যুবলীগ নেতা মুরাদ হত্যা: পরিকল্পনা হয় নারিকেল বাগানে, তিন আসামির স্বীকারোক্তি

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি

সারাদেশ

যশোরের অভয়নগরে চাঞ্চল্যকর যুবলীগ নেতা মুরাদ হোসেনকে হত্যার ছক আঁকা হয় নওয়াপাড়া গ্রামের মাঠের ভিতরের একটি নারিকেল বাগানে বসে। এখান

2024-03-16T21:03:24+00:00
2024-03-16T21:03:24+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
যুবলীগ নেতা মুরাদ হত্যা: পরিকল্পনা হয় নারিকেল বাগানে, তিন আসামির স্বীকারোক্তি
অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মার্চ, ২০২৪, ৯:০৩ পিএম 
আসামিরা হলেন- রনি ব্যাপারী (বামে), আল আমিন শেখ (মাঝে) ও সাগর কাজী (ডানে)। ছবি: কোলাজ

আসামিরা হলেন- রনি ব্যাপারী (বামে), আল আমিন শেখ (মাঝে) ও সাগর কাজী (ডানে)। ছবি: কোলাজ

যশোরের অভয়নগরে চাঞ্চল্যকর যুবলীগ নেতা মুরাদ হোসেনকে হত্যার ছক আঁকা হয় নওয়াপাড়া গ্রামের মাঠের ভিতরের একটি নারিকেল বাগানে বসে। এখান থেকে বণ্টন করা হয় হত্যার মিশনে অংশগ্রহণকারীদের দায়িত্ব। হত্যার আগে এই নারিকেল বাগানে বসেই একাধিক বৈঠক হয়। যেখানে প্রতিটি বৈঠকে দিকনির্দেশনা দেন হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থের যোগানদাতা। 

মুরাদ হত্যাকাণ্ডে আটক তিন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে উপরোক্ত তথ্য জানিয়েছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারীরা প্রত্যেকে অগ্রিম হিসেবে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে পেয়েছেন বলে আদালতকে দেয়া জবানবন্দিতে জানিয়েছেন। এবং পরবর্তীতে আরও টাকা পরিশোধের চুক্তি হয় মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থের যোগানদাতার সাথে। তবে পরবর্তীতে কতটাকা পরিশোধের কথা ছিলো তা জানা যায়নি।

শুক্রবার (১৫ মার্চ) আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যার ঘটনায় নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে গ্রেফতারকৃত তিন আসামি জবানবন্দি প্রদান করেছেন। এদিন যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম কিবরিয়ার গ্রেফতারকৃত আল আমিন শেখ ও রনি ব্যাপারি এই জবানবন্দি প্রদান করেন। এর একদিন আগে আসামি সাগর কাজী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার দালালের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন।

১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে তারা জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে যুবলীগ নেতা মুরাদ হোসেনকে হত্যার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী মুরাদের গতিবিধি লক্ষ্য করার জন্য ইনফরমার নিয়োগ দেয়া হয়। ঘটনার দুইদিন আগে নওয়াপাড়া গ্রামের মাঠের ভিতর একটি নারিকেল বাগানে হত্যার বিষয় নিয়ে একটি মিটিং হয়। ওই মিটিং এ হত্যাকাণ্ডের সময় কে কি দায়িত্ব পালন করবে তা বুঝিয়ে দেয়া হয়। দায়িত্ব অনুযায়ী ঘটনার দিন ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে মুরাদ হোসেন বাড়ি ফিরছে এই খবর পেয়ে ওই দলের নেতা ও মূল হত্যার পরিকল্পনাকারী ও অর্থ দাতা একটি ভ্যান চালককে ভ্যান নিয়ে মাঠের ভিতর একটি চায়ের দোকানের সামনে আসতে বলেন। ভ্যান চালক ভ্যান নিয়ে আসলে ওই ভ্যানে মানকি টুপি পরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র যেমন- চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল নিয়ে পাঁচ জন মুরাদের বাড়ির সামনে থেকে ঘটনা স্থল স্বপ্ন ভিলার সামনে উপস্থিত হয়। ইতোমধ্যে যুবলীগ নেতা মুরাদ সেখানে এসে উপস্থিত হয়। ভ্যান থেকে নেমে মুরাদকে এলোপাথাড়ি কুপাতে থাকে। এক সময় মুরাদের মৃত্যু নিশ্চিত করে হত্যা মিশনে অংশ নেয়া হত্যাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনাস্থল থেকে ফিরে হত্যাকারীরা পূর্বের সেই নারিকেল বাগানে অবস্থান নেয় এবং অর্থদাতা ও হত্যার পরিকল্পনাকারী বাড়িতে গিয়ে প্রতিজন সাড়ে তিন হাজার টাকা গ্রহণ করে এবং বাকি আরও টাকা পরে দেয়া হবে বলে আশস্ত হয়। হত্যায় ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র তার কাছে জমা দিয়ে তারা আত্মগোপনে চলে যায়।

জবানবন্দিতে তারা জানান, অর্থ দাতা পরিকল্পনাকারী এবং ইনফরমারসহ হত্যায় সরাসরি মোট ১০-১১ জন অংশগ্রহণ করে। এর আগে যুবলীগ নেতা মুরাদ হত্যার পর পুলিশ হত্যাকারীদের আটক করতে ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে মাঠে নামে। দীর্ঘ একমাস তদন্ত শেষে ভ্যান চালকের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের একটি টিমের অভিযানে বুধবার (১৩ মার্চ) নওয়াপাড়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে নওয়াপাড়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে সাগর কাজী (৩০) নামের একজনকে আটক করা হয়। সাগর কাজী উপজেলার নওয়াপাড়া মডেল কলেজ রোডের মধ্যপাড়া এলাকার মৃত মহসিন কাজীর ছেলে।

আটককৃত সাগরের দেয়া তথ্য মতে, ঘটনার সাথে জড়িত উপজেলার ধোপাদী গ্রামের বাবু শেখের ছেলে আল আমিন শেখ (২৫) ও উপজেলার রানাভাটা সবুজবাগ এলাকার মৃত নূর মোহাম্মদের ছেলে রনি ব্যাপারীকে (৩২) আটক করা হয়।

এ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) বিকালে অভয়নগর থানায় প্রেস ব্রিফিং এ যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-খ) জাহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় জড়িত আসামিদের সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। সময় লেগেছে এক মাস। ঘটনার সময় স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনাস্থল থেকে একটি ভ্যানকে চলে যেতে দেখা যায়। যদিও ভ্যান চালকের মুখটা ছিলো অনেকটাই অস্পষ্ট। এ সূত্র ধরেই পুলিশ ওই ভ্যান চালককে খুঁজতে থাকে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ওই ভ্যান চালককে খুঁজে পায়। ভ্যান চালককে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে মুরাদ হত্যার রহস্যের জট খুলতে শুরু করে।

ভ্যান চালকের দেয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার আরও জানান, মুরাদ হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও ক্ষমতার পালাবদলে একটি পক্ষ মুরাদকে হত্যার পরিকল্পনা করে ও ইনফর্মার নিয়োগ করে। ইনফর্মারের তথ্য পেয়ে হত্যা মিশনে অংশ গ্রহণকারীরা এলাকার এক নিরীহ ভ্যান চালককে স্থানীয় একটি দোকানের সামনে আসতে বলে। দাওয়াত খেতে যাওয়ার কথা বলে ভান চালকে ওই দোকানের সামনে নিয়ে অপেক্ষায় থাকে। কিছুক্ষণ পরে মুখে মাস্ক পরিহিত ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হত্যা মিশনের ৫ সদস্য ওই ভ্যানে চড়ে। এসময় চালক যেতে রাজি না হলে তাকেও হত্যার হুমকি দেয়। পরে বাধ্য হয়ে ভ্যান চালক তাদের নিয়ে ঘটনা স্থানে যায়। তারা ভ্যান থেকে নেমেই বাড়ির সামনে সড়কের উপর মুরাদকে কোপাতে শুরু করে। ভয়ে ভ্যান চালক দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়ে।

উল্লেখ্য, গত ১১ ফেব্রুয়ারি আনুমানিক রাত ১০টার দিকে নিহত মুরাদ নওয়াপাড়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিল। বাড়ির কাছাকাছি স্বপ্ন ভিলার সামনে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী তাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত মুরাদকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। খুলনায় পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বোন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখপূর্বক আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সময়ের আলো/আরআই



  বিষয়:   যুবলীগ নেতা মুরাদ হত্যা  আসামির স্বীকারোক্তি  অভয়নগর  যশোর 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: