পারিবারিক কলহে দুই সন্তানের জননীকে নির্যাতনের পর ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল লাশ। ঘটনার পর থেকেই গৃহবধূর স্বামী ও ভাসুর পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সদর ইউনিয়নের তালশন গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
নিহত লাভলী বেগম লিবেন (৩৩) উপজেলার উথরাইল জাহানাবাজ গ্রামের আনছার আলীর কন্যা।
বুধবার (৬ মার্চ) আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজেশ কুমার চক্রবর্তী জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ওই গৃহবধূর বাবা বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে তার কন্যার স্বামী ও ভাসুরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
আসামিরা হলেন- আদমদীঘির তালশন গ্রামের তাছের আলীর ছেলে মাছ ব্যবসায়ী আবুল কাশেম ও তার ভাই দুলাল মন্ডল। গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পরপরই দুজন পালিয়ে যায়। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার (৫ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তালশন গ্রামে স্বামীর শয়ন ঘর থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। স্বামীর নির্যাতনে ও প্ররোচনায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ওই নারী ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ ওঠে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মাছ ব্যবসায়ী আবুল কাশেমের সাথে লাভলীর প্রায় ১৫ বছর পূর্বে বিয়ে হয়। সংসার জীবনে তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ লেগেই থাকতো। ঘটনার দিন সকালে আবারো কলহ হলে লাভলীকে শারীরিক নির্যাতন করে তার স্বামী কাশেম। শয়ন ঘরের ফ্যানের সাথে গলায় ওড়নার ফাঁস অবস্থায় ঝুলছিল লাভলী। স্বজনরা দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করে আদমদীঘি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই গৃহবধূকে মৃত ঘোষণা করে।
লাভলীর বাবা আনছার আলী অভিযোগ করেন, তার কন্যা নির্যাতন সহ্য করতে না পারায় এবং ভাসুর তাকে প্ররোচিত করায় সে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনার দিন সকালে তার কন্যাকে শারীরিক নির্যাতন করার সংবাদ পেয়ে তিনি তালশন গ্রামে জামাইয়ের বাড়িতে যান। ঘটনা জানার চেষ্টা করলে জামাই আবুল কাশেম তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।
সময়ের আলো/আরআই