ট্রেনের টিকিট কালোবাজারিতে আবারও সহজ ডটকমের নাম উঠে এসেছে। সহজ ডটকম, রেলস্টেশনে কর্মরত অসাধু কর্মচারী, সার্ভার রুম ও আইটি সদস্যদের সহযোগিতায় ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করতো চক্র।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৩ সদস্যরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা প্রায় এক হাজার ২২৪টি ট্রেনের টিকিটসহ নগদ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক টিকিট কালোবাজারির মাধ্যমে সংগ্রহ করার পর বেশি দামে বিক্রি করত এই চক্রটি। টোকাইদের লাইনে দার করিয়ে সংগ্রহ করে ৪ টিকিটের জন্য দেওয়া হতো ১০০ টাকা করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কালোবাজারি একটি সিন্ডিকেটের মূলহোতা মো. সেলিম, প্রধান সহযোগী আনোয়ার হোসেন ওরফে কাশেম, অবনী সরকার সুমন, হারুন মিয়া, মো. মান্নান, মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে ডাবলু, মো. ফারুক, শহীদুল ইসলাম বাবু, মো. জুয়েল ও আব্দুর রহিম।
শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান, র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, কমলাপুর রেলস্টেশনে সেলিম ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে উত্তম সিন্ডিকেটের মূলহোতা উত্তম। তাদের নেতৃত্বে এই চক্রটি সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন ধরে মহানগর প্রভাতি, তূর্ণা নিশীথা, চট্টলা এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপকূল এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, কালনী এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করে আসছিল। এরা রেলস্টেশনের কুলি, স্টেশনের আশপাশের এলাকার টোকাই, রিকশাওয়ালা ও দিনমজুরদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট সংগ্রহ করত। এই ক্ষেত্রে তাদের প্রত্যেককে চারটি করে টিকিট সংগ্রহ করার বিনিময়ে ১০০ টাকা করে দেওয়া হতো।
কমান্ডার আল মঈন আরও জানায়, কাউন্টারে থাকা কিছু অসাধু টিকিট বুকিং কর্মচারীদের দিয়ে বিভিন্ন সাধারণ যাত্রীদের টিকিট কাটার সময় দেয়া এনআইডি সংগ্রহ করে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে সেগুলো ব্যবহার করে সংরক্ষণকৃত প্রতিটি এনআইডি দিয়ে চারটি করে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করে। এভাবে তারা প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক টিকিট সংগ্রহ করত। আবার অনেক ক্ষেত্রে টিকিট কাউন্টারে নিজেরা লাইনে দাঁড়িয়ে এবং কৌশলে লাইনে অপেক্ষমাণ টিকিট প্রত্যাশী সাধারণ যাত্রীদের এনআইডি ব্যবহার করে চারটি টিকিট ক্রয় করে তিনটি টিকিট নিজেরা তার কাছ থেকে টাকা দিয়ে কিনে নিত।
এছাড়া ঈদ, পূজা, সাপ্তাহিক ছুটিসহ বিশেষ ছুটির দিনকে উপলক্ষ করে গ্রেফতারকৃতরা রেলস্টেশনে কর্মরত কিছু অসাধু কর্মচারী এবং অনলাইনে টিকিট কেনার জন্য ব্যবহৃত ভেন্ডার প্রতিষ্ঠান সহজ ডটকমের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সার্ভার রুম/আইটি-এর সদস্যদের সহযোগিতায় তাদের কাছে সংরক্ষিত জনসাধারণের এনআইডির তথ্য ব্যবহার করে এমনকি সার্ভার ডাউন করে তারা অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করত। পাশাপাশি গ্রেফতারকৃতরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দিয়ে অনলাইনে টিকিট কেটে সেগুলো তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করত।
খন্দকার মঈন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এই রুটে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ও ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ নামের দুটি ট্রেন যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ এই ভ্রমণে নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রার জন্য এ রুটে ট্রেনের টিকিটের ব্যাপক চাহিদা দেখা দেয়। আর টিকেটের চাহিদা বেশি থাকায় টিকিট কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্যও বেড়ে যায়। অনলাইনে বা কাউন্টারে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে যায় এই রুটের ট্রেনের টিকিট। কিন্তু কালোবাজারিদের কাছে ২-৩ গুণ দামে টিকিট বিক্রি হতে দেখা যায়।
তিনি বলেন, চাহিদা অনুযায়ী টিকিট না পাওয়ার এবং টিকিট কালোবাজারিরা বেশি দামে টিকিট বিক্রির বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচিত হয়। ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি প্রতরোধ ও কালোবাজারিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে এই অভিযান চালানো হয়।
সময়ের আলো/এম