‘আমার কলিজাটা জ্বলে যাচ্ছে, তোমরা আমার নাজমুলকে আমার কাছে আইনা দাও। নাজমুলকে ছাড়া আমরা বেঁচে থাকতে পারবো না। মঙ্গলবার বিকেলে নাজমুলের অফিস থেকে ফোন করে বলা হয়, জলদস্যুরা নাজমুলদের জাহাজ আটক করেছে, কোন দুশ্চিন্তা কইরেন না, আমরা সবাইকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি। তার কিছুক্ষণ পর নাজমুল ফোন দিয়ে বলে, আমাদের জাহাজসহ জলদস্যুরা আমাদের আটক করেছে, মোবাইল ফোন নিয়ে নিচ্ছে। আমার জন্য তোমরা দোয়া কইরো, আর কথা নাও হতে পারে, এটাই হতে পারে শেষ কথা। এই কথা বলেই ফোন কেটে দেয়। আর কথা হয়নি। পরে শুধু পানি খেয়ে ইফতার করেছি।’
বুধবার (১৩ মার্চ) দুপুরে এভাবেই কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের কবলে পড়া জাহাজে থাকা সিরাজগঞ্জের নাবিক নাজমুল হক হানিফের মা নার্গিস বেগম।
ভারত মহাসাগরে বাংলাদেশি পণ্যবাহী একটি জাহাজ এবং ২৩ নাবিক ও ক্রুকে আটক করেছে সোমালিয়ান জলদস্যুরা। ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন সিরাজগঞ্জের নাবিক নাজমুল হক হানিফ। নাজমুলের বাড়ি সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের চর নুরনগর গ্রামে।
নাবিক নাজমুল এ গ্রামের কৃষক আবু সামা শেখ ও নার্গিস বেগম দম্পতির ছেলে।
মঙ্গলবার (১২ মার্চ) বিকেলে নাবিক ছেলে আটকের খবরে বার বার কান্নায় মূর্ছা যাচ্ছেন মা নার্গিস বেগম। দুশ্চিন্তায় হৃদরোগ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বাবা আবু সামা। আতঙ্কে রয়েছেন নাজমুলের স্বজনেরা।
মা নার্গিস বেগম বলেন, আমার পাঁচ ছেলে মেয়ের মধ্যে তিনজন মারা গেছে, এখন নাজমুল আর এক মেয়ে আছে। মেয়ে বিয়ে দিয়েছি কয়েক বছর আগে। বয়সের ভারে নাজমুলের বাবা আর আগের মত কাজ করতে পারে না। ২০২২ সালে নাজমুল জাহাজের ডেক ডিপার্টমেন্টের নাবিক হিসেবে যোগদান করেন।
‘নাজমুলের কাধেই পুরো পরিবারের দায়িত্ব। নাজমুলকে আটকের খবরে তার বাবার হার্টের সমস্যা বেড়ে গেছে। মেয়ে তাকে নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসক দেখাতে গেছে। নাজমুলই আমাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। সরকারের কাছে আমাদের দাবি ছেলেকে যেন সরকার আমার বুকে ফিরিয়ে দেয়।’
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টার দিকে ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহতে জিম্মি আছেন ২৩ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু। আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে জাহাজটি জলদস্যুর কবলে পড়ে। এরপর বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাহাজটি ভারত মহাসাগর থেকে সোমালিয়া নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করে দস্যুরা।
সময়ের আলো/আরআই