শয্যাশায়ী বাবা, একমাত্র ছেলের জিম্মির খবরে উৎকণ্ঠায় পুরো পরিবার

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

সারাদেশ

একমাত্র ছেলের জিম্মির খবর পেয়ে বাবা হারুন অর রশিদ হাউ মাউ করে কেঁদেই চলছেন। মা সালেহা বেগম বুক চাপড়িয়ে কাঁদছেন

2024-03-13T20:40:53+00:00
2024-03-13T20:45:18+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
শয্যাশায়ী বাবা, একমাত্র ছেলের জিম্মির খবরে উৎকণ্ঠায় পুরো পরিবার
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মার্চ, ২০২৪, ৮:৪০ পিএম  আপডেট: ১৩.০৩.২০২৪ ৮:৪৫ পিএম
শয্যাশায়ী বাবা, একমাত্র ছেলের জিম্মির খবরে উৎকণ্ঠায় পুরো পরিবার
একমাত্র ছেলের জিম্মির খবর পেয়ে বাবা হারুন অর রশিদ হাউ মাউ করে কেঁদেই চলছেন। মা সালেহা বেগম বুক চাপড়িয়ে কাঁদছেন আর বিলাপ করছেন। একমাত্র বোন মিতু আক্তার ভাইয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করছেন। তার ভাই যেন জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হয়ে তাদের কাছে আবার ফেরত আসে। তাদের কান্না থামাতে গ্রামের অনেক লোকজন বাড়িতে এসে ভিড় করছেন। গ্রামের লোকজন ও আত্মীয়স্বজন বাড়িতে এসে তাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন। জিম্মির খবর পেয়ে স্বজনরা উদ্বিগ্ন রয়েছেন। তাদের একটাই দাবি সরকার যেন দ্রুত সাব্বিরকে মুক্ত করে আনে।  

ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের কবলে এমভি আব্দুল্লাহ নামক পণ্য বহনকারী জাহাজের ২৩ জন নাবিকের মধ্যে রয়েছেন সাব্বির হোসেন। পিতার নাম হারুনুর রশিদ। বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গা ধলাপাড়া গ্রামে। সে নাগরপুরের সহবতপুর উচ্চ বিদ্যালয় ২০১৪ সালে থেকে এসএসসি পাস করে। টাঙ্গাইলের কাগমারি এম এম আলী কলেজ থেকে ২০১৬ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ভর্তি হন চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমীতে। সেখান থেকে কৃতিত্বের সাথে পাস করে ২০২২ সালের জুন মাসে এমভি আব্দুল্লাহ নামক পণ্য বহনকারী একটি জাহাজে মার্চেন্ট কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি নেন। 

সাব্বিরের চাচাতো ভাই আহম্মেদ হোসেন রানা বলেন, সাব্বিররা এক ভাই এক বোন। সে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করেছে। তার বাবা কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন। বোনের বিয়ে হয়েছে। সাব্বিরের বাবা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ জনিত কারণে প্যারালাইজড হয়ে শয্যাশায়ী। সাব্বিরের চাকরি হওয়ার পর তার মা শয্যাশায়ী স্বামীকে নিয়ে সহবপুর তার বাবার বাড়ি বসবাস করেন। সহবতপুরের ডাঙ্গা ধলাপাড়া গ্রামে এখন কেউ আর থাকেন না। একমাত্র উপার্জনক্ষম সাব্বির। তার কিছু হয়ে গেলে তাদের আর চলার উপায় থাকবে না। সরকারের কাছে দাবি জানাই সাব্বিরসহ সবাইকে যেন জিম্মি দশা থেকে দ্রুত মুক্ত করে। 

সাব্বিরের একমাত্র বোন মিতু আক্তার বলেন, আমার ভাই গত সোমবার বিকেলে ফেসবুকে আপলোড দিয়েছে যে বিষুব রেখা অতিক্রম করলাম। মাথা ন্যাড়া করে ছবি আপলোড করেছে। এক মাস আগে সে বাড়ি আসছিল। একদিন থেকেই সে চলে গেছে। গতকাল (মঙ্গলবার) সকাল থেকে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজটি জলদস্যুদের কবলে পড়ার খবর পেয়ে সবাই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। বাবা মা খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তারা শুধু কেঁদেই চলছে আর বলছে আমার ছেলেকে এনে দাও। আমার একমাত্র ভাইয়ের কিছু হলে বাবা-মাকে বাঁচানো যাবেনা। অতি দ্রুত আমার ভাইকে মুক্ত করে আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে স্থানীয়রা ঘটনা শোনার পর থেকেই সাব্বিরের বাবা-মাকে সান্ত্বনা দিতে ছুটে এসেছেন। তারাও সাব্বিরকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি দাবী জানান।

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজা মোহাম্মদ মাসুম প্রধান জানান, পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

সময়ের আলো/আরআই




  বিষয়:   জাহাজ  জলদস্যু  জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ  টাঙ্গাইল 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: