ওপারে চলছে গোলাগুলি, এপারে বন্ধ চাষাবাদ

কক্সবাজার প্রতিনিধি

সারাদেশ

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সামরিক বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান সংঘর্ষে হালকা ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। গোলাবারুদের বিস্ফোরণের শব্দে কম্পিত

2024-02-02T00:54:24+00:00
2024-02-02T00:54:24+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
ওপারে চলছে গোলাগুলি, এপারে বন্ধ চাষাবাদ
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১২:৫৪ এএম 
ওপারে চলছে গোলাগুলি, এপারে বন্ধ চাষাবাদ
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সামরিক বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান সংঘর্ষে হালকা ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। গোলাবারুদের বিস্ফোরণের শব্দে কম্পিত হচ্ছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু, বাইশারী, ফাত্রাঝিরি, রেজু আমতলী, গর্জনবনিয়াসহ সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলো। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফাটল ধরেছে মাটি দিয়ে তৈরি ঘরের দেয়ালে। মাঝেমধ্যে গুলি ও খোসা এসে পড়ছে স্থানীয়দের বসতঘরে। ফলে কোনো কাজে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।

এদিকে ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রুর কৃষকদের বেশিরভাগ ফসলিজমি সীমান্ত লাগোয়া। সংঘাত মিয়ানমারের অভ্যন্তরে হলেও দুই পক্ষের ছোড়া গুলি ও খোসা মাঝেমধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে স্থানীয়দের বসতবাড়ি ও জমিতে এসে পড়ছে। এ ছাড়া সীমান্তের খুব কাছাকাছি মিয়ানমার জান্তাবাহিনী হেলিকপ্টার টহল দিচ্ছে। এতে সীমান্ত লাগোয়া জমিতে চাষাবাদের কাজে যেতে ভয় পাচ্ছেন তুমব্রু এলাকার সীমান্তবর্তী কৃষকরা।

বান্দরবান জেলার প্রায় ৪৬৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে ঘুমধুমের সঙ্গে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সীমানা ১৫ কিলোমিটারেরও বেশি। এ ইউনিয়নের জনসংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার। এ সীমান্তেই এক মাসের বেশি সময় ধরে গোলাগুলি হচ্ছে, মর্টার শেল থেকে গোলা ছোড়া হচ্ছে। পাশাপাশি হেলিকপ্টার থেকেও ছোড়া হচ্ছে গুলি। এতে ঘুমধুম, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর, দোছড়ি ও বাইশারী ইউনিয়নের অন্তত ২২ হাজার মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন তুমব্রু বাজার ও আশপাশের এলাকার মানুষ। ৩৩-৩২ নম্বর পিলার এলাকার মানুষের চাষাবাদ এখন পুরোপুরি বন্ধ। ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা। জনমানবহীন হয়ে পড়েছে বাজারগুলো। দোকানে তেমন বিক্রিও নেই। তাই অনেকেই বন্ধ রেখেছেন দোকানপাট। কখন যেন উড়ে এসে পড়ে গোলা-এমন আতঙ্ক সবখানে।

তুমব্রুর স্থানীয় চা দোকানি বশর সময়ের আলোকে বলেন, গত রাতেও ৯ বার ভারী গোলার শব্দ ভেসে এসেছে। মানুষ প্রতিদিন এমন শব্দ শুনে শুনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাই তেমন সাড়া নেই। তবে স্কুলশিক্ষার্থী বা শিশুরা ভয় পায়। তিনি আরও জানান, দোকানের বিক্রি একেবারেই কমে গেছে। মানুষজন তেমন বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। কিছুক্ষণ পরপর টহল দিচ্ছে বিজিবি। মানুষকে সতর্ক করছে, যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

তুমব্রু বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির নেতা হামিদুল ইসলাম জানান, গোলাবর্ষণের খবরে বিভিন্ন কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা এখন আর আসছেন না। ফলে পণ্য সংকটও বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
প্রশাসন থেকে বারবার জানানো হচ্ছে, এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রায় এক মাস ধরে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে উত্তেজনা চলছে। সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার থেকে মর্টার শেল, গোলাগুলিসহ বিভিন্ন ভারী অস্ত্রের আওয়াজে এপারের ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু ও বাইশারী এলাকার মানুষ দিন কাটাচ্ছে আতঙ্কে। বেশ কয়েকবার মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পাহাড় থেকে ছোড়া মর্টার শেল বাংলাদেশের ভূখণ্ডেও এসে পড়েছে।

গত ২৮ জানুয়ারি সীমান্তের খুব কাছাকাছি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ৪টি হেলিকপ্টার চক্কর দিতে দেখা যায়।
এদিকে চলমান সংঘর্ষের মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিয়ানমারের ভেতর থেকে একটি মর্টার শেলের খোসা এসে পড়েছে তুমব্রুর পশ্চিমকূলের স্থানীয় বাসিন্দা বাহাদুল্লাহর বসতবাড়ির উঠানে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, সংঘর্ষ যেহেতু সীমান্তের কাছাকাছি, তাই পরিষদের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের সীমান্ত সংলগ্ন জায়গাজমিতে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

সময়ের আলো/আরএস/ 



Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: