ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে থাকা বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লায় জিম্মি আছেন ২৩ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু। এর মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ এলাকার শামসুদ্দিন শিমুল। তার বাড়িতেও উৎকণ্ঠায় রয়েছে পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তিন বছর আগে জাহাজে চাকরি নেন শামসুদ্দিন। বছরে ছয় মাস সমুদ্রে থাকেন। অবশিষ্ট ছয় মাস বেকার সময় কাটে। সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে জাহাজে ওঠেন শামসুদ্দিন। জুনের দিকে তার ঘরে ফেরার কথা।
এদিকে শামসুদ্দিনের বোন জামাই বদরুল হক বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় আমাকে ফোন দিয়ে শামসুদ্দিন জানায়, তারা দস্যুদের কাছে জিম্মি হয়েছে। আমাদের মোবাইল নিয়ে নিচ্ছে ওরা। কোথায় নিচ্ছে জানি না। আর কথা হবে না দোয়া করবেন আমাদের জন্য।
মোহাম্মদ শামসুদ্দিন ও ফারজানা সুলতানা দম্পতির তিন মেয়ে। দুই মেয়ে স্কুলে পড়ে, ছোট মেয়ের বয়স ১৪ মাস। ফারজানা সুলতানা বলেন, মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে স্বামীর (শামসুদ্দিন) সঙ্গে কথা বলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, জাহাজে জলদস্যু উঠতে চেষ্টা করছে, দোয়া করিও, আমাদের জন্য দুশ্চিন্তা করিও না। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার সময় কথা বলতে বলতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জানি না তারা কেমন আছেন। খুব চিন্তা হচ্ছে তাদের জন্য। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করব ওদের যেন। নিরাপদে সবাইকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
এদিকে, জলদস্যুদের কবলে থাকা বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লায় জিম্মি আছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার উত্তর বন্দরের বাসিন্দা মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। তিনি এই জাহাজের এবি ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা গাজু মিয়া ও শমসা বেগমের ৫ ছেলে সন্তানের মধ্যে সাজ্জাদ হোসেন ৩ নাম্বার। গত ২৭ নভেম্বর তিনি জাহাজে ওঠেন। এর একদিন আগে হয়েছিল সম্পর্কে খালাতো বোন নাসমিন আক্তার নুপুরের সাথে বিয়ের আকদ। এদিকে গতকাল (মঙ্গলবার) সাজ্জাদরা জিম্মি হওয়ার খবর গ্রামে আসার পর পুরো এলাকা নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মার্চ) প্রথম রোজার ইফতারের পর পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে পাঠানো এই ভয়েজ আসার পর কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সাজ্জাদের মা। তিনি বার বার কান্নায় ভেঙে পড়েন।
বুধবার (১৩ মার্চ) দুপুরে উত্তর বন্দর এলাকা গিয়ে দেখা যায় পুরো এলাকা নিস্তব্ধ হলেও সাজ্জাদের মায়ের আহাজারি কান্নায় আকাশ বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। কান্নায় জড়িত পবিত্র রমজানের ওসিলায় ছেলেকে ফিরে পেতে চান সাজ্জাদের মা।
সাজ্জাদের বাবা গাজু মিয়া বলেন, আমরা কেএসআরএম অফিসে গিয়েছি। তারা আমাদের ছেলেদের উদ্ধারে কাজ করতেছে বলছে। এখন যদি আল্লাহ আমার ছেলেকে যদি ফিরিয়ে দেয়।