শুনতে অবাক লাগলেও জনমানবশূন্য গ্রাম ‘পশ্চিম ভবানীপুর’
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মার্চ, ২০২৪, ৯:১৩ পিএম
গাইবান্ধায় জনমানবশূন্য গ্রাম পশ্চিম ভবানীপুর। ছবি: সময়ের আলো
দিগন্ত বিস্তৃত ফসলি জমি। রয়েছে চলাচলের জন্য পাকা রাস্তা। কিন্তু মানুষ নেই। শুনতে কিছুটা অবাক লাগলেও এমনই একটি গ্রাম রয়েছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নে। গ্রামটির নাম পশ্চিম ভবানীপুর।
আনুমানিক ১২শ একর আয়তনের এই গ্রামটিতে একসময় সনাতন ধর্মাবলম্বী (হিন্দু) মানুষেরা বসবাস করতেন। এখানে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী জমিদার ছিলেন। তিনি এ এলাকায় স্বাধীনভাবে জমিদারী চালাতেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময়কার জাতিগত সহিংসতার কারণে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে শুরু করেন গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বী (হিন্দু) বাসিন্দারা। এরপর মুক্তিযুদ্ধের সময় গ্রামের সর্বশেষ বাসিন্দাও চলে যান পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। তখন থেকে ৫২ বছর পার হলেও ফেরেননি তারা। গড়েও ওঠেনি কোনো বসতি।
এখন কাগজ-কলমে গ্রামের নাম উল্লেখ থাকলেও গ্রামে নেই কোন জনবসতি। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ৬নং ধাপেরহাট ইউনিয়নের ২২টি গ্রামের মধ্যে আনুমানিক ১২শ একর আয়তনের পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামটিতে নেই কোন ভোটারও।
পার্শ্ববর্তী আলীনগর গ্রামের মনসুর আলী বলেন, এই গ্রামে আমার জমি আছে কিন্তু কোন বাড়ি নেই। বাপ-দাদার মুখে শুনেছি এই গ্রামে হিন্দু জমিদারদের বসবাস ছিল। স্বাধীনতার অনেক আগেই তারা দেশ ছেড়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে চলে যায়। তখন থেকেই এই এই গ্রামটি জন মানব শূন্য হয়ে পড়ে আছে।
নুরুন্নবী মিয়া নামে একজন জানান, আমার জন্ম থেকে এই এলাকায় ভোটার নেই। এই গ্রামটিতে এখন বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়। কিন্তু কেউ এখানে বসবাস করেন না। সবাই পার্শ্ববর্তী আলীনগর গ্রামে বসবাস করেন। শুধু ফসল ফলানো কিংবা কাজকর্মের জন্য দিনের বেলা এই গ্রামে আসেন মানুষরা। মানুষজন না থাকায় এ গ্রামে নেই কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
দিগন্ত বিস্তৃত ফসলি জমি। রয়েছে চলাচলের জন্য পাকা রাস্তা। কিন্তু মানুষ নেই। গাইবান্ধায় জনমানবশূন্য গ্রাম পশ্চিম ভবানীপুর। ছবি: সময়ের আলো
ভবানীপুর গ্রাম ঘুরেও চোখে পড়েনি কোন বসতির। সম্প্রতি এই গ্রামে কয়েকটি পরিবার বসবাস করা শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। তবে বসবাস করা এসব পরিবারের মানুষেরাও পাশের আলিনগর গ্রামের ভোটার। তারা বলছেন, পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামে বসবাস করলেও নিজের নাম পরিচয় আর ভোটার হিসেবে পরিচয় দিতে হয় আলিনগর গ্রামের হয়ে।
সুলতান নামে এক যুবক জানান, জনমানবহীন এই গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে থাকে পাশের আলিনগর গ্রামসহ আশেপাশের এলাকার মানুষ। এই যুবক আরো জানান, গ্রামটি যেহেতু বসবাসের উপযুক্ত তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত পাশের গ্রাম থেকে এসে যে দু’চারজন মানুষ এই গ্রামে বসবাস করছেন তাদেরকে এই গ্রামের ভোটার করা উদ্যোগ নেয়া।
ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন জানান, এই ইউনিয়ন পরিষদের বাইশটা মৌজা তার মধ্যে পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামে কোন ভোটার নেই। মূলত এই এলাকাটি কৃষি প্রধান। সম্প্রতি চার-পাঁচ জন এখানে বসবাস করা শুরু করেছেন। যারা এখানে বসবাস করেন তারা আবার পাশের আলিনগর গ্রামের ভোটার। আমরা চেষ্টা করছি পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামে যারা বসবাস করছে যেন এই গ্রামে পরিচয় দিতে পারে সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানিয়েছি।
সম্প্রতি ৬নং ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মিন্টুর মৃত্যুতে শূন্য হয় চেয়ারম্যান পদটি। আগামী ৯ মার্চ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।