কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীর থেকে অবৈধভাবে বাল-মাটি উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। এ কারণে হুমকিতে রয়েছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। এসব বালু ট্রাক্টরে পরিবহন করায় নষ্ট হতে বসেছে গ্রামীণ সড়ক। বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের ফলুয়ারচর ফেরিঘাটের ৩০০গজ দূরে দক্ষিণ পাশে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ফসলি জমির মাঝখান থেকে ভেকু দিয়ে অবৈধভাবে বালু-মাটি তুলছেন। এসব বালু ট্রাক্টরে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছেন বালু ব্যবসায়ীরা। এতে নদের তীরে ফসলি জমিতে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। বালু উত্তোলনের কারণে ধসের সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। ফলে আগাম বন্যায় ব্রহ্মপুত্রের তীরবর্তী ফলুয়ার চর, পালের চর ও কুটির চর এলাকা অতি সহজে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ব্রহ্মপুত্রের তীরবর্তী এলাকা ফলুয়ার চরের বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীরা কাউকে কোনো প্রকার তোয়াক্কা না করেই বালু তোলা অব্যাহত রেখেছেন। দিনরাত ট্রাক্টরে বালু-মাটি পরিবহন করায় গ্রামীণ সড়কগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। আবার বালু তোলার কারণে ব্রহ্মপুত্রের তীরবর্তী ফসলি জমি ও বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়েছে।
তারা আরও জানান, বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে অভিযোগ করে মেলেনি কোনো প্রতিকার। মাঝে মধ্যে প্রশাসন থেকে অভিযান চালানো হলেও কিছুদিন পর আবারও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। এমন অবস্থা বিরাজ করলে আগামি দু’তিন বছরের মধ্যে নদের পাশের ফসলি জমি, বাড়িঘর ও ভিটে মাটি ব্রহ্মপুত্রে গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনের ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, ব্রহ্মপুত্রের তীরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ফসলি জমি ও নদের পাড়ের বসতবাড়ি এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ব্রহ্মপুত্রে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙন রোধে প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার ব্যাংক ও জিও ব্যাগ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া অবাধে বালু তোলার কারণে ব্রহ্মপুত্রের তীরবর্তী অনেকে ভিটেমাটি হারিয়ে পথে বসেছেন।
বন্দবেড় ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বিপ্লব হোসেন ফরিদের ভাষ্য, ফলুয়ার চরের ব্রহ্মপুত্রের তীরে যারা বালু তুলেন ও বালু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট খুবই শক্তিশালী। কোনোক্রমেই তাদের দমন করা সম্ভব হচ্ছে না। তারা মানছেন না কোনো বাধাই। অবাধে তুলছেন বালু।
রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, ট্রাক্টর দিয়ে অবাধে রাস্তা-ঘাটে উন্মুক্তভাবে বালি মাটি পরিবহন করা হচ্ছে। এ কারণে অন্যান্য উপজেলার তুলনায় রৌমারীতে বেড়েই চলছে শ্বাসকষ্ট রোগির সংখ্যা। বিশেষ করে শিশুরা এ রোগে ভুগছে বেশি।
কথা হয় রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে বেশ কয়েকটি অভিযান দেওয়া হয়েছে। আগামিতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সময়ের আলো/আরএস/