গত ১০ দিনে দিনাজপুরের চালের বাজারে দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষগুলো। দীর্ঘদিন চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও গত ১০ দিনের ধাপে ধাপে বেড়েছে দাম। দাম বৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ীরা দুষছেন মিলারদের আর মিলাররা বলছেন বাজারে ধান না পাওয়া বাজারে চালের দাম বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং চলছে।
সোমবার (২৫ মার্চ) সকালে সরেজমিনে জেলা শহরের সবচেয়ে বড় চালের বাজার বাহাদুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গত ১০ দিনের ব্যবধানে মোটা ও মাঝারি ধরনের চালে দাম বেড়েছে কেজিতে প্রকারভেদে ৩ থেকে ৫ টাকা করে। বর্তমান এ জেলার খুচরা বাজারে মিনিকেট চাল ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৩৩০০ টাকা, ১০ দিন আগে ছিল ২৯০০ টাকা। আটাইশ চাল প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২৯০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৭০০ টাকা। মোটা গুটি স্বর্ণা চাল ছিল ২২০০ টাকা থেকে ২২৫০ টাকা, আর এখন বিক্রি হচ্ছে ২৩৫০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও সুমনা স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ২৬০০ টাকা বস্তা আর ১০ দিন আগে দাম ছিল ২৩৫০ টাকা। তবে পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির বস্তায় দাম বেড়েছে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। চালের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ গুলো। প্রতিদিনের কামাই ও খরচের ব্যবধানের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিলাররা নানান অযুহাতে পাইকারি পর্যায়ে চালের দাম বৃদ্ধি করছে। এতে ক্রেতা সংকটে পড়ছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
এন এ মার্কেট (বাহাদুর বাজার) এর পাইকারি ও খুচরা চাল বিক্রেতা খাদ্য ভাণ্ডারের সত্ত্বাধিকারী মো. আলাল উদ্দিন ব্যাপারী সময়ের আলোকে বলেন, কৃষকের কাছে ধান নেই যে তারা বাজারে বিক্রি করবে। সব ধান তো মিলাররা কিনে গোডাউন জাত করে রেখেছে। বিশেষ করে যারা কর্পোরেট ব্যবসায়ী তারাই টাকা খাটিয়ে ধান কিনে স্টক রাখছে। এতে বেড়ে যাচ্ছে ধানের দাম, সেই সাথে বাড়ছে চালের দামও।
একই সুরে আরেক চাল ব্যবসায়ী সনজিৎ কুন্ডু সময়ের আলোকে জানান, মিলাররা সিন্ডিকেট করেই ধানের দাম বাড়িয়ে চালের দামও আকাশ ছোঁয়া হাঁকাচ্ছে। এতে বিপাকে পড়ছি আমরা ছোট মাঝারি পর্যায়ের চাল ব্যবসায়ীরা।
তিনি বলেন, দিনাজপুরের চাল সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী জহুরা অটো রাইস মিলের মালিক মো. হান্নান। তার জহুরা অটোরাইস মিলের মিনিকেট চাল দিনাজপুরের এক নম্বর চাল। এর সুবাধে তিনি ৫০ কেজির বস্তায় মিনিকেট চাল দাম বাড়ান ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। যেখানে অন্যান্য অটো রাইস মিলের একই কোয়ালিটি সম্পন্ন চাল তখন দাম বাড়াতে বাধ্য হয় বলে জানান এই চাল ব্যবসায়ী। তবে জহুরা অটো রাইস মিলের মতো এত বেশি বাড়ে না অন্যান্য অটো রাইস মিলের চালের দাম।
জেলা চাউল কল মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. মোছাদ্দেক হুসেন সময়ের আলোকে জানান, ধান না পাওয়া ও দাম বেশি হওয়ায় বাজারে চালের দাম বেশি বলে জানান এই মিল মালিক নেতা। তবে চালের দাম বাড়ানো নিয়ে মিল মালিকদের কোন সিন্ডিকেট নেই বলে জানালেন তিনি।
এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার মনিটরিং চলছে, অবৈধ মজুদ বন্ধে ও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে সহায়তার আহবান জানান ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মমতাজ বেগম রুনী। যদিও চালের দাম বৃদ্ধিতে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের কোন রকম অভিযান পরিচালিত হতে দেখা যায়নি গত ১০ দিনে।
সময়ের আলো/আরআই