ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের কবলে পড়া জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর নাবিকদের খাবার নিয়ে শঙ্কা কেটেছে। জলদস্যুরা জাহাজে বেশ কয়েক দিন ধরে নিয়মিত দুম্বা ও ছাগল আনছে। জলদস্যুরাই খাচ্ছে সেই দুম্বা-ছাগলের মাংস। আর নাবিকরা খাচ্ছেন জাহাজে রক্ষিত তাদের নিজেদের খাবার। তবে তারা রেশনিং করে খাচ্ছেন খাবার। উপকূল থেকে দুম্বা-ছাগল নিয়ে আসার পর জলদস্যুরা জাহাজের খাবারে ভাগ বসানো বন্ধ করেছে। এতে মজুদ খাবার আরও বেশ কিছুদিন খেতে পারবেন বলে মনে করছেন নাবিকরা। তবে বিশুদ্ধ পানির সংকট নিয়ে উৎকণ্ঠা কাটেনি।
বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা জানান, পানি রেশনিং করে ব্যবহার হচ্ছে। জলদস্যুদের সঙ্গে সমঝোতা হওয়ার আগ পর্যন্ত পানি সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। কারণ পানি রেশনিং করে সরবরাহ করা হচ্ছে।
অপহৃত জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর জিম্মি ক্যাপ্টেন আতিক ইউএ খান শুক্রবার রাতে সময়ের আলোকে বলেন, সাত-আটদিন ধরে জাহাজে দুম্বা-ছাগল আনছে জলদস্যুরা। এসব খাবার কিন্তু জলদস্যুরা খাচ্ছে। আর নাবিকরা তাদের মজুদ খাবার খাচ্ছে। আমার জানা মতে, দুম্বা-ছাগল এখনও নাবিকদের খেতে হচ্ছে না। তাদের মজুদ খাবার ফুরিয়ে গেলে হয়তো জলদস্যুদের দুম্বা-ছাগল খাবে। এখনও নাবিকদের দুম্বা-ছাগল খাওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি।
তিনি বলেন, জাহাজটি জলদস্যুরা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর নাবিকদের সঙ্গে তারাও খাবার খেত। ২৩ জন নাবিকের সঙ্গে ৪০ থেকে ৪৫ জন জলদস্যু খাবার খেত। এতে সংকটে পড়ে খাদ্য মজুদ। এর অল্প কিছুদিন পর দুম্বা-ছাগল আনা শুরু হয় জাহাজে। তখন থেকে নাবিকদের খাবারে ভাগ বসানো বন্ধ হয়েছে। আবার পানির মতো খাবারও রেশনিং করে খাচ্ছেন নাবিকরা। তাই খাবার নিয়ে সংকট আপাতত হবে না বলে মনে হয়। এর মধ্যে সমঝোতা হলে খাবার-পানি নিয়ে কোনো শঙ্কা থাকবে না।
এ ব্যাপারে জাহাজটির মালিক কেএসআরএমের মিডিয়া অ্যাডভাইজর মিজানুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, এর আগে অপহরণ করা এমভি জাহান মণি জাহাজে জলদস্যুরা দুম্বা-খাবার নিয়ে এসেছিল। এমভি আবদুল্লাহ জাহাজেও তাই করছে। বিষয়টি আমরা আগে থেকেই জানতাম। আমাদের এখন খাবার ও পানি নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। যদি খাবার-পানির সংকট হয়েও থাকে বিকল্প উপায়ে কীভাবে সরবরাহ করা যায় সেই প্রস্তুতিও আমাদের নেওয়া আছে।
এদিকে মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, ইইউর যুদ্ধ জাহাজের তৎপরতা শুরুর পর জলদস্যুরা বেশ উত্তেজিত ছিল। নাবিকদের কেবিনে থাকার সুবিধা বাতিল করে ব্রিজে থাকতে বাধ্য করে। কিন্তু গত চার-পাঁচদিন ধরে যুদ্ধ জাহাজের কোনো তৎপরতা না থাকায় জলদস্যুরা নাবিকদের আবার কেবিনে থাকার সুযোগ দিচ্ছে। নাবিকরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সময় কেবিন সুবিধা ফিরে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। জাহাজের অভ্যন্তরে পরিস্থিতি এখন আগের মতোই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে বলে পরিবার এবং জাহাজ মালিকের কাছে ফোনে জানিয়েছেন নাবিকরা।
মুক্তিপণের অর্থ নিয়ে কোনো ধরনের সমঝোতা হয়েছে কি না এ প্রশ্নে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আলোচনা চলছে। নাবিকদের সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আছে। কোনো ধরনের সমঝোতা হলে অবশ্যই তা জানানো হবে। আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব নাবিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে।
গত ১২ মার্চ বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টায় ভারত মহাসাগরে ২৩ জন বাংলাদেশি নাবিকসহ এমভি আবদুল্লাহর নিয়ন্ত্রণ নেয় সোমালিয়ার জলদস্যুরা। প্রায় ৫০ জনের বিশাল জলদস্যু দল জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর থেকে উদ্বেগ বেড়ে যায়। জলদস্যুরা দফায় দফায় স্থান পরিবর্তন করে সোমালিয়ার পান্টল্যান্ড উপকূলের কাছে জাহাজটি নিয়ে যায়। বর্তমানে সেখানেই নোঙর করে আছে জাহাজটি। উপকূলের সঙ্গে জাহাজটির দূরত্ব দেড় কিলোমিটারের কাছাকাছি। এতে জলদস্যুদের উপকূলে যোগাযোগ রাখতে সুবিধা হচ্ছে।
সময়ের আলো/আরএস/