কক্সবাজার উপকূলে দুই দফা জলদস্যু সন্ত্রাসী ও অস্ত্রের কারিগররা সরকারের কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসলে হঠাৎ দেশীয় তৈরি অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানিতে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড সোনাদিয়া দ্বীপ। এখানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য এত অস্ত্র কোথায় থেকে আসল এটি মানুষের মুখে মুখে। তাই এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের মদদপুষ্ট অন্তরালে থাকা দুই পক্ষের গড়ফাদারদের গ্রেফতার পূর্বক অস্ত্র উদ্ধারের দাবী জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী।
এই দিকে চিংড়িঘের দখল নিয়ে দ্বীপ উপজেলার মহেশখালীর সোনাদিয়ায় দুই পক্ষের গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনায় আরেকজন নিহত হয়েছেন। রোববার (৩ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে মহেশখালী থানা পুলিশ।
নিহত ব্যক্তির নাম সাদ্দাম হোসেন (৩৮)। তিনি উপজেলার সোনাদিয়ার পশ্চিমপাড়ার আনোয়ার পাশার ছেলে। এর আগের দিন শনিবার বেলা ১১টার দিকে সোনাদিয়ার পশ্চিম পাড়া বড়ঘোনা নামের চিংড়ি ঘেরে প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সাইফুল ইসলাম (৩৩) নামে এক লবণচাষি নিহত হন। সাইফুল বড় মহেশখালী ইউনিয়নের মুন্সির ডেইল এলাকার মৃত গোলাম কুদ্দুসের ছেলে।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চিংড়ি ঘের দখল নিয়ে গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ চিংড়ি ঘের নিয়ে বড় মহেশখালী ইউনিয়নের জাগিরাঘোনা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে সোনাদিয়া দ্বীপের পশ্চিম পাড়ার আজিম মিয়ার বিরোধ চলছিল। ওই চিংড়িঘের এত দিন জাহাঙ্গীর আলমের দখলে ছিল। ওই দিন আজিম মিয়া তার দলবল নিয়ে চিংড়িঘের দখল করতে গেলে প্রতিপক্ষ জাহাঙ্গীর আলমের লোকজন বাধা দেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। আহত হন অন্তত ১০ জন।
একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষের লবণচাষি সাইফুল ইসলাম নিহত হন। আহত সাদ্দাম হোসেন, শফিউল আলম, আনজু মিয়া, ইমতিয়াজ উদ্দিন ও ফরিদুল আলমকে প্রথমে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাদ্দাম হোসেন মারা যান।
অপর দিকে দুই পক্ষের সংর্ঘষে ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করা হয়েছে। এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের প্রয়োজন মনে করছে এলাকাবাসী।
মহেশখালী থানার (ওসি) সুকান্ত চক্রবর্তী সন্ধ্যায় বলেন, দুই পক্ষের গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনায় সাদ্দাম হোসেন নামের আরেকজন মারা গেছেন বলে তিনি শুনেছেন। গতকাল (শনিবার) দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে আটক করেছে। পরে এলাকাবাসীর হাতে অস্ত্রসহ আটক মোহাম্মদ রাকিব নামের এক যুবককে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় সব মিলে আটক চারজন। অন্যদের ধরার চেষ্টা চলছে।
সময়ের আলো/আরআই