যুবলীগ নেতা মুরাদ হত্যা: ৪৮ ঘণ্টা হলেও আটক হয়নি কেউ
অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১০:৫৭ পিএম
নিহত নওয়াপাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মুরাদ হোসেন । ছবি: প্রতিনিধি
অভয়নগরে এবিএম মুরাদ হোসেন হত্যার ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। হত্যাকারীরা গা ঢাকা দিয়েছে। হত্যার ৪৮ ঘণ্টার পেরিয়ে গেলেও পুলিশ ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট কাউকে আটক করতে পারেনি। মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোন মামলা হয়নি।
এদিকে নিহত মুরাদ হোসেনের পিতা সহাবুল ইসলাম সাবু বিলাপ করে বলেছেন, তার ছেলেকে একটি চক্র পরিকল্পিত ভাবে খুন করেছে। ওই চক্রটি কোন রাজনীতি করে না। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে সেই দলের ছত্র ছায়ায় থেকে নানা অপকর্ম করে বেড়ায়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি করেছেন।
ঘটনার মোটিভ উদঘটন পূর্বক প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতার করার জন্য পুলিশের একাধিক সংস্থা কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
জেলা পুলিশ বুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর ইন্সপেক্টর শেখ মোনায়েম ও সাব ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান জানান, তারা মামলার মোটিভ উদঘটনের জন্য দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রকৃত আসামি গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত মোটিভ উদঘটন করা সম্ভাব নয় বলে তারা জানান। তারা আশা করছেন দ্রুত মোটিভ উদঘটন ও আসামি গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম আকিকুল ইসলাম বলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) রাত ৮টা পর্যন্ত এ ঘটনার কোন মামলা হয়নি। এখন মামলার আরজি নিয়ে কয়েক জন থানায় এসেছেন। আজ রাতেই মামলা রজু হবে।’
প্রসঙ্গত, গত রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নওয়াপাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মুরাদ হোসেনকে বাড়ির কাছাকাছি ফেলে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দুই হাত, ডান পা কেটে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে ও পেটে এলোপাথাড়ি ভাবে কুপিয়ে নাড়ী ভুঁড়ি বের করে ফেলে রেখে চলে যায়। এ সময় তার চিৎকারে এলাকাবাসী এসে তাকে জখম অবস্থায় উদ্ধার করে অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে খুলনায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।