গাজীপুরের কালিয়াকৈরের আটাবাহ ইউনিয়নের দক্ষিণপাকুল্লা গ্রামে সুর্যভানু নামের ৭০ বছর বয়সী এক বিধবা বৃদ্ধার শেষ সম্বল স্বামীর রেখে যাওয়া ১৮ শতাংশ জমি দখল করে নেওয়ার পায়তারা করছে স্থানীয় মাতব্বরগণ। জমি দিতে রাজি না হওয়ায় বন্ধ করে দিয়েছে তার ক্ষেতের পানি দেওয়া। মাতব্বরদের দাবি, জমি লিখে না দিলে ক্ষেতে পানি দিতে দেওয়া হবেনা।
বিধবা সুর্যভানু কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী চার কন্যা সন্তান ও কিছু ভিটি ও ধানের জমি রেখে মারা যান। অভাবের সংসারে সামান্য সম্বল শুধু ঐ জমি টুকু। বছরে ঐ জমি চাষ করে যে কয় মন ধান পাওয়া যায় তা বিক্রি করে এবং মানুষের বাড়ি কাজ করে যে টাকা পান তাই দিয়ে সবার চাহিদা মিটান। কিন্তু এলাকার মাতব্বররা আমার ওই জমি লিখে দিতে বলে। জমি লিখে না দেওয়ায় আমার ক্ষেতের পানি দেওয়ার পথ আটকিয়ে দিয়েছে। সময় শেষ এখনো ধানের চারা রোপণ করতে পারিনাই পানির কারণে। ধান চাষ করতে না পারলে এবার না খেয়ে মরতে হবে।
জানা যায়, উপজেলার আটাবহ ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাকুল্লা গ্রামের মৃত ফকির চাঁনের স্ত্রী ও চার কন্যা সন্তান রেখে মারা গেছেন। তার কোন ছেলে সন্তান নেই। মৃত্যুর আগে ভিটে বাড়ির পাশে ১৮ শতাংশ জমি রেখে যায়। স্ত্রী সুর্যভানু ওই জমিতে ধান রোপণ করে এবং এলাকার মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে যা টাকা পায় তা দিয়ে সংসারের খরচ বহন করে। কিন্তু এলাকার মাতব্বর লেহাজ উদ্দিন, হারেজ মিয়া, আলাউদ্দিন, সায়েদ মিয়া ,আব্দুল হাইসহ কয়েকজন মাতাবর সুর্যভানুর শেষ সম্বল ওই ধানি জমি টুকু মসজিদের নামে লিখে দিতে জোর করে। কিন্তু সুর্যভানু জমি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় তার উপর নানা অত্যাচার ও ভয়ভীতি দেখাতে থাকে মাতব্বরগণ। একপর্যায়ে তারা সুর্যভানুর ক্ষেতে পানি না দিতে সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে পানি না দেওয়ায় জমিতে ধানের চারা এখনো রোপণ করতে পারেনি। বিষটি জানার পর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে ওই ওয়ার্ডের মেম্বার পাঠিয়ে পানি দেওয়ার জন্য বললেও মাতব্বরগণ পানি দিতে রাজি হয়নি।
এলাকার বাসিন্ধা সোলায়মান হোসেন বলেন, সুর্যভানুর অনেক কষ্ট করে জীবন যাপন করে। মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালায়। তার একটু মাত্র সম্বল ওই জমি টুকু। ওই জমিতে পানি দেওয়া বন্ধ করাটা অমানবিক কাজ হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের গ্রামের খুবই দরিদ্র মানুষ সুর্যভানু। তার মসজিদে জমি দেওয়ার সামর্থ্য নেই। অথচ এলাকার কয়েকজন মাতাবর জোর করে তার ওই জমি টুকু মসজিদকে লিখে দিতে বলে। জমি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় তার ওই জমিতে পানি দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। বিষয়টা খুবই ন্যক্কারজনক কাজ।
বিষয়টি আমাদের চেয়ারম্যান মহোদয় জানার পর আমাকে মাতব্বরদের কাছে পাঠিয়েছিলেন যাতে পানি দেওয়া হয়। কিন্তু মাতব্বরগণ রাজি হননি বলে জানান তিনি।
অভিযুক্ত মাতব্বরদের একজন লেহাজ উদ্দিন বলেন, মসজিদের জন্য জমি দিতে বলেছিলাম। তিনি দিতে রাজি হননি। তাছাড়া আমার একার নির্দেশে তার ওই জমিতে পানি দেওয়া বন্ধ করা হয়নি। চেয়ারম্যান দায়িত্ব নিয়েছে। তিনি যে সিদ্ধান্ত দিবেন আমরা মেনে নেব।
স্থানীয় আটাবহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন শাকিল মোল্লা বলেন, দক্ষিণ পাকুল্লা গ্রামের সুর্যভানু নামের এক বৃদ্ধার জমিতে পানি না দেওয়ার বিষটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ঘটনা। বিষয়টি শুনার পর ওই ওয়ার্ডের মেম্বারকে পাঠিয়েছি দেখার জন্য। বৃদ্ধা যদি ইচ্ছা করে জমি লিখে না দেয় তাকে কোন প্রকার জোর করা যাবে না। ওই জমিতে যাতে পানি দেওয়া হয় তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।