মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত চলমান রয়েছে। প্রতিদিনই সেখানে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গত এক সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে মিয়ানমারের ওপারে চলা গোলাগুলি ও মর্টালশেলের প্রকম্পিত শব্দে টেকনাফ সীমান্তে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায়ও মর্টালশেলের আওয়াজে প্রকম্পিত হয়েছে টেকনাফ সীমান্তের উলুবনিয়া ও খারাইংগা ঘোনা এলাকা।
বুধবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কোনো ধরণের গোলাগুলির শব্দ শুনা যায়নি।
টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার জালাল আহমদ বলেন, আজ (বুধবার) সারাদিন গোলাগুলির আওয়াজ শুনা যায়নি, তবে সীমান্তের লোকজন খুবই আতঙ্কে রয়েছে। বলা যায় না, কখন আবারো শুরু হয় গোলাগুলি। তবে মিয়ানমারের এমন সংঘাতময় পরিস্থিতিতে সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের আশংকা রয়েছে।
এদিকে সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টহল জোরদার ও নজরদারি বাড়িয়েছে কোস্টগার্ডের সদস্যরা। কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লেঃ কমান্ডার লুৎফুল লাহিল মাজিদ এর নেতৃত্বের সীমান্তের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কোস্টগার্ড জানান, মিয়ানমারে চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে টেকনাফ সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টহল এবং নজরদারি জোরদার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানায়, পার্শ্ববর্তী দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় বাংলাদেশের উপকূলবর্তী সীমানায় যাতে বিরূপ প্রভাব না পড়ে এজন্য সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। সম্প্রতি মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী এবং আরাকান আর্মির মধ্যে অব্যাহত সংঘাত ও গোলাগুলির ঘটনায় আতংকে রয়েছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী উপকূলের বাসিন্দারা। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে মানব পাচার, চোরাচালান, মাদকদ্রব্যের অবৈধ অনুপ্রবেশসহ নতুনভাবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

এরই প্রেক্ষিতে সমুদ্রে সার্বক্ষণিক টহল, জাহাজ মোতায়েনসহ টেকনাফ হতে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত দিন রাত নিয়মিত অত্যাধুনিক হাইস্পিড বোটের মাধ্যমে টহল পরিচালনা করছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এছাড়াও টেকনাফ, শাহপরী, বাহারছড়া ও সেন্টমার্টিনে বর্তমানে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেকোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবং দেশের মানুষের জান-মালের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বিধানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সদা প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান বিজ্ঞপ্তিতে।
সময়ের আলো/আরআই