আসন্ন পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে পলিথিনে মোড়ানো পোস্টার টাঙ্গিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করার অভিযোগ উঠেছে মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদের বিরুদ্ধে।
সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পৌর শহরের জুবিলী স্কুল রোড, সিঙ্গারা পয়েন্ট, মুসলিম পাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে সরেজমিন পরিদর্শনে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশনের পরিপত্র ২এর ২১নং ক্রমিকে স্পষ্টভাবে বলা আছে, ‘স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ পূর্বক প্রচার প্রচারণা পরিচালনা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহারে প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো বা পোস্টার প্লাস্টিক পলিথিনে লেমেনিটিং করে ব্যবহার না করাসহ ইতিপূর্বে নির্দেশনা প্রদান করতে হবে। এই ধারা উল্লেখ করে প্রতীক বরাদ্দের দিন জেলা নির্বাচন অফিসার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ‘পোষ্টারে পলিথিন ব্যবহার করা যাবেনা।’
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পরে প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পলিথিন ছাড়া পোষ্টার টাঙ্গালেও মেয়র প্রার্থী মহিউদ্দিন আহম্মেদর নির্বাচনী পোষ্টারে পলিথিন ব্যাবহার করতে দেখা গেছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অমান্য করে তিনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন।
একদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘন অন্যদিকে বৃষ্টি এবং কুয়াশায় অন্যান্য প্রার্থীদের পোস্টার নষ্ট হওয়ায় তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
মেয়র প্রার্থী ডা. মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সকালে পোস্টার লাগানো হলেও বিকেলে হাল্কা বৃষ্টি হওয়ার কারণে পোস্টার নষ্ট হয়ে যায়। তাই পরেরদিন সকালে আবার পোস্টার লাগাতে হচ্ছে। তবুও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে পোস্টারে পলিথিন ব্যবহার করিনাই। কিন্তু একজন প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা না মেনে কোন ক্ষমতাবলে তার পোস্টারে পলিথিন ব্যবহার করছে তা বোধগম্য হচ্ছে না। এগুলো কি নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা দেখেন না?
পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর মো. জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, প্রতীক বরাদ্দের দিন জেলা নির্বাচন অফিস থেকে আমাদেরকে বলা হয়েছে পোস্টারে পলিথিন ব্যবহার করা যাবেনা। পোস্টারে পলিথিন লাগানো আইনগত দণ্ডনীয় অপরাধ। যে কারণে আমরা পোস্টারে পলিথিন ব্যবহার করিনাই।
৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. খলিলুর রহমান জানান, নির্বাচন অফিসের নিষেধাজ্ঞা থাকায় পোস্টারে পলিথিন লাগাই নাই।
এ বিষয়ে জগ প্রতীকের মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আমার সমর্থকরা না জেনে এমন ভুল করতে পারে। কোথাও পলিথিনে মোড়ানো পোস্টার লাগানো হলে তা সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে।
রিটার্নিং অফিসার ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার খান আবি শাহানুর খান বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধিতে বলা হয়েছে কোন প্রার্থী তাদের পোস্টারে পলিথিন ব্যবহার করতে পারবে না। যদি কেউ পলিথিন ব্যবহার করে থাকে তবে আমাদের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
সময়ের আলো/আরআই