বিদেশি মুদ্রা তথা ডলার অবৈধ ক্রয় বিক্রয় ও অর্থ পাচারের অভিযোগে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থিত চারটি ব্যাংক ও দুটি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের ২১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (২৭ মার্চ) কমিশনের উপ পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে সংস্থার ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন। দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন- রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের সিনিয়র প্রন্সিপাল অফিসার ও বুথ ইনচার্জ আনোয়ার পারভেজ, প্রিন্সিপাল অফিসার শামীম আহমেদ, মো. আশিকুজ্জামান, সিনিয়র অফিসার মো. সুরুজ জামাল, অমিত চন্দ্র দে, মো. মানিক মিয়া, সাদিক ইকবাল, মো. সুজন আলী ও মো. হুমায়ুন কবির।
সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মো. শরীফুল ইসলাম ভূইয়া (ক্যাশ), মো. কামরুল ইসলাম (ক্যাশ), একই ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মো. সোহরাব উদ্দিন খান, খান আশিকুর রহমান, এবিএম সাজ্জাদ হায়দার (ক্যাশ), সামিউল ইসলাম খান, অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মো. আব্দুর রাজ্জাককে আসামি করা হয়।
এ ছাড়া বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের অফিসার মো. আবু তারেক প্রধান, ব্যাংকটির সাপোর্টিং স্টাফ মো. মোশাররফ হোসেন, এভিয়া মানি এক্সচেঞ্জারের কাস্টমাস সার্ভিস ম্যানেজার মো. আসাদুল হোসেন ও ইম্পেরিয়াল মানি এক্সচেঞ্জের পরিচালক কে এম কবির আহমেদকে আসামি করা হয়।
দুদক সচিব বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় বিদেশি মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় ও মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা অবৈধভাবে বিদেশ থেকৈ আসা প্রবাসীদের থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচারকারী দুর্নীতিবাজদের মুদ্রা সরবরাহ করেন।
মামলার এজাহালে বলা হয়, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীরা প্রতিদিন যে শত কোটি টাকার বেশি মূল্যের ডলার ও বৈদেশিক মুদ্রা আনেন, তা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করছে চক্রটি। পরে জাল ভাউচারে যাত্রীদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে তা খোলাবাজারে ছাড়া হচ্ছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যাংক ও নিবন্ধিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হয়েও তারা বেআইনিভাবে বিদেশি মুদ্রা কিনে ব্যক্তিগত লাভের জন্য খোলাবাজারে বিক্রি করছেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ধারা এবং ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৭ এর ১৩(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি শাহজালাল বিমানবন্দরের অভিযান চালায় দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট। সেখানে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে ভয়াবহ কারসাজির তথ্য পায় অভিযানকারী দল। কারসাজির হোতাদের চিহ্নিত করতে সংস্থার উপপরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়।
জানা যায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা সাতটি ব্যাংকের শাখায় কর্মরতদের তথ্য চেয়ে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) কাছে চিঠি দেয় দুদক। একইভাবে দুই মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের বিষয়েও তথ্য চাওয়া হয়। অপরাধীদের শনাক্ত করতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছেও সংশ্লিষ্ট ফুটেজ চাওয়া হয়।
সময়ের আলো/জিকে