সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আবারো ফুটপাত দখলকারী হকারদের পুনর্বাসন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফুটপাত দখল করে থাকা আড়াই হাজার হকারের ঠাঁই হয়েছে লালদীঘির পারে। নগর ভবনের পেছনে লালদিঘীরপাড়ে প্রায় চার একর জায়গায় হকারদের পুনর্বাসনে অস্থায়ী মার্কেট তৈরি করে নগর কর্তৃপক্ষ। সিলেট সিটি করপোরেশনের নাগরিকদের উন্নত সুযোগ সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী এ উদ্যোগ নিয়েছেন। একই জায়গায় ২ বছর আগে তৎকালীন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও হকারদের জন্য অস্থায়ী শেড করে ব্যবসার সুযোগ করে দেন। তবে ক্রেতা না হওয়ায় অস্থায়ী শেডে ব্যবসা না জমায় হকাররা আবারো ফুটপাত দখল করে হাঁটাচলার প্রতিবন্ধকতা করে ব্যবসা শুরু করে।
এদিকে বর্তমান মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর উদ্যোগে নগরীর বন্দরবাজার, জিন্দাবাজারের ফুটপাত হকারমুক্ত হলেও এই জায়গায় রাতারাতি গড়ে উঠেছে অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা ও লেগুনা স্ট্যান্ড। পাশাপাশি খালি ফুটপাত ঘেঁষে ব্যক্তি মালিকানাধীন যানবাহনের অবৈধ পার্কিংও বেড়েছে। ফলে ফুটপাত হকারমুক্ত হলেও যানবাহনের অবৈধ স্ট্যান্ড, যত্রতত্র ব্যক্তি মালিকানাধীন গাড়ি, মোটরসাইকেলের পার্কিংয়ের কারণে যানজট আগের মতোই রয়ে গেছে। সকাল থেকে শুরু করে বেলা বাড়ার সাথে সাথে স্ট্যান্ডগুলোতে বাড়তে থাকে যানবাহনের সংখ্যা। এতে যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের।
রমজানের আগে সিলেট নগরীকে অবৈধ হকারমুক্ত করতে লালদীঘিরপারের মাঠে গড়ে তোলা হয় অস্থায়ী মার্কেট। বাঁশ, তেরপলে তৈরি এ অস্থায়ী মার্কেটে পণ্য ভেদে বিভিন্ন শেড করা হয়। কোথাও সবজির শেড, কোথাও মাছের শেড, আবার কাপড়, জুতার শেডও আলাদা। নগরীর হকারদের তালিকা করে আড়াই হাজার হকারের বসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। হকাররা ফুটপাত ছাড়ার সাথে সাথেই সড়ক দখল করে গড়ে ওঠছে একের পর এক অবৈধ স্ট্যান্ড। প্রতিটি মোড়ে দুই লেনের সড়কের দুই পাশে একাধিক সারিতে সিএনজি অটোরিকশা পার্কিং করে সড়ককে সংকুচিত করে ফেলা হচ্ছে। রাস্তার দুই আগে যেখানে ফুটপাতে হকার বসতো, বর্তমানে ফুটপাত দখলমুক্ত থাকলেও মূল সড়কে অবৈধ স্ট্যান্ড ও যত্রতত্র পার্কিং যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। নগরীর মোড়ে মোড়ে অবৈধ স্ট্যান্ড বেড়ে যাওয়ায় পায়ে হাঁটাও দুষ্কর হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সড়ক পার হওয়ার সময় বিপদে পড়েন সকল শ্রেণি-পেশার মানুষজন। 
অবৈধ স্ট্যান্ডের কারণে নগরীর বিভিন্ন সড়কে যানজট লেগে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। নগরীর কোর্ট পয়েন্ট, কুদরত উল্লাহ পয়েন্ট, শেখঘাট পয়েন্ট, সোবহানীঘাট, মেন্দিভাগ, উপশহর, ধোপাদীঘিরপাড়, নয়াসড়ক, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, হুমায়ুন রশীদ চত্বর, আম্বরখানা, শাহী ঈদগাহ, মেজরটিলা, সুবিদবাজার, মদিনা মার্কেট, রিকাবীবাজার, মজুমদারী, ওসমানী হাসপাতালের সামনে, মদিনা মার্কেট, বাগবাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সড়কগুলোও দখল করে সিএনজি অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়েছে। এমনকি বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায়ও অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে ওঠেছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী জানান, ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি অবৈধ পার্কিং ও স্ট্যান্ড অপসারণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হচ্ছে আমাদের। আমরা এ বিষয় নিয়ে কাজ করছি। ইতোমধ্যেই ট্রাফিক বিভাগের সাথে কথা হয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, মহানগরে গড়ে উঠা অবৈধ স্ট্যান্ডগুলোতে আমরা প্রতিনিয়তই অভিযান চালাচ্ছি। আমরা সড়কে শৃঙ্খলা আনতে কাজ করছি। তবে এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
সময়ের আলো/আরআই