মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের আরকান আর্মি ও দেশটির সেনাবাহিনীর মধ্যেই চলমান সংঘাতে এপারের উখিয়া-টেকনাফের সীমান্তে একটানা দু’সপ্তাহ সীমান্ত পরিস্থিতি উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত দেখা দিলে লবণ চাষিরা মাঠে কাজ করছেন।
বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইক্যং খারাং খালী লবণের মাঠে দেখা গেলো তিন জন শ্রমিক কাজ করছেন, এক জন লবণ প্লেটিনের ব্যাক থেকে লবণ কুড়াচ্ছে।
শ্রমিক আব্দুল মালেক জানান, সীমান্তের দিয়ে ওপারে গোলাগুলির ঘটনায় বহু মানুষ কৃষি-খেতের জমি ও লবণের মাঠে বাড়িঘর ছেড়ে পরিবারসহ আত্মীয়দের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। একটানা দু’সপ্তাহ ধরে গোলাগুলি ও মর্টার শেলের ফায়ারের শব্দে খেতে ও জমিতে কাজ করতে যাওয়া তো দূরের কথা বাড়ি পর্যন্ত ছাড়তে হলো অনেকের। তবে এ কয়েকদিন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত দেখা দিলে আমরা মাঠে কাজ করতে আসলাম। গোলাগুলির এ ঘটনা নিয়ে সব সময় আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে ফায়ারের শব্দ বা গুলি এপারে বাংলাদেশ পড়তে পারে।
থাইংখালির আরেক কৃষক সৈয়দ হোসাইন বলেন, গত দু’সপ্তাহে ধানের জমিতে যেতে পারেনি। এখন যে কাজ করতে আসলাম তাও ভয়ের মধ্যে। কারণ যেকোনো সময় এপারে পড়তে পারে গুলি। এর কয়েকদিন আগেও এ সীমান্তের ওপারে ব্যাপক গোলাগুলি ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর বিজিপির অনেক সদস্য এ সীমান্ত দিয়ে পার হয়ে এপারে এসে স্কুলে আশ্রয়ে নিয়েছিল। চাষাবাদ করে সংসার চালাতে হয়। তবে এখন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত দেখা দেওয়ায় মাঠে কাজ করতে যাচ্ছি।
পালংখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাতের কারণে সীমান্ত পরিস্থিতি উত্তেজনা বিরাজ করে আসছিল। তার মধ্যে আজ (বুধবার) থেকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত দেখা গেছে। এ কারণে সীমান্ত থেকে সরে যাওয়া লোকজন বাড়িতে ফিরছেন এবং যাদের খেতে ও চাষাবাদের জমি রয়েছে তারা কাজ করতে যাচ্ছেন বলে তিনি জানায়।
সময়ের আলো/আরআই