পুরাতন বাঁধের গোঁড়া কেটে নতুন বাঁধের সংস্কার কাজ চলছে পুরো দমে। এতে করে ফসল রক্ষার পরিবর্তে বাঁধটি আরো দুর্বল হয়ে পড়ছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে এটি ভাঙ্গার সংশয়ে দিন পার করছেন স্থানীয় কৃষকসহ সাধারণ মানুষ। তারা বলছেন, পুরাতন বাঁধের গোঁড়া কেটে নিয়ে নতুন বাঁধে দেয়া মানে টাকা হরিলুট।
অপরদিকে খাতা কলমে পিআইসি কমিটি থাকলেও তারা জানে না কি কাজ হচ্ছে। এতে করে কৃষকের কোন কাজে আসবেনা এই প্রকল্প, বরং পুরাতন বাধঁ আরো দুর্বল হবে বলে জানান স্থানীয়রা।
ঘটনাটি ঘটেছে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের উদয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ফসল রক্ষা বাঁধে। এই বাধেঁর সংস্কার কাজ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
বাঁধ সংস্কারে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) কমিটি গঠন করা হলেও কমিটির সভাপতি এবং সদস্য সচিব কত মিটার বাঁধ, কত টাকায় সংস্কার হবে তা জানেন না।
কমিটির সদস্য সচিব বলছেন, কমিটিতে থাকলেও উনারা স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে কাজ করছেন। আর ইউপি সদস্যদের দাবী বাঁধ সংস্কার কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিবই সব কিছু করছেন।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ৯টি পিআইসি গঠনের মাধ্যমে ১২.৫৫ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। যার প্রস্তাবিত বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৯০ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা।
সরেজমিনে বদলপুর ইউনিয়নের উদয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন বাঁধে দেখা যায়, ৭ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৮৫ মিটার বাঁধ সংস্কারের কাজ চলছে। টাঙ্গানো হয়নি কোন ধরনের সাইনবোর্ড। সেখানে পাওয়া যায়নি দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা কিংবা পিআইসি কমিটির সভাপতি বা সদস্য সচিব।
এসময় আলাপকালে এক্সোভেটোর চালক জানান, স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য অরুন তালুকদার তাদেরকে বাঁধের কাজ করার জন্য নিয়ে এসেছেন।
এসময় দেখা যায় বাঁধের সংস্কার কাজে বাঁধের গোঁড়ার মাটি কেটে বাঁধেই সেই মাটি ফেলা হচ্ছে। এতে করে বাঁধটি দুর্বল হয়ে আগামী বর্ষা মৌসুমে এটি ভাঙ্গার সংশয়ে দিন পার করছেন স্থানীয় কৃষকসহ সাধারণ মানুষ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসী জানান, বাঁধের গোঁড়া কেটে যদি বাঁধ মেরামত করা হয় তবে সেই বাঁধের কি দরকার? কাজের পূর্ণ বিবরণী সাইনবোর্ড টাঙ্গানোর কথা থাকলেও সেখানে কোন ধরনের সাইনবোর্ড টাঙ্গানো হয়নি। তাই আমরা পরিপূর্ণ কাজ নিয়ে সংশয়ে আছি।
হাওরের ফসল রক্ষা নীতিমালা অনুযায়ী, ৫০ মিটার (১৬৭ ফুট) দূর থেকে মাটি তোলার কথা থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি এই নিয়ম মানছেন না। তারা বাঁধের মাত্র ৮-১০ মিটার দুর থেকেই মাটি তুলেছেন।
উদয়পুর বাঁধের পিআইসি কমিটির সভাপতি নরেশ চন্দ্র দাস ও সদস্য সচিব গোপেশ চন্দ্র দাস জানান, আমরা স্থানীয় ইউপি সদস্য অরুন কুমার তালুকদারকে দিয়ে কাজ করাচ্ছি। কত মিটার কাজ তা আমরা বলতে জানি না।
এদিকে অরুন কুমার তালুকদার কাজের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কাজ পিআইসি কমিটির লোকজন করেছেন।
এবিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হবিগঞ্জ জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাইন মাহমুদ আজ (সোমবার) দুপুরে দৈনিক সময়ের আলোকে জানান, বাঁধ সংস্কারে অনিয়মের কোন সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া পিআইসি গঠনে অনিয়ম হয়ে থাকলে আমরা সরজমিনে গিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিকে নিয়ে এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সময়ের আলো/আরআই