মাসুদ নামে এক ব্যারিস্টারর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ভুক্তভোগী তরুণীর। ওই তরুণীর বাবা ও মায়ের বিচ্ছেদ হওয়ার পর ঢাকার বোনের বাসায় থাকতেন। সেখান থেকে গত ৫বছর আগে মাসুদের সঙ্গে তার পরিচয়। এরপর প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় তারা। ওই তরুণীকে নিয়ে রাজধানীর উত্তরা, কাঁটাশুর, ঢাকা উদ্যান ও নবীনগর এলাকার বিভিন্ন বাসায় থাকতে শুরু করে। বাসা ভাড়া থেকে শুরু করে সব খরচ বহন করতো ব্যারিস্টার। এ ছাড়া ওই তরুণীকে দেখভাল করার জন্য বেতন দিয়ে স্বামী পরিত্যক্তা সালমা ওরফে ঝুমুরকে রাখেন। পুলিশ বলছে, ব্যারিস্টারকে গ্রেফতার করা গেলে ঘটনার সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। তাকে খোঁজ করা হচ্ছে। তবে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে দেশে নেই।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ব্যারিস্টার মাসুদ দৈত্বনাগরিক। তিনি দেশে আসলে তাকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরাফেরা করতেন। সর্বশেষে তারা বছিলা ঢাকা উদ্যান এলাকায় নদীর পাড়ে বসতেন। সেখানে গান বাজনা করতেন ধর্ষণ মামলার তিন আসামি সান, রকি ও হিমেল। সেখান থেকে তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে উঠে। এরপর একদিন ওই তরুণী আসামিদের বাসায় দাওয়াত দেন খেচুরি ও গোস্ত খাওয়ার জন্য। এভাবে চলাফেরার একপর্যায়ে সানের সঙ্গে ভুক্তভোগী তরুণীর প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে ওই বাসায় তিন তরুণের যাওয়া আসা বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে তারা শারীরিক সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়ে। ভিডিও করে মাসুদকে পাঠালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পনা করে নির্যাতন করার।
এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতারের পর পুলিশ বলছে, ভুক্তভোগীর সঙ্গে অন্য কারোর সম্পর্কের বিষয়ে প্রতিশোধ নিতে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে সান ও তার বন্ধুদের দিয়ে শিকলে বাঁধে। এরপর পৈশাচিক কায়দায় শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালানো হয়। এতে সহযোগিতা করেন তার নিয়োগ করা সালমা। তিনি নির্যাতন ও বিকৃত যৌনাচারের ভিডিও ধারণা করে বিদেশে অবস্থানরত মাসুদের কাছে পাঠাতেন। তরুণীর বন্দী অবস্থায় ধর্ষণ, নির্যাতন ও ভিডিও ধারণের ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ভুক্তভোগী তরুণীর বর্তমান প্রেমিক সান ও তার দুই বন্ধু হিমেল, রকি এবং কাজের লোক সালমা ওরফে ঝুমুর।
রোববার (৩১ মার্চ) রাতে অভিযান চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে সোমবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর শ্যামলীতে নিজ কার্যালয়ে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন।
ডিসি বলেন, তরুণীর বাবা-মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ এবং পরে তারা অন্যত্র বিয়ে করায় ওই তরুণী তার বড় বোনের বাসায় থাকতেন। সেখান থেকে ভগ্নিপতির মাধ্যমে ব্যারিস্টার মাসুদের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে লিভ-টুগেদার করত। নবীনগর এলাকার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে তরুণীকে রাখেন। যার সব খরচ বহন করতেন মাসুদ। পরে মাসুদ ভুক্তভোগী তরুণীকে শায়েস্তা করতে তার বর্তমান প্রেমিক সানকে হাত করে। সালমাকে দিয়ে তাদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে মাসুদের নির্দেশনায় কাজ করায়। তরুণীর রুমে বসানো হয় গোপনীয় সিসি ক্যামেরা। বিভিন্ন সময় সান ও তার বন্ধু হিমেল ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের দৃশ্য গোপনে ধারণ করে পাঠানো হতো তার কাছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা এভাবে ভিডিও পাঠানো হতো মাসুদকে।
ডিসি তেজগাঁও আরও বলেন, গোপনে ভিডিও করার বিষয়টি ভুক্তভোগী তরুণী জেনে যাওয়ায় তার ওপর নেমে আসে নির্যাতন। শুরু হয় শেকলে বেঁধে নির্যাতন। হাত-পা ও মুখ বেঁধে পৈশাচিক নির্যাতন চালাতেন সান ও তার বন্ধুরা। যার প্রতিটি মুহূর্ত ভিডিও ধারণ করে পাঠানো হতো মাসুদের কাছে।
আজিমুল হক বলেন, ভুক্তভোগী তরুণীকে নির্যাতনের বেশিরভাগ ভিডিও ও ছবি সালমার মোবাইলে। কিন্তু সে মোবাইলটি লুকিয়ে ফেলেছে। ওই মোবাইল উদ্ধার করা গেলে পৈশাচিক নির্যাতনের আসল তথ্য ও ভিডিওর গন্তব্য সম্পর্কে জানা যাবে। এদিকে আদালতে তুলে চারজনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। পরে আদালত তাদের তিনদিন করে রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
সময়ের আলো/জেডআই