ঘরে চোর ঢুকলে বাজবে অ্যালার্ম, মোবাইলে যাবে কল

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

সারাদেশ

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। চলছে ইরি-বোরো মৌসুম। দীর্ঘ চার মাস হাড় ভাঙা পরিশ্রম করে কৃষক তার ঘরে সোনালী ফসল তুলে।

2024-02-22T19:14:05+00:00
2024-02-22T19:14:05+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
ঘরে চোর ঢুকলে বাজবে অ্যালার্ম, মোবাইলে যাবে কল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৭:১৪ পিএম 
চুরি ঠেকাতে সেফটি ডিভাইস ব্যবহারের পরামর্শ বিএমডিএ ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির। ছবি: সংগৃহীত

চুরি ঠেকাতে সেফটি ডিভাইস ব্যবহারের পরামর্শ বিএমডিএ ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। চলছে ইরি-বোরো মৌসুম। দীর্ঘ চার মাস হাড় ভাঙা পরিশ্রম করে কৃষক তার ঘরে সোনালী ফসল তুলে। সেচ ছাড়া এ ফসল ফলানো অসম্ভব। তাই সেচ দিতে ব্যবহৃত হয় গভীর ও অগভীর নলকূপ। এজন্য বিদ্যুতের সংযোগ লাগে। কিন্তু ইরি-বোরো মৌসুম আসলেই চোরদের ট্রান্সফরমার চুরির হিড়িক পড়ে যায়।

বিএমডি ও পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা গেছে, পুরো জেলা জুড়ে এক বছরে প্রায় শতাধিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, উঠান বৈঠক ও প্রশাসনের তৎপরতার কারণে চুরি কিছুটা কমেছে বলে তারা জানিয়েছেন। ভোলাহাট ও গোমস্তাপুরে বেশ কয়েকটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় চোরদের আটকের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা ইউনিয়ন, সদর উপজেলার বালিয়াডাঙা, ঝিলিম, সুন্দরপুর ও চরবাগডাঙা ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে সরেজমিনে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন স্থানে দুই শতাধিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। দু-একটি চুরির ঘটনায় চোরদের আটক করা হলেও আইনের ফাঁকফোকরে তারা আবার বের হয়ে পুনরায় চুরির কাজে জড়িত হচ্ছেন। এতে করে চুরি তেমন ঠেকানো যাচ্ছে না। আট থেকে দশ জন কিংবা তার বেশি চোর দলবেঁধে ট্রান্সফরমার চুরি করছেন। এতে করে ট্রান্সফরমারের ভিতরে থাকা মূল্যবান তার নিয়ে গিয়ে কম দামে বিক্রি করে দেয় চোর।

সদর উপজেলার খালেকপুর গ্রামের কৃষক তরিকুল ইসলাম বলেন, সুন্দরপুর, ইসলামপুর ও চরবাগডাঙার এ তিনটি ইউনিয়নে তিন মাসে ৫০ থেকে ৬০টি  ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। আমরা থানায় জিডি করেছি। বরেন্দ্র অফিসকে জানিয়েছি। কেউ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। আবার যখন তাদের কাছে লাইন চালুর জন্য যাচ্ছি। তখন নানা হয়রানির স্বীকার হতে হচ্ছে। একবার  ট্রান্সফরমার চুরি হলেও আবার লাইন পেতে ২০ থেকে ১ মাসের বেশি সময় লেগে যায়। একটি ট্রান্সফরমার চুরি হলে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাগে পুনরায় সংযোগ পেতে। আমরা কৃষক মানুষ এতোগুলো টাকা জোগাড় করতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়। তাই আমাদের দাবী চুরি রোধে পুলিশ ও প্রশাসন যেন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএমডিএর গভীর নলকূপ চালক বলেন, বারবার ট্রান্সফরমার চুরি হচ্ছে। আমরা পুলিশ ও প্রশাসনকে জানাচ্ছি। তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বরেন্দ্র এলাকাতে এমনিতে সেচের সমস্যা। ফসলে প্রতিদিন পানি দেয়া লাগে। চুরি হওয়ার পরে ক্রীড়া (মৌসুমি ফসল) ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। অনেক ফসল মারা যায়। ফসলের ফলন ভালো হয় না।

তিনি আরও বলেন, বিএমডিএকে ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ার বিষয়ে জানালে তারা থানাতে অভিযোগ করতে নিষেধ করে। এক্ষেত্রে আইনি সহযোগিতা তেমন না পাওয়ার কারণে চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। আমার গভীর নলকূপের দু-দু’বার টান্সফরমার চুরি হয়েছে। এমনকি গভীর নলকূপ চালককে মারধর করে বেঁধে রেখে ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে চোরেরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, আমি চারটি গভীর নলকূপ নিয়ে কাজ করছি। এগুলোর মধ্যে কোনটিতে একবার, দুইবার আবার কোনটিতে তিনবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। চুরির ফলে কৃষকদের উপরে লোড পড়ে যায়। তাদের সম্পূর্ণ খরচ বহন করতে হয়। এমনকি ফসল নষ্ট হয়ে যায়। আমার ১৫ বিঘা জমির আখ নষ্ট হয়ে গেছে। আশানুরূপ ফসল পায়নি। চুরি হওয়ার পরে বিএমডিএকে ইনফর্ম করা হয় এবং অপারেটরদেরকে বলে দেখেছি থানায় সাধারণ ডাইরি (জিডি) করার জন্য। তারা থানায় যেতে চাইনা। 

কৃষক নেতা আরও বলেন, যারা এগুলো দেখভাল করে তারা অপারেটারদের আইনের সহযোগিতা নিতে নিরুৎসাহিত করে। চুরি রোধে তেমন কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না কর্তৃপক্ষরা। আমি ১১ বছরে একটিও দেখলাম না চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার উদ্ধার করে চোরদের আটকের। তাই আমাদের অনুরোধ চুরি বন্ধ করতে পুলিশ ও প্রশাসনসহ যারা এগুলোর দেখভালের দায়িত্বে আছেন। তারা যেন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ফলে কৃষকরা লাভবান হবেন।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাহী  প্রকৌশলী আল মামুনুর রশিদ বলেন, এখন আর সে রকম ট্রান্সফরমার চুরি হয় না। আগে অনেক হতো। আমরা উঠান বৈঠক করে কৃষকদের সচেতন করেছি। আর ট্রান্সফরমার চুরি রোধে সেফটি ডিভাইস ব্যবহার করলে চোর ট্রান্সফরমারের আশপাশে গেলেই অ্যালার্ম বাজবে আর এক সাথে তিনজন কৃষকের মোবাইলে কল যাবে। এটার খরচ হবে আনুমানিক ৫ হাজার টাকা। তবে বাজারে সহজলভ্য না হওয়া। আমরা সহজলভ্য করতে চেষ্টা চালাচ্ছি। আশাকরি কৃষকরা এই ডিভাইস ব্যবহার করলে চুরি রোধ করা সম্ভব হবে।

চুরি হওয়ার পরে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে কৃষকদের হয়রানির কথা অস্বীকার করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেনারেল মো. ম্যানেজার ছানোয়ার হোসেন বলেন, আমরা যত দ্রুত সম্ভব গ্রাহকদের পুনরায় সংযোগ দেয়ার চেষ্টা করি। এক্ষেত্রে সরকারি যে ফি নির্ধারণ করা আছে। সেটাই নেয়া হয়। অতিরিক্ত কোন অর্থ নেয়া হয় না। তবে যদি কেউ হয়রানি কিংবা অর্থ নিয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আমরা বিষয়গুলো ক্ষতিয়ে দেখবো।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম সাহিদ সময়ের আলোকে বলেন, চুরি রোধে পুলিশের টিম মাঠে কাজ করছি। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়ে চোরদের গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। আশাকরি এটা দ্রুত কমে যাবে।

সময়ের আলো/আরআই



  বিষয়:   সেফটি ডিভাইস  বিএমডিএ  পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি  চুরি রোধ  চাঁপাইনবাবগঞ্জ 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: