আদমদীঘিতে দিগন্ত জোড়া সরিষা ফুলের মাঠ, আবাদে রেকর্ড
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০২৪, ৫:৫৭ পিএম
বগুড়ার আদমদীঘিতে এবার রেকর্ড পরিমাণ সরিষার আবাদ করা হয়েছে। চারিদিকে হলুদের সমারোহ। ছবিটি তোলা উপজেলার কায়েত পাড়া গ্রাম থেকে। ছবি: সময়ের আলো
বগুড়ার আদমদীঘিতে এবার রেকর্ড পরিমাণ সরিষার আবাদ করা হয়েছে। যা গতবারের চেয়ে এবার দ্বিগুণ সরিষার আবাদ হয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবী। গত কয়েক দিনে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হওয়ায় সরিষার আবাদে কিছুটা ক্ষতি হলেও বাম্পার ফলনের আশা করছেন উপজেলার কৃষকরা।
উপজেলায় সরিষার হলুদ ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ। যতদূর চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। সরিষার হলুদ ফুলের রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত যেমন ফসলের মাঠ, তেমনি বাম্পার ফলনের স্বপ্নে বিভোর কৃষক। তাদের চোখে-মুখে এখন আনন্দের হাসি।
কৃষকরা বলছেন, কৃষি অফিসের সহযোগিতা পেলে এবং সরিষার ন্যায্যমূল্য পেলে সরিষা চাষের পরিধি উপজেলায় আরো বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, তারা সব সময় সরিষাসহ প্রতিটি কৃষিশস্য উৎপাদনে সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে কৃষকদের।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ৫ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৬ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৫০ হেক্টর সরিষা বেশি চাষ করা হয়েছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আমন আবাদের পর প্রায় ৯০দিন জমি খালি পড়ে থাকে। সেই খালি জমিতে ৭০ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যে সরিষা আবাদ সম্পন্ন হয়। এছাড়া সরিষার জমিতে মৌ চাষ হয়ে থাকে। আবার সেই সরিষার অগাছা জমিতে ফেলে রাখলে জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি পায়। সরিষা একটি লাভজনক আবাদ।
উপজেলার কায়েত পাড়া গ্রামের কৃষক শফির উদ্দিন জানান, জমি তো পড়ে থাকবে, তাই ২ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছি। আশা করছি ফলন ভাল হবে। সরিষায় ভাল ফুল এসেছে।
আদমদীঘি উপজেলা কৃষি অফিসার মিঠু চন্দ্র অধিকারী জানান, আশা করছি সরিষা আবাদ ভাল হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষকরা শতভাগ সরিষা ঘরে তুলতে পারবে। সরিষা চাষে কৃষক ভাইদের সব সময় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।