পরকীয়ার জের ধরে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে হাফিজা খাতুন নামের এক নার্সকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যা করেছে প্রেমিক কবির হোসেন। চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে মা নার্সিং হোম এ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দায়িত্বরত অবস্থায় হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে ধারালো অস্ত্রসহ পুলিশ গ্রেফতার করে। নিহতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের সমসের হোসেনের মেয়ে হাফিজা খাতুন (৩৫)। তার ২০ বছর আগে ঝিনাইদহ জেলায় বিয়ে হয়েছিল শহিদুল ইসলামের সাথে। পারিবারিক কলহের কারণে ডিভোর্স হয় তাদের। এরপর হাফিজা খাতুন পিতার বাড়ি চলে আসেন। প্রায় ৯ বছর আগে জীবননগর বাসস্টান্ড এলাকায় মা নার্সিং হোম এ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নার্স হিসাবে চাকরি করতেন। সেখানেই তিনি থাকতেন।
মা নার্সিং হোম এ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মেরামত কাজ করার সময় টাইলস মিস্ত্রি জীবননগর বালিহুদা গ্রামের কবির হোসেনের সাথে পরিচয় হয়। এরপর উভয়ে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। টাকা নিয়ে উভয়ের মধ্য বিরোধ দেখা দেয়। গতকাল শনিবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে উভয়ের মধ্য বিরোধ হয়। রাতে ক্লিনিকের দোতলায় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যা পর পালিয়ে যায় কবির হোসেন।
কবির হোসেন ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে জীবননগর বাসস্টান্ড এলাকা থেকে আটক করে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা সমসের হোসেন বাদী হয়ে শনিবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে একজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। হাফিজা খাতুনের মেয়ে ও ছেলে সন্তান রয়েছে। মেয়ের বেশ কয়েক বছর আগে বিয়ে হয়।
নিহতের পিতা সমসের হোসেন বলেন, মেয়ের বিয়ের বিষয় আমরা জানতাম না। মেয়ের কাছে অনেক টাকা থাকতো। সেই টাকা নিতেই এ হত্যাকাণ্ড হতে পারে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজিম উদ্দিন আল-আজাদ বলেন, পরকীয়া প্রেমের কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে গ্রেফতার কবির হোসেন জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন। বিকালে তাকে আদলতে সোপর্দ করা হবে। হত্যার কাজে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
সময়ের আলো/আরআই