নিখোঁজের ১৭ দিন পর কক্সবাজারের উখিয়ায় নাফ নদী থেকে মোস্তাফিজুর রহমান (৪৭) নামে এক জেলের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উখিয়া পালংখালী নাফ নদীর মোহনা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
মোস্তাফিজুর রহমান উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়ন এর ৯ নম্বর ওয়ার্ড বটতলী এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত আব্দুস ছালামের ছেলে। তিনি পেশায় জেলে ও দিনমজুর। তার পরিবারের দাবি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাত চলাকালে গত ১ ফেব্রুয়ারি বিজিপির সদস্যরা নাফ নদী থেকে মোস্তাফিজুরকে আটক করে নিয়ে যায়।
মোস্তাফিজুরের আত্মীয় জয়নাল আবেদীন বলেন, মোস্তাফিজুর নাফ নদীতে মাছ শিকার করে। সীমান্তে উত্তেজনা চলাকালে সে নদীতে মাছ শিকারে গেলে মিয়ানমার থেকে আসা একটি নৌকায় করে তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। আমরা তার কোনো খোঁজ-খবর পাইনি। রোববার রাতে জেলেরা তার মরদেহ নদীতে ভাসতে দেখে।
নিহতের ছোট ভাই মো. আমির হোসেন জানান, ১ ফেব্রুয়ারি সকালে নাফ নদীতে মাছ ধরতে যান মোস্তাফিজুর রহমানসহ কয়েকজন জেলে। একপর্যায়ে সশস্ত্র আরাকান আর্মির সদস্যরা তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে ওই দিন ঘটনাস্থলের আশপাশের থাকা অন্য জেলেরা বিষয়টি তাদের জানান।
তিনি আরো জানান, বিষয়টি বিজিবিসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে জানানো হয়। নিখোঁজের পর থেকে নানাভাবে খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। অপহরণকারীরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগও করেনি। স্থানীয় চিংড়ি চাষিদের কাছ থেকে খবর পেয়ে রবিবার রাত ১১টার দিকে বিজিবির সহায়তায় পুলিশ বেড়িবাঁধে পড়ে থাকা অবস্থায় মোস্তাফিজের লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়।
পাংলখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাফরুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে নাফ নদী থেকে কে বা কারা জেলে মোস্তাফিজুর অপহরন করে নিয়ে গিয়েছিল। এতদিন তার খোঁজ-খবর মেলেনি। রবিবার রাতে তাকে নদীতে ভাসতে দেখতে পান জেলেরা। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) নাসির উদ্দিন মজুমদার জানান, লাশ উদ্ধার করে সুরতাহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো করা হয়েছে।
সময়ের আলো/জেডআই