নদ-নদীতে সকল ধরনের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভয়াশ্রম রক্ষায় ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস ভোলা জেলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালী জেলার চর রুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার অংশে সকল ধরনের মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পটুয়াখালী জেলার বাউফল, দশমিনা এবং গলাচিপা উপজেলার তেতুলিয়া নদী তীরের জেলেরা এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন। এ সময় নদীতে মাছ ধরলে কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যাতে অভয়াশ্রমের আওতার ভেতরে মাছ ধরতে না পারে সেজন্য জেলেদের সচেতনতার পাশাপাশি নদীতে নৌ বাহিনী, কোস্টগার্ড পুলিশ ও প্রশাসনের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে মৎস্য বিভাগ। সরকারের এ উদ্যোগকে সফল করার লক্ষ্যে ২৯ ফেব্রুয়ারি মধ্য রাতের আগেই মাছ ধরা বন্ধ করে তীরে ফিরে এসেছেন জেলেরা। জাল নৌকা গুছিয়ে রাখছেন তারা, এসময়ে জাল নৌকা মেরামত করবেন অনেকে। বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র জেলেরা। 
জেলেদের দাবি সরকার কর্তৃক আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে নদ-নদীতে মাছ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন তারা সময়মত সরকার প্রদত্ত খাদ্য সহায়তা না পাওয়ায় পেটের দায়ে চুরি করে মাছ শিকারে বাধ্য হন তারা। তাই নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকার তাদের পরিবারের ভরণ পোষণের দায়িত্ব গ্রহণ অথবা বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমন প্রত্যাশা জেলেদের।
এদিকে অবরোধ শুরুর সময় থেকে গলাচিপা উপজেলা অংশে তেতুলিয়া নদীতে অভিযান চালিয়ে নৌ বাহিনীর সহযোগিতায় ১০ হাজার মিটার জাল জব্দ কর করে সকালে বদনাতলী এলাকায় তা জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করেছে মৎস্য বিভাগ।
সিনিয়র জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, তেতুলিয়া নদীর বাউফল ও উপজেলার সম্পূর্ণ অংশ এবং গলাচিপা উপজেলার বদনাতলী থেকে চর কাজল পর্যন্ত অংশে এ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা সফল করতে জেলেদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ মাইকিংসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া নদীতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নদীতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে জেলেরা পর্যাপ্ত মাছ পাবে এবং আমাদের অর্থনীতি আরো সমৃদ্ধ হবে। এ সময়ে জেলেরা যাতে কষ্টে না থাকে সেজন্য জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত চার মাস নিবন্ধিত জেলেদের ৪০ কেজি হারে ভিজিএফ চাল সহায়তা দেয়া হয়। জাটকা সংরক্ষণে জেলার ৫২ হাজার ১৩৯ জন জেলে এ সহযোগিতা পান।
সময়ের আলো/আরআই