রাজধানীর আদাবরে এক দম্পতিকে জিম্মি করে চাঁদা আদায় চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে চাঁদাবাজ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। রোববার (২৯ ডিসেম্বর) রাত ১০টায় আদাবর থানার মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি ১০ নম্বর রোডের ১১/১ বাসায় এ ঘটনা ঘটে। জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ এর মাধ্যমে তথ্য পেয়ে পুলিশ রাত দেড়টার দিকে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে ঘটনাস্থলে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন- মো. জসীম (৩৩), জিহাদুল ইসলাম শুভ (১৯) ও মো. ফয়সাল (১৮)।
ভুক্তভোগী ইকবাল হোসেন জানান, আমি মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি এলাকার ১০ নম্বর রোডের ১১/১ নম্বর বাচ্চু মিয়ার বাসায় ভাড়া থাকি। একই এলাকার রিপন মিয়ার নেতৃত্বে গতকাল (রোববার) রাত ১০টায় আমার বাসায় সন্ত্রাসী স্টাইলে ১৫-২০ জন লোক প্রবেশ করে। তখন তারা আমার খাটের ওপর বসে সিগারেট ধরায়। এ সময় আমার স্ত্রী ও আমাকে দুইজনকে মারধর শুরু করে বলতে থাকে, তোরা বিয়ে ছাড়া একসঙ্গে থাকিস। এখন তোদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দিবো।
তিনি আরও জানান, এমন কথা বলে আমাদের প্রচণ্ড মারধর করতে থাকে আর বলতে থাকে আমাদের ২০ হাজার টাকা দে। তাহলে সব সমস্যার সমাধান করে দিবো। তখন আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে আলাদা করে অন্য জায়গায় নিয়ে যায়।
ইকবাল বলেন, আমরা সাত মাস আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছি। আমি নবদয় হাউজিং এলাকা একটি খাবার হোটেলে কাজ করি। আমার স্ত্রী ডে কেয়ার সেন্টারে কাজ করে। গ্রামের বাড়ি থেকে কাবিনের কাগজের ছবি তুলে তাদের পাঠানো হয়। তখন তারা বলে এটা ভুয়া কাবিন। এরপর আমাদের বিয়া পড়ানো কাজীর সঙ্গে কথা বলিয়ে দেই তাকেও তারা নানা ধরনের হুমকি দিতে থাকে। পরবর্তীতে পুলিশ আসলে তারা কাবিনসহ সকল তথ্য যাচাই করে আমাদের বিয়ের সত্যতা পায়।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী পিংকি আক্তার জানান, আমি বাসায় প্রবেশ করে কাপড় পরিবর্তন করছিলাম। এ সময় ৫-৭ জন বাসায় প্রবেশ করে আমার কাপড় ছিনিয়ে নিয়ে আমাদের মারধর শুরু করে। পরে আমাকে আমার স্বামী থেকে আলাদা করে নানা ধরনের কুপ্রস্তাব দিতে থাকে। তখন আমাকে বলে, ২০ হাজার টাকা দে। না হয় আমরা তোর ক্ষতি করবো।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আমরা থানা পুলিশকে ফোন দিলে তারা এসে আমাদের উদ্ধার করে। সকালে আমরা থানায় গিয়ে এ ঘটনায় একটা মামলা দায়ের করি।
সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে আদাবর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম জাকারিয়া বলেন, একটি নবদম্পতি পরিবারকে গতকাল (রোববার) রাতে জিম্মি করে চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা চাঁদা আদায় করার চেষ্টা করে। এ সময় আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে আটক করি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা দায়ের করেছে। আমরা আটক তিনজনকে ইতিমধ্যে আদালতে পাঠিয়েছি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের গ্রেফতার করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/আরআই