শেখ হাসিনা দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর একদম সামনে নদীর প্রস্থ মাত্র ২০ ফুট। এখান দিয়ে ক্ষীণ ধারায় প্রবাহিত হচ্ছে পানি। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও-বা তার চেয়েও কম। ফলে তিস্তা এখন হেঁটেই পার হওয়া যায়। যৌবন হারিয়ে এক সময়ের প্রমত্তা তিস্তায় এখন যেন ধু-ধু বালুচর।
জানা যায়, উজানে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশের ১১২ মাইল দীর্ঘ এই নদী শুকিয়ে এখন মৃতপ্রায়। তিস্তায় পানি না থাকার কারণে কৃষি উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাজার হাজার হেক্টর ফসলের জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। বেকার হয়ে পড়েছেন হাজারও মৎস্যজীবী ও মাঝি। ধ্বংসের মুখে তিস্তা পাড়ের জীবন ও প্রকৃতি। নদীতে পানি প্রবাহ দুর্বল থাকায় বালুপড়ে নদীগর্ভ ভরাট হচ্ছে। ফলে বর্ষাকালে নদীর পানি দুই কূল ছাপিয়ে যাচ্ছে। তলিয়ে যাচ্ছে ফসল, ঘরবাড়ি ও জনপদ। দেখা দিচ্ছে ছ নদীভাঙন। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার একর জমি। তিস্তায় পানি না থাকায় এর প্রভাব পড়েছে পরিবেশগত ও নৌ- যোগাযোগ ক্ষেত্রে।
এদিকে নদীতে পানি না থাকার কারণে বেকার হয়ে পড়েছেন জেলে সম্প্রদায়ের লোকজন। বাধ্য হয়ে তারা অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। গঙ্গাচড়ার মহিপুর গ্রামের বাসিন্দা সাজু মিয়া, রফিকুল, ধামুর গ্রামের হেমন্ত, রবিন, ধরণী এরা সবাই মৎস্যজীবী। নিজেদের ভিটেমাটি নেই। তারা জানান, নদীতে পানি না থাকায় মাছ মিলছে না। তাই তারা এখন পেশা বদল করে জীবিকা চালাচ্ছে। কাজের সন্ধানে ছুটছেন দক্ষিণাঞ্চলে ও ঢাকা শহরে। আর যারা কৃষক পরিবার তারা বেজায় খুশি, কারণ জেগে ওঠা চরে চাষাবাদ করে তারা ফসল ফলাচ্ছে।
কোলকোন্দ এলাকার ঘাটিয়াল আব্দুল কাদের বলেন, শুকনো মৌসুমে তিস্তায় পানি না থাকায় চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তপ্ত রোদে গরম বালুর ওপর দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে মানুষকে।
তিস্তা-তীরবর্তী লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, উজান থেকে কম পানি আসায় নদীতে পানি নেই। এতে শুকনো মৌসুমে মানুষের কষ্ট বাড়ছে। অন্যদিকে বর্ষায় তিস্তার করাল গ্রাসে প্রতি বছর শত শত পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে। প্রতি বছর অভাবী লোকজনের সংখ্যা বাড়ছে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তার ভাঙন নিয়ে আমাদের স্টাডি চলছে। ভাঙন রোধে ও নদীতে নাব্য ফেরাতে ড্রেজিংসহ বড় পরিকল্পনা কি করা যায় তা নিয়ে বিকল্প তৈরি করছি আমরা।
সময়ের আলো/এএ/