নিজস্ব ডিজাইন ও পছন্দের কাপড়ে তৈরি পোশাক পড়তে পছন্দ করেন অনেকে। তাই ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে দর্জির দোকানে। রমজান মাস শুরু হতেই ক্রেতারা প্রস্তুতি নেয় ঈদ উদযাপনের। তাই ক্রেতারা ভিড় করে পোশাক তৈরির দোকানগুলোতে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ডেলিভারির নির্দিষ্ট তারিখে হস্তান্তর করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।
কেউ ব্যস্ত ক্রেতাদের কাছ থেকে কাপড় বুঝে নিয়ে পোশাকের মাপ ও ডিজাইন জানতে। পাশেই কেউ আবার ব্যস্ত ডিজাইন অনুযায়ী কাপড় কাটায়। রমযান মাসের শুরু হতেই শহরের দর্জির দোকানগুলোতে অলস সময় কাটানোর ফুসরত নেই। এসব দোকানে ব্যস্ততা দেখে বোঝা যায় বাজারে তৈরি পোশাকের দোকান বাড়লেও কমেনি দর্জির কদর।
ক্রেতারাও বলছেন, পছন্দমত কাপড় কিনে মাপসই পোশাক বানাতেই এসব কারিগরের দ্বারস্থ হওয়া। ক্রেতারা জানান, পোশাকের ফিটিংয়ের জন্য এখানে আসা হয়। আমি রেডিমেড পোশাক ক্রয় করলেও আমাকে ফিটিংয়ের জন্য দর্জির কাছে আসা লাগে। যেকোনো ডিজাইন দিলে সেই অনুযায়ী দিতে পারে। এই জন্য আমি সেলাই করা জামা বেশি পড়ি। রেডিমেড পোশাক কম পড়ি।
দর্জিরা বলছেন, শবেবরাতের পর থেকেই শুরু হয়েছে ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের আনাগোনা। দিন গড়াতেই তাদের চাপ আরো বাড়ে। ডিজাইনের ওপর নির্ভর করে ৪শ’ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে থ্রি-পিসের মজুরি।
দর্জিরা জানান, আগামী ২০ রোজা পর্যন্ত আমরা অর্ডার নিবো। যেহেতু চাঁদ রাতের আগে পোশাক দিতে হয়। এই জন্য যা দিতে পারবো সেই অনুযায়ী অর্ডার নিচ্ছি।
শহরের কাপুড়িয়া পট্টি রোডের এক টেইলার্সের মালিক আল-আমিন জানান, ক্রেতারা আগের মত ক্যাটালগ চাচ্ছে না। বরং তারা নিজেরাই ইন্টারনেট থেকে নামিয়ে আমাদেরকে দেখায়, ওই হিসেবে আমরা তৈরি করে দেই।
শহরের আরো কয়েকটি টেইলার্স ঘুরে এর মালিক ও কারিগরদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগের বছর গুলোতে ১৫ রোজার মধ্যে অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিতে হতো। কিন্তু এ বছর মাসের মধ্য সময়ে রোজা শুরু হওয়ায় যারা চাকরিজীবী তারা অনেকেই এখন বেতন পেয়েছেন। তাই অনেকেই ইচ্ছা অনুযায়ী তাদের পছন্দের পোশাকের কাপড় কিনে দিচ্ছেন। দোকানীদের ধারণা ১ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে সবাই বেতন পেয়ে যাবেন। আর বেতন পাওয়া গেলেই থান কাপড় বিক্রির দোকানে ভিড় বাড়বে। দোকান থেকে কাপড় কিনে তারা ছুটবেন দর্জির কাছে। ওই সময় থেকে দোকানে দম ফেলানোরও সময় থাকবে না।
কারিগররা জানান, গত শনিবার থেকেই সারারাত জেগে পোশাক তৈরি করতে হচ্ছে। মালিকেরাও বেশি শ্রমিক খাটানো শুরু করেননি। অর্ডার বুঝে দর্জির দোকানগুলোতে কারিগর রেখে কাজ করানো হয়।
এদিকে ছেলেদের পোশাক তৈরির দোকানগুলোতে মেয়েদের মত ততোটা ভিড় না থাকলেও শার্ট, প্যান্ট ও পাঞ্জাবি তৈরির সংখ্যা অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেড়েছে। গরমের কারণে এবার ব্লেজার, স্যুটের চাহিদা কম।
শহরের কুমারপট্টির ফ্যাশন টেইলার্সের মালিক হারুন অর রশিদ জানান, অর্ডার যা পাচ্ছি তা গত বছরের তুলনায় মন্দ নয়।
তিনি আরো জানান, এবছর ভারতীয় রেমন, গিজা ও অরবিন্দু কাপড়ের শার্ট এবং প্যান্টের কাপড়ের চাহিদা বেশি। ডিজাইন অনুযায়ী একটি শার্ট ৪২০ থেকে ৫০০ টাকা এবং প্যান্ট-এর মজুরি ৬০০ টাকা রাখা হয় বলেও জানান তিনি।
কয়েকটি টেইলার্সের কর্মচারীদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, আগের বছরের তুলনায় এ বছরে অনেক কাস্টমর। তবে, এই বছর শার্ট প্যান্টের চাহিদা বেশি। দোকান থেকে কাপড় কাটার পর তা সেলাইয়ের জন্য চলে যায় কারখানায়। চাঁদরাত পর্যন্ত দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করবেন এসব সেলাই শ্রমিকরা। এছাড়া শহরের পাড়া মহল্লার দর্জি দোকানগুলোতে ভিড় বেড়েছে বলে জানা গেছে। অনেক মহিলা বাসায় বসেই মেয়েদের থ্রি-পিছ বানানোর কাজ করে থাকেন। তাদের কাছে শহরের বড় বড় দর্জির দোকান গুলোর থেকে অনেকটা কম মূল্যে পোশাক তৈরি করা যায় বলে মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকে তাদের কাছে ভিড় করেন।
শহরের দুর্গা প্রাসাদ রোডে মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত টেইলার্সে গিয়ে দেখা গেছে মেয়েদের ভিড়। নাম প্রকাশে না করার শর্তে টেইলার্সের মহিলা মালিক (যিনি একাধারে মাস্টার ও কারিগরের কাজ করে থাকেন) জানান, প্রথম রোজার পর থেকেই তার দোকানে ঈদের পোশাক তৈরির অর্ডার নেয়া শুরু হয়েছে। যা চলবে ২০ রোজার পর পর্যন্ত।
কারিগররা জানান, অনেক নিকটাত্মীয়রা আসে ঈদের কয়েক দিন পূর্বে। তাদের জন্য রাখা হয় আলাদা অর্ডার। আত্মীয়তার সুবাদে তাদের কষ্ট হলেও তাদের পোশাক তৈরি করে দিতে হচ্ছে।
সময়ের আলো/আরআই