ ইজতেমায় মূলত গাইবান্ধা জেলায় বসবাসকারী মুসল্লিরা অংশ নিয়েছেন। মেহমান হিসাবে রয়েছেন রংপুর, কুড়িগ্রামসহ পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহের তাবলীগ জামায়াতের মুরুব্বিরা। এছাড়া ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আসা কয়েকটি তাবলীগ জামায়াতের সদস্যরা এই ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
গাইবান্ধা জেলা ইজতেমা পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক শাহজাহান কবির জানান, জেলা ভিত্তিক আঞ্চলিক ইজতেমার অংশ হিসেবে গাইবান্ধায় এ আয়োজন করা হয়। ইজতেমা মাঠে বিশাল শামিয়ানা স্থাপন করে মুসল্লিদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া অস্থায়ী টয়লেট, অজু ও গোসলের জন্য পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। ইজতেমায় অংশগ্রহণের জন্য গাইবান্ধা জেলা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে মুসল্লিরা ময়দানে এসে সমবেত হন। এ ছাড়া ইজতেমায় তাবলীগ জামাতের মুরুব্বিরাও অংশগ্রহণ করেন।
তিনি আরও জানান, এবারের ইজতেমায় ইসলামি জীবন বিধান ও ধর্মের আলোকে বয়ান করেন তাবলীগ জামাতের মুরুব্বি ঢাকা থেকে আগত মুফতি মাওলানা আজিমুদ্দিন, মুফতি মাওলানা আজিজসহ কয়েকজন।
সময়ের আলো/আরআই