তাড়াশে ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী দই মেলা

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাদেশ

৩০০ বছরের ঐতিহ্য নিয়ে চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে দিন ব্যাপী দইয়ের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি)

2024-02-14T22:45:55+00:00
2024-02-14T22:45:55+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
তাড়াশে ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী দই মেলা
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১০:৪৫ পিএম 
তাড়াশে ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী দই মেলা
৩০০ বছরের ঐতিহ্য নিয়ে চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে দিন ব্যাপী দইয়ের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দইয়ের এ মেলাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই এলাকায় সাঁজ সাঁজ রব পড়ে গেছে। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে মেলার বর্তমান স্থল তাড়াশ ঈদগাহ মাঠে নামি দামি ঘোষদের দই আসার মধ্য দইয়ের মেলা শুরু হয়।

এদিন সকাল থেকে শুরু হওয়া দিন ব্যাপী ওই মেলায় দইয়ের পাশাপাশি ঝুড়ি, মুড়ি, মুড়কি, চিড়া, মোয়া, বাতাসা, কদমা, খেজুর গুড়সহ রসনা বিলাসী খাবার বিকিকিনি হয়। ঐতিহ্যবাহী চলনবিল অঞ্চলে তাড়াশের দই মেলা নিয়ে রয়েছে নানা গল্প কাহিনী। 

তাড়াশ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রজত ঘোষ জানান, জমিদারী আমলে তাড়াশের তৎকালীন জমিদার পরম বৈঞ্চব বনোয়ারী লাল রায় বাহাদুর প্রথম রশিক রায় মন্দিরের মাঠে দই মেলার প্রচলন করে ছিলেন। এলাকায় এমনও জনশ্রুতি রয়েছে জমিদার রাজা রায় বাহাদুর নিজেও খুব দই ও মিষ্টান্ন পছন্দ করতেন। তাই জমিদার বাড়িতে আসা অতিথিদের আপ্যায়নে এ অঞ্চলে ঘোষদের তৈরি দই পরিবেশন করতেন। আর সে থেকেই জমিদার বাড়ীর সম্মুখে রশিক রায় মন্দিরের মাঠে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে তিনি ৩ দিন ব্যাপী দই মেলার প্রচলন শুরু করেন। আর সে থেকে প্রতি বছর শীত মৌসুমের মাঘ মাসে সরস্বতী পূজার দিন শ্রী পঞ্চমী তিথিতে দই মেলার শুরু হয়।

তাছাড়া কথিত আছে তৎকালীন সময়ে প্রতি বছর মেলায় আগত সবচেয়ে ভাল সুস্বাদু দই তৈরি কারক ঘোষকে জমিদারের পক্ষ থেকে উপঢৌকন দেওয়ার রেওয়াজও ছিল। তবে জমিদার আমল থেকে শুরু হওয়া ঐতিহ্যবাহী তাড়াশের দইয়ের মেলা এখনও মাঘ মাসের পঞ্চমী তিথিতেই উৎসব আমেজে বসার বাৎসরিক রেওয়াজ এখনও আছে।
 
এ দিকে দইয়ের মেলায় আসা এ অঞ্চলের দইয়ের স্বাদের কারণে নামেরও ভিন্নতা রয়েছে। যেমন- ক্ষীরসা দই, শাহী দই, চান্দাইকোনার, শেরপুরের দই, বগুড়ার দই, টক দই, ডায়েবেটিক, শ্রীপুরী দই, হান্ডিয়ালের দই এ রকম হরেক নামে ও  দামের হেরফেরে শত শত মণ দই বিক্রি হয়। বগুড়ার শেরপুর, রায়গঞ্জের চান্দাইকোনা, ঘুড়কা, নাটোর জেলার গুরুদাসপুরের শ্রীপুর, উল্লাপাড়ার ধরইলের দই, পাবনা জেলার চাটমোহরের হান্ডিয়ালের দই, ডায়েবেটিক, তাড়াশের দই প্রচুর বেচাকেনা হয়।

উজ্জল ঘোষ, নির্মল ঘোষ, গনেশ ঘোষসহ একাধিক ঘোষের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে দুধের দাম, জ্বালানী, শ্রমিক খরচ, দই পাত্রের মূল্য বৃদ্ধির কারণে দইয়ের দামও কেজিতে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা বেড়েছে। তবে মেলা  দিন ব্যাপী হলেও চাহিদা থাকার কারণে মেলায় আসা কোন ঘোষের দই অবিক্রীত থাকে না। 

তাড়াশ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রজত ঘোষ জানান, সরস্বতী পূজা উপলক্ষে প্রায় ৩০০ বছর ধরে তাড়াশে চলে আসছে দই মেলা। আর এই দিনে হাড়া জ্বালানি গরমে চিঁড়া, মুড়ি, খই, দই, আম, কলা, দুধ, ক্ষীর এতেই যা একটু রস, মিষ্টত্ব আর পরিতৃপ্তি। দই আবহমান সময়কাল ধরে বাঙালির জীবনের প্রতিদিনের খাবার, ভোজবাড়ির অন্যতম আকর্ষণ, পেটরোগার পথ্য, পেটুকের ভালোবাসা। ভালো নাম্বারের আশায় পরীক্ষা দিতে যাবার আগে কপালে দইয়ের ফোঁটা, ভাইফোঁটায় আয়ু বৃদ্ধি কামনায় কপালে দইয়ের ফোঁটা, বিজয়া দশমীর শেষে সাংসারিক সুখ সমৃদ্ধির প্রার্থনায় দরজায় দইয়ের ফোঁটা। দই মেলাকে ঘিরে বাঙালি রসনায় দই জুড়িহীন। শেষ পাতে দই হলে তো কথাই নেই। এ ছাড়া বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান ও সামাজিক ভোজে দই পরিবেশন করা হয়ে থাকে। 

সিরাজগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তপন গোস্বামী বলেন, ‘খাঁটি দুধের সম্ভার খ্যাত সিরাজগঞ্জবাসী প্রাচীন আমল হতেই রসনা বিলাসী আর অতিথি পরায়ণ। দইয়ের মেলাটি জেলার আদি ঐতিহ্যের অংশ। সরস্বতী পূজা উপলক্ষে এ মেলার আয়োজন করা হলেও এখানে হিন্দু মুসলিম সব শ্রেণি পেশার মানুষ আসেন।’

সময়ের আলো/আরআই



  বিষয়:   তাড়াশের দই মেলা  সরস্বতী পূজা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: